জকসু নির্বাচনে আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ জবি ইউটিএলের

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ (জকসু) ও হল সংসদ নির্বাচনে পোলিং এজেন্টদের বিরুদ্ধে আচরণবিধি লঙ্ঘন ও ভোটারদের প্রভাবিত করার অভিযোগ উঠেছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের সংগঠন ইউনিভার্সিটি টিচার্স লিংকের (ইউটিএল) অভিযোগ, ছাত্রদল সমর্থিত ‘ঐক্যবদ্ধ নির্ভীক জবিয়ান’ প্যানেলের এজেন্টরা ভোটকেন্দ্রের ভেতরে শিক্ষার্থীদের আইডি কার্ডের তালিকা ও প্যানেল পরিচিতি সংবলিত কাগজ ব্যবহার করছেন।
মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) দুপুরে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ করেন ইউটিএলের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য সচিব অধ্যাপক ড. বেলাল হোসাইন।
অধ্যাপক ড. বেলাল হোসাইন বলেন, ‘একটি কেন্দ্রে প্রথমে লক্ষ্য করি একজন পোলিং এজেন্টের হাতে একটি বড় বই। বইটি উল্টাতে গিয়ে দেখি, এর ভেতরে এমন কিছু পৃষ্ঠা রয়েছে যেখানে বিশ্ববিদ্যালয়ের আইডি কার্ডের তালিকার উল্টো পাশে একটি নির্দিষ্ট প্যানেলের নাম ও পরিচিতি সংযুক্ত করা হয়েছে। বিষয়টি দেখার পরপরই আমরা রিটার্নিং কর্মকর্তাসহ সংশ্লিষ্টদের অবহিত করি। তারা জানান, এসব কাগজপত্র জব্দ করা হয়েছে।’
ইউটিএল সদস্যরা কয়েকটি কেন্দ্র পরিদর্শন করে এ ধরনের তালিকা সংগ্রহ করেছেন জানিয়ে তিনি প্রশ্ন তোলেন, ‘এই আইডি কার্ডের তালিকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন বা নির্বাচন কমিশন থেকে কীভাবে সংশ্লিষ্ট প্রার্থীদের হাতে গেল? এবং সেই তালিকা কীভাবে নির্বাচন কমিশনের নজর এড়িয়ে ভোটকেন্দ্রে প্রবেশ করল?’
সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষকরা জানান, দীর্ঘ আন্দোলনের পর অর্জিত এই নির্বাচনে ভোটকেন্দ্রের ভেতরে ব্যালট নম্বর সংবলিত কাগজ পাওয়া কোনোভাবেই কাম্য নয়। এ বিষয়ে ইউটিএল নেতারা তাৎক্ষণিকভাবে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন এবং অবিলম্বে সকল কেন্দ্র থেকে এসব সামগ্রী জব্দের দাবি জানিয়েছেন। একই সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান তারা।
সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে অধ্যাপক বেলাল হোসাইন বলেন, ‘আমরা এখনই কোনো চূড়ান্ত মন্তব্য করছি না। নির্বাচন শেষ হওয়ার পর বিকেল সাড়ে তিনটায় আমাদের পর্যবেক্ষণ ও মতামত আনুষ্ঠানিকভাবে তুলে ধরব। তবে ভোটকেন্দ্রে কোনো নির্দিষ্ট প্যানেলের পরিচিতিসহ বসে থাকা যে ভোটারদের প্রভাবিত করতে পারে এ বিষয়টি সবাই অবগত।’
তিনি আরও যোগ করেন, নির্দিষ্ট কোনো কেন্দ্রের নাম তিনি প্রকাশ করতে চান না, তবে উপস্থিত সাংবাদিকদের সামনে অভিযুক্ত প্যানেলের নাম দেখানো হয়েছে। এটি নির্বাচন প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও তথ্যের নিরাপত্তা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তৈরি করেছে বলে শিক্ষকরা মনে করছেন।
এসএআর/বিআরইউ