ইবিতে নিয়মবহির্ভূত অর্থ আদায়, আর্থিক চাপে শিক্ষার্থীরা

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে (ইবি) সনদপত্র, নম্বরপত্র ও ফল প্রকাশের তারিখের সনদ উত্তোলনের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত টাকা নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। প্রশাসনের নির্ধারিত ফির বাহিরে বিভিন্ন বিভাগের একাডেমিক সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে এ টাকা নেওয়া হচ্ছে বলে জানা গেছে। এতে বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষার্থীরা আর্থিক চাপের মধ্যে পড়েছে। এ নিয়ে ক্ষোভ জানিয়েছেন তারা। তবে একাডেমিক সভায় এ বিষয়ে পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলো।
জানা গেছে, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে মূল সনদপত্র উত্তোলনে ৩০০ টাকা, ট্রান্সক্রিপ্টে ৪০০ টাকা, নম্বরপত্রে ১৫০ টাকা এবং ফল প্রকাশের তারিখের সনদে ৭৫ টাকা ফি নির্ধারিত রয়েছে। এসব প্রয়োজনীয় কাগজপত্র উত্তোলনের জন্য সংশ্লিষ্ট বিভাগের সভাপতির স্বাক্ষর প্রয়োজন হয়। তবে কয়েকটি বিভাগের সভাপতিরা প্রতিটি স্বাক্ষরের বিপরীতে অতিরিক্ত ১০০ থেকে ২০০ টাকা করে নিচ্ছেন বলে জানা গেছে। এর ফলে একজন শিক্ষার্থীকে এসব কাগজপত্র উত্তোলনে অতিরিক্ত ৪০০ থেকে এক হাজার টাকা পর্যন্ত গুনতে হচ্ছে। এতে শিক্ষার্থীরা বাড়তি আর্থিক চাপের মুখে পড়ছেন বলে জানান তারা।
অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের অভিযোগ পাওয়া বিভাগগুলো হলো— দাওয়াহ্ অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ, আল-হাদিস অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ, আল-ফিকহ ও লিগ্যাল স্টাডিজ, ফলিত রসায়ন ও কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং, ফলিত পুষ্টি ও খাদ্য প্রযুক্তি, বায়োটেকনোলজি ও জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং এবং কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিভাগগুলোর একাধিক শিক্ষার্থী বলেন, পড়াশোনা শেষ করে শিক্ষার্থীদের অন্যতম চিন্তার বিষয় সার্টিফিকেট উত্তোলন। প্রয়োজনীয় কাগজপত্র উত্তোলনের ফি, অ্যাকাডেমিক ও হলের বাকি থাকা ফি পরিশোধ করতে বড় অ্যামাউন্ট টাকা খরচ করতে হয়। এর মধ্যে যদি নিয়মের বাহিরে গিয়ে বিভাগ আমাদের ওপর অতিরিক্ত টাকা চাপিয়ে দেয়, তা আমাদের জন্য আরও হয়ে পড়ে। বিভাগগুলোর এমন নিয়ম অতিদ্রুত বন্ধ করা উচিত।
এ বিষয়ে আল-কুরআন অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক ড. জালাল উদ্দীন বলেন, এই টাকা অনেক আগ থেকে নেওয়া হচ্ছে। আমরা যখন শিক্ষার্থী ছিলাম তখনো এই টাকা নেওয়া হতো। এটা অ্যাকাডেমিক কাউন্সিলের ইন্টারনাল সিদ্ধান্ত। তবে শিক্ষার্থীদের অভিযোগ থাকলে অ্যাকাডেমিক কাউন্সিলের মিটিংয়ে এ নিয়ে কথা বলবো।
বায়োটেকনোলজি ও জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক ড. এ.কে.এম নাজমুল হুদা বলেন, গবেষাণায় বায়োটেকনোলজি দেশের অন্যতম একটি বিভাগ। তবে এই বিভাগের ল্যাব পরিচালনা নানা বিবিধ খরচ প্রশাসন বহন করে না। বিভাগ ক্লিনারের টাকাও প্রশাসন দিচ্ছে না। তাই শিক্ষার্থীদের থেকে নেওয়া টাকা আমরা বিভাগের এসব কাজে ব্যবহার করি। শিক্ষার্থীরা আপত্তি জানালে এখন থেকে আমরা এ টাকা আর নেব না। এক্ষেত্রে আমাদের বিভাগ পরিচালনা করতে কষ্ট হবে।
এ বিষয়ে ইবির পরীক্ষা নিয়ন্ত্রণ ড. ওলিউর রহমান বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন থেকে সনদ ও ট্রান্সক্রিপ্টের জন্য ৩০০ ও ৪০০ টাকা নির্ধারণ করা আছে। এর বাহিরে বিভাগ অতিরিক্ত টাকা নিলে সেটি সংশ্লিষ্ট বিভাগ জানে কেন নিচ্ছে।
এ বিষয়ে ইবির কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. জাহাঙ্গীর আলমকে একাধিকবার ফোন দিলেও তিনি রিসিভ করেননি।
আরএআর