পুলিশের রান্না করা খাবারে আহার জুটল তাদের

Dhaka Post Desk

জেলা প্রতিনিধি, সিলেট

২০ জুন ২০২২, ১০:৩৩ পিএম


অডিও শুনুন

সিলেটের জৈন্তাপুর উপজেলার পূর্ব গর্দ্দনা গ্রামে প্রবেশ করেছে একটি বড় ইঞ্জিনচালিত নৌকা। খাজার মোকাম উচ্চ বিদ্যালয়ের পাশ দিয়ে নৌকাটি যেতেই হাত নেড়ে ইশারা করতে থাকলেন বিদ্যালয়ে আশ্রয় নেওয়া শতাধিক বানভাসি মানুষ। হাত দিয়ে মুখের দিকে ইশারা করে বুঝাতে চাইলেন তারা কিছু খেতে চান।

নৌকাটি বিদ্যালয়ের পাশে থামতেই ছুটে এলেন কিছু মানুষ। ঠিক তখনই নৌকা থেকে নামলেন সিলেট জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. লুৎফর রহমান। তিনি জানালেন তাদের জন্য রান্না করা খাবার নিয়ে এসেছেন সিলেট জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে। তখন যেন হাফ ছেড়ে বাঁচলেন অনেকেই। কেউ কেউ ধন্যবাদ জানালেন পুলিশ সদস্যদের প্রতি।

বন্যার্তদের জন্য রান্না করে নিয়ে যাওয়া খিচুড়ির হাড়ি নৌকা থেকে নামাতেই মুহূর্তেই লাইন নিয়ে দাঁড়িয়ে যায় কয়েক শ মানুষ। এদের মধ্যে ছিলেন, শিশু, কিশোর, বৃদ্ধ মহিলা থেকে শুরু করে নানা বয়সের নারী-পুরুষ।

রান্না করা খাবার পেয়ে উচ্ছ্বসিত বিদ্যালয়ে আশ্রয় নেওয়া মানুষরা। তারা খাবার খেয়ে ধন্যবাদ জানান সিলেট জেলা পুলিশের প্রতি। সে সময়ে উপস্থিত পুলিশ সদস্য এবং সাংবাদিকদের আবেগ আপ্লুত করে ফেলে বানভাসি মানুষরা।

খাবার খেয়ে আব্দুস সবুর অনেকটা আবেগের সুরে ঢাকা পোস্টেকে বলেন, বাবারে গত দুইদিন থেকে কোন দানাপানি পেটে পড়েনি। কিছু বিস্কুট নিয়ে এখানে এসে আশ্রয় নিয়েছিলাম দুদিন আগে। সেই বিস্কুট খেয়ে গত দুই দিন পার করেছি। আজকে যদি এই খাবার না পেতাম তাহলে যে কি অবস্থা হতো তা আল্লাহই জানেন।

dhakapost

খাজার মোকাম উচ্চ বিদ্যালয়ের এই আশ্রয় কেন্দ্রে আশ্রয় নিয়েছেন ৭৫টি পরিবারের অন্তত তিন শতাধিক মানুষ। হঠাৎ করেই ঘরে পানি প্রবেশ করায় যে যেদিক থেকে পেরেছেন সেদিক থেকে এখানে এসে আশ্রয় নিয়েছেন। গত তিনদিন থেকে এখানে কোন সরকারি বা বেসরকারি ত্রাণ পৌঁছায়নি। এ জন্য স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের দুষছেন সেখানকার আশ্রয় নেওয়া মানুষরা।

বিদ্যালয়টিতে আশ্রয় নেওয়া মানিক মিয়া জানান, তার পরিবারের ১২ জন এখানে আশ্রয় নিয়েছেন। আশ্রয় নেওয়ার পর অনেক জনপ্রতিনিধির সঙ্গে তিনি যোগাযোগ করেন কিন্তু কেউই তার ডাকে সাড়া দেননি।

তিনি জানান, যদি সরকারি ভাবে আমাদেরকে পুনর্বাসন না দেওয়া হয় তাহলে আমরা কোথায় যাব?

খাদিজা খাতুন নামের একজন আশ্রয়গ্রহীতা ঢাকা পোস্টকে বলেন, আমার ঘর দুয়ার সব পানিতে তলিয়ে গেছে। কোনমতে প্রাণ নিয়ে এই আশ্রয় কেন্দ্রে উঠেছি। আমার বাড়িঘর সব পানিতে তলিয়ে গেছে। আমরা কয়েকদিনের ব্যবধানে পুরোপুরি নিঃস্ব হয়ে গেছি।

এ বিষয়ে সিলেট জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোহাম্মদ লুৎফর রহমান ঢাকা পোস্টকে বলেন, সিলেটের নিম্নাঞ্চলের কোন উপজেলার অবস্থায় ভালো না। এসব এলাকার নিম্নবিত্ত থেকে শুরু করে উচ্চবিত্ত সবাই  বন্যা কবলিত। তাদের কাছে চাল-ডালের চেয়ে রান্না করা খাবার এখন বেশি গুরুত্বপূর্ণ। এ সকল এলাকার বেশিরভাগ মানুষই গত দুই তিন দিন থেকে না খেয়ে আছে। আমরা সাধ্যমতো চেষ্টা করছি তাদের পাশে দাঁড়ানোর। বাংলাদেশ পুলিশের সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে ও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে এ সব মানুষের দুঃখ-কষ্ট লাঘবের জন্য যথাযথ প্রচেষ্টা চালানোর জন্য। আমরা আমাদের দায়িত্বটুকু পালন করছি মাত্র আর কিছু না। 

মাসুদ আহমদ রনি/আইএসএইচ

Link copied