কুড়িগ্রামে মামলার ১৮ বছর পর ৮ জনের যাবজ্জীবন

Dhaka Post Desk

জেলা প্রতিনিধি, কুড়িগ্রাম

০৯ মে ২০২২, ০৪:৩২ পিএম


কুড়িগ্রামে মামলার ১৮ বছর পর ৮ জনের যাবজ্জীবন

কুড়িগ্রামের চিলমারীতে হত্যা মামলার দীর্ঘ ১৮ বছর পর ৮ জনের যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড ও ১০ হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে ৬ মাসের কারাদণ্ড দিয়েছেন জেলা জজ আদালত।

সোমবার (৯ মে) দুপুরে মামলার রায় প্রদান করেন জেলা ও দায়রা জজ মো. আব্দুল মান্নান। দণ্ডাদেশপ্রাপ্ত আট আসামিকে রায় শেষে জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

যাবজ্জীবনপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন চিলমারী উপজেলার রানীগঞ্জ ইউনিয়নের কাচকোল এলাকার ঘেতু শেখের ছেলে রাশেদ (৪০), মকবুল হোসেন (৫৪) ও তসলিম উদ্দিন (৫৬), দারাজ উদ্দিনের ছেলে আব্দুল কাদের (৪৩), মতিয়ার রহমানের ছেলে মিন্টু (৪১), মনির উদ্দিনের ছেলে মোসলেম উদ্দিন (৪৪), সেকেন্দার আলীর ছেলে মোনাল মিয়া ওরফে মোন্নাফ (৪৪) এবং ওসমান মিয়ার ছেলে নুরু মিয়া (৫০)।

বিষয়টি ঢাকা পোস্টকে নিশ্চিত করেন সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) অ্যাডভোকেট এস এম আব্রাহাম লিংকন।

আদালত সূত্রে জানা যায়, ২০০৪ সালের ২২ জানুয়ারি কুড়িগ্রামের চিলমারী উপজেলার কাচকোল বাজারে শিক্ষক মোখলেসুর রহমানের ছেলে মুদি ব্যবসায়ী নুরনবীকে (২২) তার দোকানে ১ নং আসামি রাশেদসহ বাকিরা গলায় মাফলার পেঁচিয়ে পূর্বপরিকল্পিতভাবে হত্যা করে।

এর আগে শ্যালো মেশিনে পানি দেওয়াকে কেন্দ্র করে আসামিদের সঙ্গে নিহত নুরনবীর বাগবিতণ্ডা হয়। পরে বিষয়টি স্থানীয়ভাবে মীমাংসা করে দিলেও আসামিরা তাতে সন্তষ্ট ছিল না। এরই জেরে আসামি রাশেদ নুরনবীর সঙ্গে বন্ধুত্ব করে তারই দোকানে পূর্বপরিকল্পিতভাবে হত্যার বিষয়টি মামলার রায়ে উদ্ধৃত করা হয়েছে।

ছেলে হত্যার পর বাবা মোখলেসুর রহমান ৯ জনকে আসামি করে ২০০৪ সালের ২৩ জানুয়ারি চিলমারী থানায় একটি হত্যা মামলা করেন। দীর্ঘ শুনানি ৪৪ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ শেষে জেলা ও দায়রা জজ মো. আব্দুল মান্নান ৮ আসামিকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড ও ১০ হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে আরও ছয় মাসের কারাদণ্ডাদেশ দেন।

আসামিপক্ষে মামলা পরিচালনা করেন অ্যাডভোকেট আমজাদ হোসেন ও অ্যাডভোকেট সামসুদ্দোহা রুবেল। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) অ্যাডভোকেট এস এম আব্রাহাম লিংকন।

মামলার রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করে আব্রাহাম লিংকন বলেন, এতে সত্য উন্মোচিত হয়েছে। আদালত যে দৃষ্টান্ত স্থাপন করল, তাতে এমন অন্যায় কাজ করতে মানুষ দ্বিতীয়বার ভাববে।

মো. জুয়েল রানা/এনএ

Link copied