জামায়াত নেতার বিরুদ্ধে মামলার হুঁশিয়ারি ডাকসুর, প্রতিবাদে বিক্ষোভ

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) সম্পর্কে কুরুচিপূর্ণ ও অবমাননাকর মন্তব্যের অভিযোগে বরগুনার জামায়াত নেতা শামীম আহসানের বিরুদ্ধে মানহানির মামলা করার হুঁশিয়ারি দিয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু)। এ ছাড়া ওই মন্তব্যের প্রতিবাদে কুশপুতুল দাহ ও বিক্ষোভ মিছিল করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একদল শিক্ষার্থী।
রোববার (২৫ জানুয়ারি) ডাকসুর সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক মুসাদ্দিক আলী ইবনে মোহাম্মদ এক বিবৃতিতে জানান, জামায়াত নেতা শামীম আহসান ‘ডাকসু ছিলো মাদকের আড্ডাখানা ও বেশ্যাখানা’ –এ ধরনের বক্তব্য দিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও এর শিক্ষার্থী সমাজকে চরমভাবে অবমাননা করেছেন।
বিবৃতিতে মুসাদ্দিক আলী বলেন, বরগুনার জামায়াত নেতা শামীম আহসান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে নিয়ে যে ঘৃণ্য ও ঢালাও মন্তব্য করেছেন, তার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি। এ বক্তব্য সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাবমূর্তির জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর।
তিনি আরও বলেন, এটা সত্য যে ডাকসুর সমাজসেবা সম্পাদক ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও এর আশপাশে অবস্থানরত কিছু মাদক ও পতিতা সিন্ডিকেট চিহ্নিত করে রমনা জোন পুলিশের সহায়তায় আইন অনুযায়ী হাতেনাতে ধরতে ভূমিকা রেখেছেন। তবে এরা কেউই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী বা সংশ্লিষ্ট কেউ নয়, সবাই বহিরাগত। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে পুরো ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে মাদক ও বেশ্যাখানার সঙ্গে জড়িয়ে মন্তব্য করা সম্পূর্ণ অসত্য।
ডাকসুর এ নেতা জানান, শামীম আহসানকে অবিলম্বে জাতির সামনে প্রকাশ্যে ক্ষমা চাইতে হবে। আজকের মধ্যে তিনি ক্ষমা না চাইলে আগামীকাল তার বিরুদ্ধে শাহবাগ থানায় মানহানির অভিযোগে মামলা দায়ের করা হবে।
উল্লেখ্য, শনিবার রাতে বরগুনার পাথরঘাটা উপজেলার কাকচিড়া ইউনিয়নের কাটাখালী এলাকায় বরগুনা-২ আসনের জামায়াতে ইসলামের নির্বাচনী জনসভায় এ কথা বলেন শামীম আহসান।
এদিকে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও ডাকসু ভবন সম্পর্কে কুরুচিপূর্ণ ও অশালীন বক্তব্যের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে ঢাবি প্রশাসন। রোববার সন্ধ্যায় এক বিবৃতির মাধ্যমে এ নিন্দা জানানো হয়।
বিবৃতিতে বলা হয়, শামীম আহসানের বক্তব্য ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাবমর্যাদা, সুনাম, ঐতিহ্য ও সম্মানকে চরমভাবে ক্ষুণ্ন করেছে। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ অবিলম্বে তার এই বক্তব্য প্রত্যাহারের আহ্বান জানাচ্ছে। এ ধরনের অর্বাচীন বক্তব্য দেওয়া থেকে বিরত থাকার জন্য বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সকলের প্রতি অনুরোধ জানাচ্ছে।
ঢাবিতে কুশপুতুল দাহ ও বিক্ষোভ
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) ও নারী শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে জামায়াত নেতার মানহানিকর ও কুরুচিপূর্ণ বক্তব্যের প্রতিবাদে কুশপুতুল দাহ ও বিক্ষোভ মিছিল করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একদল শিক্ষার্থী। তারা এ বক্তব্যকে বিশ্ববিদ্যালয়ের ঐতিহ্য, সম্মান ও নারীদের মর্যাদার ওপর সরাসরি আঘাত বলে আখ্যা দেন।
রোববার সন্ধ্যায় বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে ‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীবৃন্দ’ ব্যানারে এই কর্মসূচি পালিত হয়। কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীরা অবিলম্বে এ বক্তব্য প্রত্যাহার ও প্রকাশ্যে ক্ষমা চাওয়ার দাবি জানান।
কর্মসূচিতে ডাকসুর সদস্য হেমা চাকমা বলেন, ডাকসু নিয়ে একটি দলের নেতা কীভাবে প্রকাশ্যে এমন মন্তব্য করতে পারে, তা আমাদের বোধগম্য নয়। আমরা এখন ২০২৬ সালে বসবাস করছি। নারীরা নিজেদের অধিকার, অর্থনৈতিক মুক্তি ও সামাজিক মর্যাদা নিয়ে আজ অনেক বেশি সচেতন।
তিনি আরও বলেন, প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে অসংখ্য নারী শিক্ষার্থী সংগ্রাম করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে এসেছে। সেই নারীদের নিয়ে এ ধরনের মন্তব্য কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। যেকোনো দলের বা মতের কেউ যদি নারীদের বিরুদ্ধে অবমাননাকর মন্তব্য করে, আমরা তার প্রতিবাদ করব। আমরা নারীবান্ধব বাংলাদেশ চাই এবং ওই জামায়াত নেতার প্রকাশ্যে ক্ষমা দাবি করছি।
সলিমুল্লাহ মুসলিম হল সংসদের সাধারণ সম্পাদক (জিএস) সাদমান আব্দুল্লাহ বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে জড়িয়ে আছে ’৫২-এর ভাষা আন্দোলন, ’৬৯-এর গণঅভ্যুত্থান, ’৭০-এর নির্বাচন, ’৭১-এর মুক্তিযুদ্ধ এবং ’২৪-এর গণঅভ্যুত্থানের মতো ঐতিহাসিক ঘটনা। এই বিশ্ববিদ্যালয়কে নিয়ে কোনো ধরনের কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য আমরা মেনে নেব না।
তিনি আরও বলেন, ডাকসুর পক্ষ থেকে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো বিবৃতি চোখে পড়েনি। তবে অন্য ইস্যুতে ডাকসুর ব্যানারে প্রতিবাদ দেখা যায়। আমি প্রত্যেক হল সংসদকে এই বিষয়ে স্পষ্ট বিবৃতি দেওয়ার আহ্বান জানাচ্ছি।
এসএআর/এসএসএইচ