শিবিরের ৪৯তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষ্যে ঢাবিতে আলোচনা সভা

বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের ৪৯তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষ্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির : আদর্শ, সংগ্রাম ও ত্যাগের সিলসিলা’ শীর্ষক বিশেষ আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের মোজাফফর আহমদ চৌধুরী অডিটোরিয়ামে এ আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি নূরুল ইসলাম সাদ্দাম। এ ছাড়া বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ডাকসুর জিএস এস এম ফরহাদ ও ডাকসুর পরিবহন সম্পাদক আসিফ আব্দুল্লাহ।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি ও ডাকসুর এজিএস মহিউদ্দিন খান।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে ডাকসুর পরিবহন সম্পাদক আসিফ আব্দুল্লাহ বলেন, ফ্যাসিবাদী আমলের বিরূপ রাজনৈতিক পরিবেশের কারণে কখনো হলে থাকার সুযোগ হয়নি। ক্যাম্পাস জীবনের অন্যতম স্বপ্ন ছিল ক্যাম্পাস ও শাহবাগে ‘নারায়ে তাকবীর’ স্লোগান দেওয়া।
তিনি বলেন, ২৪-এর অভ্যুত্থানের পর কিছুটা হতাশ হয়ে পড়লেও আল্লাহ তায়ালা যেভাবে দেশকে আবার স্বাধীনতার পথে ফিরিয়ে দিয়েছেন এবং ৫টি ছাত্র সংসদে ভূমিধস বিজয় দান করেছেন তার জন্য অশেষ শুকরিয়া আদায় করছি।
ডাকসুর জিএস এস এম ফরহাদ বলেন, ছাত্রশিবিরের আজকের অবস্থান শত-সহস্র ভাইয়ের শাহাদত, ত্যাগ ও দাওয়াতি কাজের ফসল। তিনি বলেন, ফ্যাসিবাদী আমলে ছাত্রশিবিরের ওপর চরম নির্যাতন চললেও সংগঠনটি কখনোই দাওয়াতি কার্যক্রম, প্রশিক্ষণমূলক প্রোগ্রাম কিংবা মৌলিক সাংগঠনিক কাজ বন্ধ রাখেনি।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে কেন্দ্রীয় সভাপতি নূরুল ইসলাম সাদ্দাম বলেন, ১৯৭৭ সালের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটে ছাত্রশিবিরের যাত্রা শুরু হয়। শত জুলুম, প্রপাগান্ডা, নির্যাতন ও হত্যাকাণ্ডের মধ্য দিয়েও ছাত্রশিবিরের অগ্রযাত্রা থামানো যায়নি।
তিনি উল্লেখ করেন, গুম কমিশনের রিপোর্ট অনুযায়ী ফ্যাসিবাদী আমলে একক সংগঠন হিসেবে ৩১ শতাংশ গুমের শিকার হয়েছে ছাত্রশিবির। বামপন্থিদের লাল সন্ত্রাস, মিডিয়া সন্ত্রাস, মিথ্যাচার ও প্রাতিষ্ঠানিক নিপীড়নের মুখেও ছাত্রশিবির এগিয়ে চলেছে। আজ বাংলাদেশের শিক্ষার্থীসমাজ তাদের প্রতিনিধি হিসেবে ছাত্রশিবিরকেই বেছে নিয়েছে। তিনি আরও বলেন, সৎ, দক্ষ ও দেশপ্রেমিক নাগরিক গড়ে তুলতে ছাত্রশিবির দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।
সভাপতির সমাপনী বক্তব্যে মহিউদ্দিন খান বলেন, ছাত্রশিবির বাংলাদেশের ছাত্রসমাজের জন্য এক অনন্য নিয়ামত। তিনি বলেন, সম্ভবত ইতিহাসের সবচেয়ে সুসময় পার করছে ছাত্রশিবির, তবে আমাদের কাজ এখনো শেষ হয়নি। আমাদের চূড়ান্ত সফলতা হবে আল্লাহর সন্তুষ্টি ও সবার আরাধ্য জান্নাত। ইনসাফভিত্তিক, আইনের শাসনসম্পন্ন ও মানবিক মর্যাদার বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে সবাইকে সঙ্গে নিয়ে এগিয়ে যাওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি।
আলোচনা সভা সঞ্চালনা করেন ছাত্রশিবির ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সেক্রেটারি কাজী আশিক।
এসএআর/এসএসএইচ