বাংলাদেশ উন্নত হলে ভারত তার অস্তিত্ব হারাবে : শিবির সভাপতি

বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি নূরুল ইসলাম সাদ্দাম বলেছেন, আমরা (বাংলাদেশ) উন্নত হলে ভারত তার অস্তিত্ব হারাবে। তাদের সেভেন সিস্টার্স ধ্বংস হয়ে যাবে। আমাদের ব্লু ইকোনমি রয়েছে, কিন্তু আমরা তা কাজে লাগাতে পারছি না।
শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যা ৭টার দিকে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞান ভবনের মাঠে ছাত্রশিবিরের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষ্যে আয়োজিত ইয়ুথ আইডিয়া কনটেস্টের আইডিয়া প্রদর্শনীর ফলাফল ঘোষণা অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন তিনি।
ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি বলেন, দেশব্যাপী ছাত্রবান্ধব, একাডেমি বান্ধব কার্যক্রম নিয়ে ছাত্রশিবির তার প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালন করছে। দেশের এক-তৃতীয়াংশ যুবশক্তি। হেলাল হাফিজ বলেছেন, এখন যৌবন যার যুদ্ধে যাওয়ার সময় তার। তরুণ বাংলাদেশের নিয়ামক শক্তি। কানাডা, রাশিয়া, জার্মানি, জাপান– তরুণের সংখ্যা বেশি ও বৃদ্ধের সংখ্যা কম ছিল বলে তারা ঘুরে দাঁড়িয়েছিল।
বাংলাদেশ ও অন্যান্য দেশের তুলনায় নূরুল ইসলাম সাদ্দাম বলেন, ১৯৭৬ সালে চীন ও বাংলাদেশের অবস্থান একই ছিল। ২০/২৫ বছরের ব্যবধানে চীন এখন অন্য দেশকে নেতৃত্ব দিচ্ছে। তারা আমদানিনির্ভর অর্থনীতিকে কমিয়ে দিয়েছে এবং নিজেদের উন্নত করেছে। এদিকে আমার দেশের শিক্ষাব্যবস্থাই উন্নত নয়। ২২ বিলিয়ন ডলার ঋণ রয়েছে বাংলাদেশের। বাজেটের ১ লাখ কোটি টাকা ঋণের সুদ দিতে হয়। এক একজন মন্ত্রীর ৫/৭টি করে বাড়ি। ৬ লাখ ৪০ হাজার কোটি টাকা ঋণখেলাপি, যা কোনোদিনও ফিরে আসবে না। এ দেশে ৫৪ বছর যুবশক্তিকে রূপান্তর করা হয়নি। ঢাকা থেকে সচিবালয়, মন্ত্রণালয়গুলোকে ডিসেন্ট্রালাইজড করতে হবে। প্রত্যেকটা জিনিস ডিসেন্ট্রালাইজড করতে পারলে আমাদের মুক্তি মিলবে। আমাদের তরুণরা আমাদের এসব আইডিয়া দিয়েছে।
জামায়াতের নির্বাচনী ইশতেহার সম্পর্কে তিনি বলেন, জামায়াত তাদের ইশতেহারে আয়-ব্যয় দেখার একটা জিনিস রেখেছে, যা আমাদের ভালো লেগেছে। অ্যাপসের মাধ্যমে জনগণ বুঝতে পারবে সরকার কত টাকা আয় করছে, কত টাকা ব্যয় করছে। আমরা উন্নত হলে ভারত তার অস্তিত্ব হারাবে। তাদের সেভেন সিস্টার্স ধ্বংস হয়ে যাবে। আমাদের ব্লু ইকোনমি রয়েছে, কিন্তু আমরা তা কাজে লাগাতে পারছি না।
তিনি আরও বলেন, আমাদের সাগরকন্যা রয়েছে, যেখানে কেউ একবার গেলে বারবার যেতে ইচ্ছা করে। ময়লা, মাদক, সিন্ডিকেট, ব্যবস্থাপনার অভাব এটিকে ধ্বংস করে দিচ্ছে। কয়লাকে ব্যবহার করলে ৫০ বছরের বিদ্যুতের অভাব পূরণ করা সম্ভব। আমাদের ২৪ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের সামর্থ্য আছে। এখন দেশে বেতনের অধিকার চাইতে গেলে রক্ত দিতে হয়। দেশের মানুষের পেছনে তারা টাকা খরচ করে না।
তিনি আরও বলেন, জুলাই আন্দোলন সাক্ষী যে আন্দোলনে আমরা ইট ও লাঠি নিয়ে ফ্যাসিস্টকে রুখে দিয়েছি। তবে যারা আমাদের সমালোচনা করবে, আমরা তাদের সমালোচনাকে স্যালুট জানাই। তবে তা ফিরে দেখার সময় আমাদের নেই। তারুণ্যকে নিয়ে আগামীর বাংলাদেশকে এগিয়ে নিতে চাই।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এহসানুল মাহবুব জুবায়ের, সাবেক শিবির সভাপতি জাহিদ হোসেন, শিবিরের সেক্রেটারি জেনারেল সিবগাতুল্লাহ, আন্তর্জাতিক সম্পাদক মুতাসিম বিল্লাহ শাহেদী, ডাকসু জিএস এস এম ফরহাদ, জকসু ভিপি রিয়াজুল ইসলামসহ বিভিন্ন নেতাকর্মীরা।
এমএল/এসএসএইচ