মেয়াদকাল শেষ হওয়া পর্যন্ত কাজ করে যাওয়ার সিদ্ধান্ত সর্বমিত্রের

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) কার্যনির্বাহী সদস্য সর্বমিত্র চাকমা পদত্যাগের সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসার ঘোষণা দিয়েছেন। গত সোমবার তীব্র সমালোচনার মুখে পড়ে তিনি পদত্যাগের ঘোষণা দিলেও এখন সেই সিদ্ধান্ত প্রত্যাহারের কথা জানিয়েছেন।
শনিবার (৩১ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় ঢাকা পোস্টের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে তিনি তার এই নতুন সিদ্ধান্তের কথা জানান।
সর্বমিত্র চাকমা বলেন, ‘শিক্ষার্থীরা চান না আমি পদত্যাগ করি। তারা এটিকে গণবিরোধী সিদ্ধান্ত হিসেবে দেখছেন। এভাবে পদত্যাগ করলে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে প্রতারণা করা হবে। তাই পালানোর কোনো সুযোগ নেই। মেয়াদকাল শেষ হওয়া পর্যন্ত কাজ করে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।’
তিনি আরও যোগ করেন, শিক্ষার্থীরা তাকে বিরোধীপক্ষের কথায় কান না দিয়ে দায়িত্ব পালন করে যেতে বলেছেন।
উল্লেখ্য, গত বছর অনুষ্ঠিত ডাকসু নির্বাচনে ছাত্রশিবির সমর্থিত প্যানেল থেকে কার্যনির্বাহী সদস্য নির্বাচিত হন সর্বমিত্র চাকমা। দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই একাধিক ঘটনায় তিনি বিতর্কের মুখে পড়েন। সবশেষ গত মাসে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মাঠে খেলতে আসা কয়েকজন কিশোরকে কান ধরে ওঠবস করানোর ঘটনায় ব্যাপক সমালোচনার সৃষ্টি হয়। ওই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে গত সোমবার ফেসবুকে তিনি পদত্যাগের ঘোষণা দিলেও তখন কোনো আনুষ্ঠানিক পদত্যাগপত্র জমা দেননি।
এদিকে, পদত্যাগের সিদ্ধান্ত প্রত্যাহারের মধ্যেই সর্বমিত্র চাকমাকে একটি আইনি নোটিশ পাঠানো হয়েছে। ক্যাম্পাসে অবৈধ দোকান থেকে চাঁদাবাজির অভিযোগসংক্রান্ত একটি ফেসবুক পোস্টকে কেন্দ্র করে ‘মানহানিকর বক্তব্য ও অপপ্রচার’ চালানোর অভিযোগে এই নোটিশ দেওয়া হয়। জাতীয় ছাত্রশক্তির ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সহসভাপতি নুরুল গনি সগীরের পক্ষে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট নাজমুস শাকিব এই নোটিশ প্রেরণ করেন।
শনিবার (আজ) দুপুর আড়াইটায় বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যান্টিনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে নুরুল গনি সগীর বিষয়টি নিশ্চিত করেন। আইনি নোটিশে উল্লেখ করা হয়, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া একটি পোস্ট ও পরবর্তী বিভিন্ন বক্তব্যের মাধ্যমে নুরুল গনি সগীরকে চাঁদাবাজ হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে, যা সম্পূর্ণ মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও মানহানিকর। এসব অভিযোগের কারণে তার ব্যক্তিগত, সামাজিক ও রাজনৈতিক ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ হয়েছে বলেও দাবি করা হয়।
নোটিশে আরও বলা হয়, অভিযুক্ত ব্যক্তি অভিযোগগুলোর পক্ষে কোনো গ্রহণযোগ্য প্রমাণ উপস্থাপন করতে পারেননি। বরং এসব বক্তব্য উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়ে একজন শিক্ষার্থী নেতাকে সামাজিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন করার চেষ্টা। এতে দণ্ডবিধি অনুযায়ী মানহানি ও হয়রানিমূলক অপরাধের উপাদান রয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়।
আইনি নোটিশে সর্বমিত্র চাকমাকে নোটিশ প্রাপ্তির ১০ ঘণ্টা সময়ের মধ্যে প্রকাশ্যে মানহানিকর অভিযোগ প্রত্যাহার, সংশ্লিষ্ট পোস্ট ও বক্তব্য অপসারণ এবং নিঃশর্ত ক্ষমা প্রার্থনার আহ্বান জানানো হয়েছে। অন্যথায় নুরুল গনি সগীর তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করতে বাধ্য হবেন বলেও সতর্ক করা হয়েছে।
এসএআর/বিআরইউ