চবিতে সর্বশেষ সিন্ডিকেট সভায় দেড়শো নিয়োগের অভিযোগ মিথ্যা : দুদক

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) ৫৬৫তম সিন্ডিকেট সভায় ১৫৩ জন নিয়োগের অভিযোগটি মিথ্যা বলে জানিয়েছেন দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) সমন্বিত জেলা কার্যালয় চট্টগ্রাম-১ এর সহকারী পরিচালক সায়েদ আলম। বুধবার (১৪ জানুয়ারী) বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনে নিয়োগ সংক্রান্ত তথ্য-উপাত্ত ঘেঁটে সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ তথ্য জানান।
সায়েদ আলম বলেন, বর্তমান প্রশাসন দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে প্রায় ১৫ মাসে বিভিন্ন সিন্ডিকেট সভায় অবৈধভাবে ২৫০ শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারী নিয়োগ দিয়েছে— এমন অভিযোগের প্রেক্ষিতে আজ ৩ সদস্যের একটি টিম আমরা অভিযান পরিচালনা করি। তবে আমরা এখন পর্যন্ত রেকর্ডপত্র পর্যালোচনা করে প্রয়োজনের অতিরিক্ত নিয়োগ পায়নি।
শীর্ষ একটি দৈনিকে প্রকাশিত সংবাদে বিশ্ববিদ্যালয়ের ৫৬৫তম সিন্ডিকেট সভায় ৪৪ জন শিক্ষক মিলিয়ে ১৫৩ জন নিয়োগ দেওয়ার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এই অভিযোগটি মিথ্যা। এখানে ১৮ জন শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। সবমিলিয়ে ১১৩ শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারী নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে অনেক পূর্বের অস্থায়ী নিয়োগ স্থায়ী করা হয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (একাডেমিক) অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ শামীম উদ্দিন খানের মেয়ের নিয়োগ প্রসঙ্গে সায়েদ আলম বলেন, নিয়োগের ক্ষেত্রে আবেদনের ন্যূনতম শর্ত পূরণ করে যে কেউ আবেদন করতে পারেন। এখানে ১২তম, ১৩তম, ১৮তম সিরিয়াল হতেই পারে। আমরা রেকর্ডপত্র পর্যালোচনা করে দেখবো। আমরা এখনো তার ভাইভা ও প্রেজেন্টেশনের রেজাল্ট হাতে পাইনি। এই রেজাল্ট উপাচার্য স্যারের কাছে রয়েছে। তিনি আজ কার্যালয়ে অনুপস্থিত ছিলেন। আগামীকাল এই রেজাল্ট আমরা হাতে পাব। তারপর পর্যালোচনা শেষে এ বিষয়ে জানাতে পারবো।
অভিযানের পরিপূর্ণ প্রতিবেদন কবে পাওয়া যাবে—এক সাংবাদিকের এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, আমরা গত ১৫ মাসে নিয়োগের তথ্য-উপাত্ত আজ সাথে করে নিয়ে যাচ্ছি। আমরা আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে এসব তথ্য-উপাত্ত পর্যালোচনা শেষে পরিপূর্ণ প্রতিবেদন দুদক সচিবের নিকট জমা দেব। আপনারা তথ্য অধিকার আইনে আবেদন করে এই প্রতিবেদন সম্পর্কে জানতে পারবেন।
আজকের অভিযানের টিম লিডার ছিলেন চট্টগ্রাম দুদক-১-এর সহকারী পরিচালক সায়েদ আলম। চট্টগ্রাম দুদক-১-এর উপ সহকারী পরিচালক হামিদ রেজা ও সবুজ হোসেন এই টিমের সদস্য হিসেবে ছিলেন।
আতিকুর রহমান/আরএআর