চাকরি হারাচ্ছেন বেরোবি রেজিস্ট্রার

রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় (বেরোবি) রেজিস্ট্রার ড. হারুন আর রশীদকে তার পদ থেকে অব্যাহতি দিচ্ছে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। ইতোমধ্যে হঠাৎ করেই তার পরিবহন সুবিধা বাতিল করা হয়েছে এবং প্রশাসনিক কাজেও বাধা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।
জানা যায়, আজ রোববার (১৫ ফেব্রুয়ারি) সকালে উপাচার্য অধ্যাপক ড. শওকাত আলীসহ তার দপ্তরে বৈঠকের পর এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। বৈঠকে বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগের শিক্ষক ড. হারুনসহ বেশ কয়েকজন শিক্ষক এবং ডেপুটি রেজিস্ট্রার মো. তরিকুল ইসলাম, কর্মকর্তা মো. রোকনুজ্জামানসহ অন্তত ১০/১২ জন উপস্থিত ছিলেন।
রেজিস্ট্রার ড. হারুন অর রশীদ জানান, আমাকে গতকাল বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন শিক্ষক ফোন করে অফিসে আসতে নিষেধ করেন। আমাকে ছুটিতে থাকতে বলেন কিন্তু আমি অস্বীকৃতি জানাই। আজকে সকালে অফিসে আসলে আমাকে ফোন করে অফিস ছাড়তে বলা হয়। পরবর্তীতে দুপুরে ডেপুটি রেজিস্ট্রার মো. তরিকুল অফিসে এসে অফিসের কর্মকর্তা কর্মচারীদের আমার অফিস থেকে সরে যেতে বলেন। এছাড়াও নির্বাচনের আগে ‘জামাতি রেজিস্ট্রার’ অ্যাখ্যা দিয়ে ছাত্রদল আমাকে চাকরিচ্যুত করার জন্য প্রেস ব্রিফিংসহ বিভিন্নভাবে চেষ্টা করেছে। আজ দুপুরে আমি গাড়িতে উঠতে গেলে বলা হয়, আপনি আর গাড়ি পাবেন না; নিষেধ করা হয়েছে। পরে আমি রিকশায়যোগে চলে এসেছি। এছাড়াও একটি দল এসে আমার দপ্তরে বলে গিয়েছে, আমার কাছে যেন কোন ফাইল না আসে এবং আমার দপ্তরের কর্মকর্তা কর্মচারীদেরও চলে যেতে বলা হয়েছে।
সূত্র জানায়, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন জরুরি সিন্ডিকেট ডেকে দু’একদিনের মধ্যেই রেজিস্ট্রারের চুক্তি বাতিল করে নতুন রেজিস্ট্রার নিয়োগ দেবে।
এ বিষয়ে কর্মকর্তা মো. তরিকুল ইসলামের কাছে ঘটনা সম্পর্কে জানকে চাইলে তিনি জানান, আমি মিটিংয়ে ছিলাম। তবে আমাদের যে মিটিং হয়েছে, তা অন্য বিষয়ে। রেজিস্ট্রারের বিষয়ে কোনো মিটিং হয়নি। এ বিষয়ে আমি কিছু জানি না বা বলারও এখতিয়ার নেই। আপনি উপাচার্যের কাছে শুনতে পারেন।
এ বিষয়ে জানতে বেরোবি উপাচার্যের নম্বরে একাধিকবার ফোন করা হলে ফোন রিসিভ করেন তার ব্যক্তিগত সচিব (পিএস) মো. খাইরুল ইসলাম। তিনি জানান, উপাচার্য স্যার ব্যস্ত আছেন মিটিংয়ে। কখন শেষ হবে জানতে চাইলে তিনি জানান, কখন শেষ হবে বলা মুশকিল। তবে অনেক সময় লাগবে।
রিপন শাহরিয়ার/এসএইচএ