পোষ্য কোটা ইস্যুতে জাবি প্রশাসনের সভা বর্জন জাকসু-শিক্ষক সমিতির

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাবি) ‘প্রাতিষ্ঠানিক সুবিধার আওতায় সন্তান ভর্তি’ (পোষ্য কোটা) ব্যবস্থায় ব্যাপক সংস্কার এনেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। নতুন নিয়মে পোষ্য কোটায় ভর্তির ন্যূনতম পাস নম্বর বাড়িয়ে ৪৫ শতাংশ করা হয়েছে এবং কেবল শিক্ষক-কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ঔরসজাত সন্তানেরাই এই সুবিধা পাবেন।
রোববার (৮ মার্চ) বেলা ১১টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট হলে উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ কামরুল আহসানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এক মতবিনিময় সভায় এসব সংস্কারের কথা তুলে ধরা হয়।
তবে এই ইস্যুকে ‘মীমাংসিত’ আখ্যা দিয়ে শিক্ষক সমিতি, অফিসার সমিতি, কর্মচারী সমিতি, কর্মচারী ইউনিয়ন এবং জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ (জাকসু) প্রশাসনের ডাকা এই সভা বর্জন করেছে।
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে অংশীজন হিসেবে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন সংগঠন ও প্রতিনিধিদের এই সভায় আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। কিন্তু শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারী সংগঠনগুলো প্রশাসনকে চিঠি দিয়ে জানায় যে, বিষয়টি আগেই মীমাংসিত, তাই তারা সভায় অংশ নিতে অপারগ। অন্যদিকে, গত ২৫ জানুয়ারি প্রশাসনের সঙ্গে এক বৈঠকে বিষয়টি সমাধান হয়েছে জানিয়ে জাকসু নেতারাও সভায় যাননি। ফলে কেবল আবাসিক হল সংসদগুলোর ভিপি, জিএস এবং এজিএসরা সভায় অংশ নেন।
উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ কামরুল আহসান সভায় উপস্থিত হল সংসদের প্রতিনিধিদের সংস্কারের সার্বিক দিকগুলো অবহিত করেন। বর্তমান প্রশাসনের আনা উল্লেখযোগ্য সংস্কারগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো সুবিধাভোগীর পরিসর সীমিতকরণ। আগে দত্তক সন্তান, ভাই-বোন এবং স্বামী-স্ত্রী ভর্তির সুযোগ পেলেও এখন থেকে কেবল ঔরসজাত সন্তানই এই সুবিধা পাবেন।
আসন নির্দিষ্টকরণের বিষয়ে তিনি জানান, আগে বিভাগ বা ইনস্টিটিউটগুলোতে পোষ্য কোটায় ভর্তির কোনো নির্দিষ্ট সংখ্যা ছিল না। ফলে উল্লেখযোগ্যসংখ্যক শিক্ষার্থী ভর্তির সুযোগ পেতেন। এখন প্রতি বিভাগ বা ইনস্টিটিউটে সর্বোচ্চ ৪ জন করে সর্বমোট ৪০ জনের ভর্তির সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে।
স্বজনপ্রীতি রোধে নতুন নিয়মে পিতা-মাতা যে বিভাগ বা ইনস্টিটিউটে কর্মরত, তাদের সন্তান সেই নির্দিষ্ট বিভাগ বা ইনস্টিটিউটে ভর্তির সুযোগ পাবেন না। এছাড়া পাস নম্বরও বৃদ্ধি করা হয়েছে। পোষ্য কোটায় ভর্তির ন্যূনতম পাস নম্বর বাড়িয়ে ৪৫ শতাংশ করা হয়েছে, যা গত শিক্ষাবর্ষে ৪০ শতাংশ এবং তার আগে মাত্র ৩৫ শতাংশ ছিল।
বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ কার্যালয়ের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, উপস্থিত হল সংসদের প্রতিনিধিরা প্রশাসনের এই সংস্কার প্রক্রিয়ার কথা জেনে তা স্বাগত জানান। উপাচার্য ভর্তি কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে সংশ্লিষ্ট সকলের সহযোগিতা কামনা করেন।
সভায় অন্যদের মধ্যে উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মাহফুজুর রহমান, উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. সোহেল আহমেদ, কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মো. আবদুর রব এবং ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার ড. এ বি এম আজিজুর রহমান উপস্থিত ছিলেন।
এসএইচএ