জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাবি) শিক্ষামূলক সংগঠন পাঠশালার আয়োজনে ‘আধুনিক যুগে ইসলামিক জীবনধারা’ বিষয়ক এক সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে। যেখানে বক্তব্য রেখেছেন বিশিষ্ট ইসলামী আলোচক ড. মিজানুর রহমান আজহারী।
বুধবার (১৪ জানুয়ারি) রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের জহির রায়হান মিলনায়তনে শিক্ষাভিত্তিক সংগঠন ‘পাঠশালা’ আয়োজিত ওই বিশেষ সেমিনারে তিনি প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন।
সেমিনারে ড. আজহারী আধুনিক সমাজব্যবস্থা, প্রযুক্তিনির্ভর জীবনধারা এবং বৈশ্বিক বাস্তবতার প্রেক্ষাপটে একজন মুসলিম তরুণকে কীভাবে পথ চলা উচিত, সে বিষয়ে কুরআন ও সুন্নাহর আলোকে দিক-নির্দেশনা প্রদান করেন। সেমিনারে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের প্রায় ২ হাজার ৫০০ শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করেন।
ইসলামকে ‘প্যাকেজ’ হিসেবে গ্রহণের আহ্বান জানিয়ে বক্তব্যের শুরুতেই ড. আজহারী বলেন, ইসলামকে নিজের সুবিধামতো কাটছাঁট করার কোনো সুযোগ নেই। একজন মুমিনকে অবশ্যই ইসলামের সকল বিধানকে একটি পূর্ণাঙ্গ ‘প্যাকেজ’ হিসেবে গ্রহণ করতে হবে।
আধুনিক সমাজের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় জাবির শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে ড. মিজানুর রহমান আজহারী এক চমৎকার জীবনদর্শন তুলে ধরেছেন। তিনি পরামর্শ দিয়ে বলেন, প্রতিটি কাজে হারামকে দৃঢ়ভাবে বর্জন করে সকালটা ফজরের পর থেকেই প্রোডাকটিভ করতে হবে। আর নিজের সহজাত শালীনতা ও 'ফিতরাত' বা স্বকীয়তা বজায় রাখাতে হবে। জীবনের টানাপোড়েনে অভিযোগ না করে কৃতজ্ঞ থাকা, হতাশা ঝেড়ে ফেলে সবসময় ইতিবাচক ও আশাবাদী হওয়া এবং নিজের সর্বোচ্চ চেষ্টাটুকু করে ফলাফলের জন্য আল্লাহর ওপর তাওয়াক্কুল করার ওপরও তিনি জোর দেন। সর্বোপরি, কেবল নিজেকে নিয়ে ব্যস্ত না থেকে একজন সচেতন মুসলিম হিসেবে পুরো উম্মাহর কল্যাণে ভূমিকা রাখার মাধ্যমেই প্রকৃত জীবন সার্থকতা খুঁজে পাওয়া সম্ভব বলে তিনি মনে করেন।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. মাহফুজুর রহমান। তিনি জানান, সাম্প্রতিক সিন্ডিকেট সভায় জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে ইসলাম শিক্ষা সহ তিনটি নতুন বিষয় চালুর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। পাঠশালার এ উদ্যোগের প্রশংসা করে তিনি বলেন, এ ধরনের জ্ঞানভিত্তিক ও চিন্তাশীল আয়োজন ভবিষ্যতে আরও বিস্তৃতভাবে অনুষ্ঠিত হবে—এটাই প্রত্যাশা।
সেমিনারে আরও উপস্থিত ছিলেন উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. সোহেল আহমেদ, প্রক্টর অধ্যাপক ড. এ কে এম রাশিদুল আলমসহ বিভিন্ন অনুষদের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, সাংবাদিক এবং নানা শ্রেণি-পেশার অতিথিরা।
অডিটোরিয়ামের ধারণক্ষমতার তুলনায় উপস্থিতির সংখ্যা বেশি হওয়ায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্রের সামনে প্রজেক্টরের মাধ্যমে সরাসরি সম্প্রচারের ব্যবস্থা করা হয়, যাতে বাইরে থাকা অংশগ্রহণকারীরাও সেমিনারটি উপভোগ করতে পারেন।
আরকে