পর্যটনপ্রেমী ও দর্শনার্থীদের উপচে পড়া ভিড় জমেছে ঢাকা ট্রাভেল মার্টের ২১তম আসরে। বিভিন্ন বয়সী দর্শনার্থীদের উপস্থিতিতে মেলা প্রাঙ্গণ হয়ে উঠেছে মুখর ও প্রাণবন্ত। দর্শনার্থীদের চাপে মেলায় হাঁটাচলা করাও দুষ্কর হয়ে পড়েছে। তিন দিনব্যাপী এই আন্তর্জাতিক পর্যটন মেলার আজ শুক্রবার চলছে দ্বিতীয় দিন।
বিজ্ঞাপন
রাজধানীর প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলের বলরুমে চলছে এই আন্তর্জাতিক পর্যটন মেলা। ২১তম এই আয়োজনটি করেছে শীর্ষস্থানীয় ভ্রমণ ও পর্যটন বিষয়ক প্রকাশনা ‘দি বাংলাদেশ মনিটর’। মেলার টাইটেল স্পন্সর হিসেবে রয়েছে বেসরকারি বিমান সংস্থা এয়ার অ্যাস্ট্রা।
শুক্রবার (১০ এপ্রিল) বিকেলে মেলা প্রাঙ্গণ ঘুরে দেখা গেছে, মেলায় প্রবেশের জন্য কাউন্টারের সামনে পর্যটনপ্রেমীদের দীর্ঘ সারি। তারা লাইনে দাঁড়িয়ে টিকিট সংগ্রহ করে মেলায় প্রবেশ করছেন। করিডোরের দুই পাশে থাকা বিভিন্ন স্টলে পর্যটনপ্রেমীরা ভিড় করছেন এবং নানা অফার সম্পর্কে খোঁজ নিচ্ছেন।
বিজ্ঞাপন
বলরুমের ভেতরে গিয়ে দেখা যায়, পুরো কক্ষজুড়ে সাজানো হয়েছে আকর্ষণীয় সব স্টল ও প্যাভিলিয়ন। পর্যটনপ্রেমীদের কোলাহলে মুখর পুরো এলাকা। তারা বিভিন্ন স্টল ঘুরে অফারগুলো দেখছেন এবং পছন্দ অনুযায়ী বুকিংও দিচ্ছেন। সব মিলিয়ে মেলা প্রাঙ্গণ এখন পুরোদমে জমজমাট।

মেলায় আসা শফিকুর রহমান ঢাকা পোস্টকে বলেন, কক্সবাজারের ওশান প্যারাডাইজ হোটেলে দুই রাতের জন্য রুম বুক করেছি। রুম ভাড়ায় ৫৫ শতাংশ ছাড় পেয়েছি, যা অনেক বড় সুযোগ। মেলা ঘুরে আরও অফার দেখছি। এমন মেলা বছরে আরও হওয়া উচিত, যাতে পর্যটনপ্রেমীরা কম খরচে দেশ-বিদেশে ঘুরে বেড়াতে পারেন।
মেলা ঘুরে দেখা যায়, বিভিন্ন হোটেল তাদের কক্ষ ভাড়ায় ১৫ থেকে ৫৫ শতাংশ পর্যন্ত ছাড় দিচ্ছে। ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্স ও এয়ার অ্যাস্ট্রাসহ বিভিন্ন বিমান সংস্থা তাদের নির্ধারিত রুটে ১৫ শতাংশ পর্যন্ত ছাড় দিচ্ছে। মেলা উপলক্ষ্যে হোটেল ও রিসোর্টগুলো নানা আকর্ষণীয় প্যাকেজ ঘোষণা করেছে।
বিজ্ঞাপন
মেলার পার্টনার হিসেবে রয়েছে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্স, মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক পিএলসি, শীর্ষস্থানীয় জিডিএস প্রতিষ্ঠান স্যাবর এবং অনলাইন ট্রাভেল এজেন্সি বাই-টিকিটস।

গতকাল ৯ এপ্রিল রাতে একই ভেন্যুতে সংসদ সদস্য এম নাসের রহমান আনুষ্ঠানিকভাবে মেলার উদ্বোধন করেন। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি গত ২১ বছর ধরে এই মেলার আয়োজন করে বেসামরিক বিমান চলাচল ও পর্যটন খাতের উন্নয়নে ভূমিকা রাখায় আয়োজক সংস্থাকে ধন্যবাদ জানান।
আয়োজক সূত্রে জানা গেছে, এবারের আসরে বাংলাদেশসহ নেপাল, থাইল্যান্ড, মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর, সৌদি আরব, তুরস্ক, ভিয়েতনাম ও চীনের ৫০টিরও বেশি প্রতিষ্ঠান অংশগ্রহণ করছে। ১০টি প্যাভিলিয়ন ও ৮০টির বেশি স্টলে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান তাদের পণ্য ও সেবা প্রদর্শন করছে। অংশগ্রহণকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে রয়েছে জাতীয় পর্যটন সংস্থা, বিমান সংস্থা, ট্রাভেল এজেন্সি, হোটেল-রিসোর্ট, ট্যুর অপারেটর, আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও চিকিৎসা সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান।

মেলার দ্বিতীয় দিনে দেশি-বিদেশি বিমান টিকিট, ভ্রমণ প্যাকেজ, হোটেল-রিসোর্ট বুকিং এবং চিকিৎসা ভ্রমণে আকর্ষণীয় মূল্যছাড়ের কারণে দর্শনার্থীদের ব্যাপক আগ্রহ লক্ষ্য করা গেছে। অনেকেই পরিবার নিয়ে মেলায় এসে তাৎক্ষণিকভাবে ভ্রমণ প্যাকেজ ও টিকিট বুকিং করছেন।
মেলায় দর্শনার্থীদের প্রবেশমূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ৫০ টাকা। প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত মেলাটি সবার জন্য উন্মুক্ত থাকবে, যা চলবে ১১ এপ্রিল পর্যন্ত। এছাড়া প্রবেশ টিকিটের ওপর র্যাফেল ড্রর মাধ্যমে দর্শনার্থীদের জন্য রয়েছে দেশি-বিদেশি গন্তব্যের বিমান টিকিট, হোটেল ও রিসোর্টে বিনামূল্যে আবাসন এবং তারকা হোটেলের লাঞ্চ ও ডিনার কুপনসহ আকর্ষণীয় পুরস্কার।
এমএইচএন/এমএসএ
