থানা-ফাঁড়ির বেষ্টনী, তবু ‘অরক্ষিত’ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস

দেশের রাজনৈতিক, সাংস্কৃতিক ও বুদ্ধিবৃত্তিক আন্দোলনের প্রাণকেন্দ্র ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস। এই এলাকাটি রাজধানীর অন্যতম নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তাবেষ্টিত হওয়ার কথা। খাতা-কলমে সেটি আছেও। ক্যাম্পাসের দুই পাশে শাহবাগ ও নিউমার্কেট থানা আছে। প্রবেশমুখগুলোতে রয়েছে দুটি পুলিশ ফাঁড়ি। এর সঙ্গে আছে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব প্রোক্টরিয়াল টিমের টহল।
বিজ্ঞাপন
এতসব নিরাপত্তাবলয় সত্ত্বেও বিশ্ববিদ্যালয় অঙ্গনের বাস্তব চিত্র ভয়াবহ ও উদ্বেগজনক। গত এক বছরে ক্যাম্পাস ও এর আশপাশে একের পর এক হত্যাকাণ্ড, দুর্ধর্ষ ছিনতাই এবং প্রকাশ্যে মাদক ব্যবসার মতো ঘটনা সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে গভীর নিরাপত্তাহীনতা তৈরি করেছে। সাম্প্রতিক সময়ে সোহরাওয়ার্দী উদ্যান ও শহীদ মিনার এলাকায় ঘটে যাওয়া হত্যাকাণ্ডগুলো এসব প্রশ্নকে আরও জোরালো করে তুলেছে যে, এত আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর উপস্থিতির পরও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস কেন দিন দিন অনিরাপদ হচ্ছে? কেন এটি অপরাধীদের অভয়ারণ্যে পরিণত হচ্ছে? প্রশাসনিক সীমাবদ্ধতা নাকি সমন্বয়ের অভাব, ঠিক কোথায় আটকে আছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তা?
সাম্প্রতিক সময়ের কয়েকটি নৃশংস হত্যার ঘটনা ক্যাম্পাসের নিরাপত্তাহীনতাকে আবারও চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছে।
বিজ্ঞাপন
২০২৫ সালের ১৩ মে রাতে সোহরাওয়ার্দী উদ্যান এলাকায় দুর্বৃত্তদের ছুরিকাঘাতে নিহত হন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের শিক্ষার্থী শাহরিয়ার আলম সাম্য। পুলিশ জানায়, মোটরসাইকেলের ধাক্কা লাগাকে কেন্দ্র করে ঝগড়ার একপর্যায়ে তাকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করা হয়। টিএসসি ও রমনা কালীমন্দির গেট সংলগ্ন জনবহুল এলাকায় ঘটে যাওয়া এই ঘটনায় গুরুতর আহত সাম্যকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও এর আশপাশের এলাকাগুলোতে বিভিন্ন ধরনের অপরাধের ঘটনা নিয়মিতভাবে ঘটছে। বিভিন্ন সময়ে গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, টিএসসি, দোয়েল চত্বর, নীলক্ষেত, সোহরাওয়ার্দী উদ্যান এবং শহীদ মিনার-সংলগ্ন এলাকাগুলো ছিনতাই, চুরি ও সহিংসতার হটস্পটে পরিণত হয়েছে
সেই ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতে গত ১৫ মার্চ (রোববার) রাতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়-সংলগ্ন কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার এলাকায় রাকিবুল ইসলাম নামে এক তরুণকে গুলি ও ছুরিকাঘাতে হত্যা করা হয়।
বিজ্ঞাপন

শাহবাগ থানা-পুলিশের তথ্যমতে, রাত সোয়া নয়টার দিকে শহীদ মিনারের সিঁড়িতে বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডা দিচ্ছিলেন রাকিব। এ সময় ৩-৪ জন যুবক এসে তাকে এলোপাতাড়ি ছুরিকাঘাত করার পর মাথায় গুলি করে পালিয়ে যায়। রাত ১০টা ৩৩ মিনিটে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
সাম্প্রতিক এসব হত্যাকাণ্ডের বাইরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও এর আশপাশের এলাকাগুলোতে বিভিন্ন ধরনের অপরাধের ঘটনা নিয়মিতভাবে ঘটছে। বিভিন্ন সময়ে গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, টিএসসি, দোয়েল চত্বর, নীলক্ষেত, সোহরাওয়ার্দী উদ্যান এবং শহীদ মিনার-সংলগ্ন এলাকাগুলো ছিনতাই, চুরি ও সহিংসতার হটস্পটে পরিণত হয়েছে।
শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, সূর্যাস্তের পর এসব এলাকায় বহিরাগতদের অবাধ আনাগোনা অস্বাভাবিক বেড়ে যায়। বিশেষ করে, রাতের অন্ধকারে মাদক-সংশ্লিষ্ট কার্যক্রম হয়, যা সাধারণ শিক্ষার্থী ও পথচারীদের জন্য নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি করছে।
সোহরাওয়ার্দী উদ্যান : ঐতিহ্যের আড়ালে মাদকের অভয়ারণ্য
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ঠিক পাশেই অবস্থিত ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যান এখন সাধারণ মানুষের কাছে মাদকসেবী ও কারবারিদের নিরাপদ আশ্রস্থলে পরিণত হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের তিন নেতার মাজার, রমনা কালীমন্দির গেট এবং মুক্তমঞ্চ সংলগ্ন এলাকায় প্রকাশ্যে চলে গাঁজার ব্যবসা। এমনকি মুক্তমঞ্চের পাশ দিয়ে হেঁটে যাওয়ার সময় গাঁজার তীব্র গন্ধে সাধারণ পথচারীদেরও নাভিশ্বাস ওঠার মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়।

অনুসন্ধানে দেখা যায়, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় মেট্রোরেল স্টেশন দিয়ে উদ্যানের ভেতরে ঢুকলেই চোখে পড়ে এক ভয়াবহ চিত্র। বেশ কয়েকজন কিশোরীকে দেখা যায় জামার ভেতর থেকে গাঁজার পুড়িয়া বের করে ক্রেতাদের হাতে তুলে দিচ্ছে। মাদক বিক্রির এই চক্রে শিশুদের ব্যবহার করার বিষয়টিও এখন সবাই জানে।
মাদক বিক্রিতে জড়িত এক কিশোরী জানায়, আগে তারা টিএসসিতে ফুল বিক্রি করত। সেখানে বসার অনুমতি না থাকায় এখন ‘পেটের দায়ে’ তারা এই ঝুঁকিপূর্ণ পথে পা বাড়িয়েছে। সে আরও জানায়, উপযুক্ত কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা থাকলে তারা এই কাজ ছেড়ে দিতে রাজি। তবে তাদের নেপথ্যে কারা কলকাঠি নাড়ছে, সে বিষয়ে মুখ খুলতে নারাজ সে।
জিসান নামে আরেক এতিম কিশোর জানায়, উদ্যানের ভেতরেই তার বসবাস এবং গাঁজা বিক্রি করে সে প্রতিদিন ৫০০ টাকা মজুরি পায়।
যদিও মাদক নির্মূলে রমনা জোনের ডিসি মাসুদ আলমের নেতৃত্বে সোহরাওয়ার্দী উদ্যান ও আশপাশের এলাকায় কয়েক দফা বিশেষ অভিযান পরিচালিত হয়েছে। এসব অভিযানে বেশ কয়েকজনকে আটকের পাশাপাশি মাদকসেবীদের মারধরের ঘটনাও গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে। তবে অভিযানের রেশ কাটতে না কাটতে আবারও সক্রিয় হয়ে উঠেছে মাদক কারবারিরা।
অন্ধকার নামলেই সক্রিয় ছিনতাইকারীরা
সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে ছিনতাইয়ের ঘটনাও ঘটে নিয়মিত। গত ২৫ জানুয়ারি উদ্যানের রমনা পার্ক-সংলগ্ন এলাকায় ছুরি দেখিয়ে স্ট্যামফোর্ড ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশের চার শিক্ষার্থীর কাছ থেকে প্রায় ৩০ হাজার টাকা ছিনতাই করে নিয়ে যায় কয়েকজন তরুণ।

২০২৪ সালের ২১ জানুয়ারি সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে এক নারী পুলিশ কনস্টেবলকে মারধর করে ছিনতাইকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফলিত গণিত বিভাগের ২০২১–২২ সেশনের শিক্ষার্থী আজহারকে আটক করা হয়। পরে তাকে ছিনতাই মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়।
শিক্ষার্থীদের প্রশ্ন, ক্যাম্পাসের নিরাপত্তা কোথায়?
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষার্থী নূমান আহমাদ চৌধুরী বলেন, ইদানীং প্রতি রাতে এরকম টাইমে শহিদ মিনারের ওখানে আমি রুটি খেতে যাই। রোববার নওগাঁ চলে আসায় যাইনি। টার্গেট মিস করে তো গুলিটা আমার মাথায়ও লাগতে পারত। এখন কি দেশের সবাইকে মিলিটারি গ্রেড হেলমেট পরে ঘোরাফেরা করার দিন চলে আসল নাকি?
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা বলছেন, ক্যাম্পাসে বহিরাগতদের অবাধ প্রবেশ এবং পর্যাপ্ত নজরদারির অভাবেই অপরাধের ঘটনাগুলো ঘটছে। তাদের মতে, সোহরাওয়ার্দী উদ্যান, টিএসসি ও শহীদ মিনার এলাকা রাতে প্রায়ই নিরাপত্তাহীন হয়ে পড়ে। অনেক সময় পুলিশের টহল থাকলেও তা অপরাধ প্রতিরোধে যথেষ্ট নয় বলে অভিযোগ তাদের। ঢাবি ক্যাম্পাসে নিরাপত্তাহীনতা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। একের পর এক হত্যাকাণ্ড ও অপরাধের ঘটনায় তারা কার্যকর পদক্ষেপের দাবি জানান।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষের যাতায়াত হওয়ায় এখানে নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে আরও সমন্বিত ও আধুনিক করতে হবে। সিসিটিভির নজরদারি বাড়ানো, বহিরাগত নিয়ন্ত্রণ এবং নিয়মিত টহল জোরদার করা হলে অনেক অপরাধ প্রতিরোধ করা সম্ভব।
তাদের প্রশ্ন চারদিকে থানা ও পুলিশ ফাঁড়ি থাকার পরও যদি ক্যাম্পাস নিরাপদ না হয়, তবে শিক্ষার্থীরা কোথায় নিরাপত্তা পাবে?

নিরাপত্তা জোরদারের দাবি ডাকসুর ছাত্রনেতাদের
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের সমাজসেবা সম্পাদক এবি জুবায়ের বলেন, ক্যাম্পাস ও আশপাশ এলাকায় নিরাপত্তাহীন পরিস্থিতি তৈরি হওয়ার দায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এবং থানা প্রশাসন উভয়েরই রয়েছে।
তিনি জানান, এ এলাকায় মাদকের কারবার ও তা ঘিরে বিভিন্ন অপরাধ সংঘটিত হওয়ার বিষয়টি তারা একাধিকবার বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও থানা–পুলিশকে অবহিত করেছেন। তবে বারবার জানানোর পরও দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ দেখা যায়নি। এ কারণেই এমন অপরাধের ঘটনার ধারাবাহিকতা তৈরি হয়েছে।
এবি জুবায়ের বলেন, ছাত্র প্রতিনিধি হিসেবে তাদের আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার সুযোগ নেই; তারা কেবল সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি জানিয়েছেন।
তিনি বলেন, প্রশাসন যদি বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা না নেয়, তাহলে এ ধরনের ঘটনা থামবে না। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে নিরাপদ ক্যাম্পাস হিসেবে ধরা হলেও ক্যাম্পাস বা আশপাশ এলাকায় মাদকের বিস্তার ও খুন-খারাপির ঘটনা কোনোভাবেই কাম্য নয়। তাই প্রশাসনকে এ বিষয়ে আরও দায়িত্বশীল ও সক্রিয় হতে হবে।
ডাকসুর কার্যনির্বাহী সদস্য সর্বমিত্র চাকমা বলেন, সাম্য হত্যাকাণ্ডের পর টিএসসি-সংলগ্ন সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের একটি গেট বন্ধ করা হয়। পরে উদ্যানটি আরও নিরাপদ করতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, গণপূর্ত অধিদপ্তর, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ও রমনা কালী মন্দির কর্তৃপক্ষের সমন্বয়ে একটি কমিটি গঠন করা হয়। কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী রমনা কালী মন্দিরের গেটটি অন্য পাশে সরিয়ে নেওয়ার কথা ছিল, কারণ বেশিরভাগ সময় মাদকসেবী ও অসামাজিক কর্মকাণ্ডে জড়িতরা ওই গেটটি ব্যবহার করে। এতে ধর্মীয় পরিবেশও ক্ষুণ্ন হয়। তবে এখন পর্যন্ত ওই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের কোনো অগ্রগতি নেই বলে তিনি জানান।
তিনি বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও আশপাশে বেড়ে ওঠা অনেক সুবিধাবঞ্চিত শিশু মাদক বহন বা বিক্রির মতো কাজে জড়িয়ে পড়ছে। যাদের বয়স আনুমানিক মাত্র আট বা নয় বছর, পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন। এমন পরিস্থিতির কারণে অনেক শিশুই মাদকচক্রের সঙ্গে যুক্ত হচ্ছে।
এছাড়া বিভিন্ন এলাকা, বিশেষ করে কামরাঙ্গীরচর থেকে কিছু নারী ফুল বিক্রির আড়ালে মাদক বিক্রি করে আবার চলে যায় বলে জানান তিনি।

সর্বমিত্র চাকমা আরও বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় যদি ঢাকার প্রাণকেন্দ্র হয়, তবে সোহরাওয়ার্দী উদ্যান সেই কেন্দ্রের জন্য ক্যান্সারের মতো হয়ে উঠছে। এখানকার মাদক সিন্ডিকেটের কারণে অনেক শিক্ষার্থীও কখনো কখনো এসব চক্রে জড়িয়ে পড়ছে। অতীতে প্রলয় গ্যাংয়ের মতো ঘটনার উদাহরণও রয়েছে। তিনি মনে করেন, পরিবেশগত প্রভাবই এর বড় কারণ এবং বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের এ বিষয়ে যথেষ্ট সক্রিয় প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা থাকা জরুরি।
নিরাপত্তা উদ্যোগে শিক্ষার্থীদের একাংশের বাধা, দাবি প্রশাসনের
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের নিরাপত্তা প্রসঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রক্টর অধ্যাপক ড. রফিকুল ইসলাম ঢাকা পোস্টকে বলেন, কোনো ঘটনা ঘটার পর আমরা যত চেষ্টা করি সেটার চেয়ে ঘটনার আগেই প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়াটাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু বাস্তবে আমরা যখন বিভিন্ন ধরনের শৃঙ্খলা বা নিয়ন্ত্রণমূলক ব্যবস্থা নিতে চাই, তখন অনেক ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীদের একটি অংশ সেসব উদ্যোগকে ইতিবাচকভাবে নেয় না।
উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, ক্যাম্পাসের পলাশী রোড বা শহীদ মিনার এলাকায় শৃঙ্খলা বজায় রাখতে আমরা নানা উদ্যোগ নিয়েছি। কিন্তু অনেক সময় শিক্ষার্থীদের একটি অংশ ‘ওপেন স্পেস’ বা সবার জন্য উন্মুক্ত জায়গার কথা বলে এসব উদ্যোগের বিরোধিতা করে। ফলে সেখানে কার্যকরভাবে নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করা কঠিন হয়ে পড়ে। অনেক ক্ষেত্রে বলা চলে প্রশাসন অসহায়।
তিনি বলেন, আমরা খুব বেশি বলপ্রয়োগ করতে চাই না, যদিও কিছু ক্ষেত্রে প্রয়োগ করা হয়। এ কারণে আমরা অনেক সমালোচনারও শিকার হই। তবে সেটাই মূল বিষয় নয়। মূল সমস্যা হলো বিশ্ববিদ্যালয় একটি উন্মুক্ত স্থান হওয়ায় এখানে কে কখন ঢুকে পড়ে তা নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হয়ে যায়। ফলে শেষ পর্যন্ত কারও কারও জীবন ও সম্পদের ক্ষতির ঝুঁকি তৈরি হয়, যা আমাদের জন্য অত্যন্ত কষ্টের বিষয়।
ক্যাম্পাসের পাশের দুটি থানার ভূমিকা নিয়ে তিনি বলেন, ক্যাম্পাস-সংলগ্ন দুটি থানা বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে স্বাধীনভাবে কাজ করে না। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন থেকে অনুরোধ না করা হলে তারা সাধারণত ক্যাম্পাসে প্রবেশ করে না। কেন্দ্রীয় কোনো নির্দেশনা থাকলেও বিশ্ববিদ্যালয়কে জানিয়ে তবেই পুলিশ আসে। আরেকটি বিষয় হলো, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের একটি বড় অংশ ক্যাম্পাসে পুলিশি উপস্থিতি পছন্দ করে না। অনেক শিক্ষকসহ বিভিন্ন পক্ষও ক্যাম্পাসে স্থায়ী পুলিশি উপস্থিতির পক্ষে নন। ফলে পুলিশ ফাঁড়ির কার্যক্রম অনেকটাই নির্ভর করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এবং শিক্ষার্থীরা কী চাইছে তার ওপর।
তিনি আরও বলেন, পুলিশ ফাঁড়ির মূল দায়িত্ব শুধু বিশ্ববিদ্যালয়ের ভেতরে সীমাবদ্ধ নয়। আশপাশের শাহবাগ, নিউ মার্কেটসহ অন্যান্য এলাকার সাধারণ মানুষের নিরাপত্তার কাজও তারা করে। তবে বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তরে প্রবেশ বা কার্যক্রম পরিচালনার ক্ষেত্রে বিশ্ববিদ্যালয়ের নীতি ও শিক্ষার্থীদের অবস্থানকে তারা গুরুত্ব দেয়।
ঢাবির এ সহকারী প্রক্টর বলেন, আমরা সবসময়ই শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আন্তরিক। কিন্তু যখন কোনো ব্যবস্থা নিতে যাই, তখন অনেক সময় শিক্ষার্থীদের একটি অংশ বিরোধিতা করে। আবার যারা সমর্থন করে, তাদের আওয়াজ অনেক সময় সামনে আসে না। তবুও আমরা বিশ্বাস করি যদি শিক্ষার্থীরা একটু সহযোগিতা করে এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করার উদ্যোগকে সমর্থন জানায়, তাহলে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন অবশ্যই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে পারবে। শহীদ মিনারসহ বিভিন্ন জায়গায় নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করতে না পারাটা আমাদের জন্যও কষ্টের বিষয়। কারণ এসব উদ্যোগ নিতে গেলে অনেক সময় আমাদের নিজেদের শিক্ষার্থীদের বিরোধিতার মুখে পড়তে হয়, যা আমাদের জন্য সত্যিই বেদনাদায়ক।
এ বিষয়ে শাহবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনিরুজ্জামানের সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।
এসএআর/এমএসএ