রোববার রাতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) ফজলুল হক মুসলিম হলের ঘটনায় ফৌজদারি আইনে ছাত্রদলের বিচার চেয়েছে ছাত্রশিবির। ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা চালিয়েছে বলেও অভিযোগ করেছে তারা।
গতকাল (সোমবার) ঢাবির মধুর ক্যান্টিনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ছাত্রশিবিরের ঢাবি শাখার সভাপতি ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) এজিএস মুহা. মহিউদ্দিন খান বলেন, ফজলুল হক মুসলিম হলের সাম্প্রতিক ঘটনাটি ফ্যাসিবাদী সংস্কৃতির পুনরাবৃত্তি।
মহিউদ্দিন খান অভিযোগ করেন, হলের খাবারের মান নিয়ে ফেসবুকে সমালোচনামূলক পোস্ট দেওয়ার পর এক আবাসিক শিক্ষার্থীকে প্রভোস্ট তার কার্যালয়ে ডেকে নেন। সেখানে ওই শিক্ষার্থীর মোবাইল ফোন কেড়ে নিয়ে হলের কয়েকজন কর্মচারীর সহায়তায় তাকে প্রায় দেড় ঘণ্টা আটকে রেখে মানসিকভাবে হেনস্তা ও ভয়ভীতি দেখানো হয়। পরে ছাত্রত্ব ও হলের সিট বাতিল এবং সাইবার মামলার হুমকি দিয়ে তার কাছ থেকে জোরপূর্বক লিখিত বক্তব্যে স্বাক্ষর নেওয়া হয়।
১৬ আগস্ট রাতে প্রভোস্টকে কার্যালয় থেকে বের করে নেওয়াকে কেন্দ্র করে শিবিরের সঙ্গে ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের সংঘর্ষের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা চালিয়েছে। এতে ফজলুল হক মুসলিম হলের ভিপি আবু নাঈম, জিএস ইমামুল হাসান, পাঠকক্ষ সম্পাদক মো. তায়েফসহ কয়েকজন আহত হন। আহতদের মধ্যে কয়েকজনকে হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন।
ছাত্রদলের ভূমিকার সমালোচনা করে মহিউদ্দিন খান বলেন, একজন শিক্ষার্থীর ওপর নির্যাতনের অভিযোগ ওঠার পর ছাত্রসংগঠন হিসেবে ছাত্রদলের উচিত ছিল তার পাশে দাঁড়ানো। কিন্তু তারা একজন প্রভোস্টকে রক্ষার জন্য শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা চালিয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে শিবিরের পক্ষ থেকে চার দফা দাবি তুলে ধরা হয়। দাবিগুলো হলো— ফজলুল হক মুসলিম হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. ইলিয়াস আল মামুনকে প্রশাসনিক দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দিয়ে তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া, শিক্ষার্থীর মোবাইল কেড়ে নেওয়া ও গায়ে হাত তোলার অভিযোগে জড়িত হল কর্মচারীদের চাকরিচ্যুত করা, সিসিটিভি ফুটেজ ও ভিডিও পর্যালোচনা করে শিক্ষার্থীদের ওপর হামলায় জড়িত ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে বিশ্ববিদ্যালয় ও ফৌজদারি আইনে ব্যবস্থা নেওয়া এবং শিক্ষার্থীদের যৌক্তিক দাবির ক্ষেত্রে কোনো ছাত্রসংগঠন যেন পেশিশক্তি প্রয়োগ করে প্রশাসনের পক্ষে কাজ করতে না পারে, সে বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের লিখিত নিশ্চয়তা দেওয়া।
উল্লেখ্য, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফজলুল হক মুসলিম হলের প্রাধ্যক্ষের কক্ষে এক শিক্ষার্থীকে মানসিক নির্যাতন, ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং জোরপূর্বক লিখিত বক্তব্য নেওয়ার অভিযোগ উঠলে গতকাল রাতে প্রাধ্যক্ষের পদত্যাগের দাবিতে কার্যালয় অবরুদ্ধ করা হয়। প্রাধ্যক্ষকে উদ্ধারে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা সেখানে গেলে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে ধাক্কাধাক্কি ও হাতাহাতি হয়। একপর্যায়ে ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের হামলায় হল সংসদের ভিপি আবু নাঈম ও জিএস ইমামুল হাসানসহ অন্তত ছয়জন আহত হন বলে জানিয়েছে ছাত্রশিবির।
সংঘর্ষের ঘটনা তদন্তে পাঁচ সদস্যের কমিটি গঠন করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।
এজেডআর/আরএফ/এনএফ
