বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হলেও নদীভাঙনে দিশেহারা অনেক পরিবার

Dhaka Post Desk

জেলা প্রতিনিধি, কুড়িগ্রাম 

২৫ জুন ২০২২, ০৬:০০ পিএম


বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হলেও নদীভাঙনে দিশেহারা অনেক পরিবার

নদ-নদীর পানি হ্রাস পাওয়ায় কুড়িগ্রামে বন্যা পরিস্থিতির অনেকটাই উন্নতি হয়েছে। তবে নীচু এলাকার ঘর-বাড়ি থেকে এখনো পুরোপুরি পানি নেমে না যাওয়ায় দুর্ভোগ কমেনি এসব এলাকার বন্যাকবলিত মানুষদের। এ ছাড়া এখনো স্বাভাবিক হয়নি যোগাযোগ ব্যবস্থা। এমন অবস্থায় নিজেদের খাদ্য সংকটের পাশাপাশি গবাদিপশুর খাদ্যসংকট নিয়েও চরম বিপাকে পড়েছেন চরাঞ্চলের বন্যাকবলিত এসব পরিবারগুলো। 

বন্যাবন্যাকবলিত এলাকা থেকে পানি নামার সঙ্গে সঙ্গে নদী তীরবর্তী বিভিন্ন অঞ্চলে শুরু হয়েছে ভাঙন। অনেকেই বসতবাড়ি সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছেন। যাদের সামর্থ্য আছে তারা বিভিন্ন উঁচু এলাকায় চলে যাচ্ছেন, তবে নিতান্তই যাদের উপায় নেই, নিয়তিই তাদের একমাত্র ভরসা। 

সদরের যাত্রাপুর ইউনিয়নের ফারাজি পাড়ার বাসিন্দা মর্জিনা বেগম, মুর্শিদা ও দুলালী বেগমের সঙ্গে কথা হলে তারা জানান, এক বছর আগে এই পাড়ার ২০টি পরিবার ভাঙনের শিকার হয়ে তৃতীয় বারেরমতো এই গ্রামে বসতি গড়ে তোলেন। কিন্তু আবারও ভাঙনে এখন দিশেহারা পরিবারগুলো। কী করবেন, কোথায় যাবেন, জানেন না তারা।

dhakapost

কুড়িগ্রামের রাজারহাট উপজেলার বিদ্যানন্দ ইউনিয়নের বুড়ির হাট এলাকার শাহিন বলেন, গত বছর তিস্তার ভাঙনে এখানকার অনেক ঘরবাড়ি নদীতে বিলিন হয়েছে। এ বছরও ভাঙন শুরু হয়েছে। স্থায়ীভাবে তো একটা সমাধান করতে হবে, তাই না ভাই? যখন ভাঙে তখন কাজ করে, এটা কেমন কথা ভাই বলেন? আর সারা বছর কোনো কাজ নাই। আমরা এর স্থায়ী সমাধান চাই।

সদরের যাত্রাপুর ইউনিয়নের (ইউপি) চেয়ারম্যান মো. আব্দুল গফুর বলেন, আমার ইউনিয়নের গারুহাড়া, বানিয়া পাড়া ও ফারাজি পাড়া এলাকায় নদী ভাঙন দেখা দিয়েছে। পানি উন্নয়ন বোর্ড শুধু বানিয়া পাড়ায় কিছু কাজ করেছে। পরবর্তীতে ওই দুটি এলাকায় কাজ করবেন বলে কথা রয়েছে।

dhakapost

এদিকে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্থ তীর রক্ষাবাঁধ ঘুরে দেখেছেন পানি উন্নয়ন বোর্ডের অতিরিক্ত মহাপরিচালক জ্যোতি প্রসাদ ঘোষ। তিনি জানান, ধরলা, দুধকুমার ও ব্রহ্মপুত্র নদী আমি পরিদর্শন করলাম। পরিদর্শন করে আমি যেটা দেখলাম কিছু জায়গায় পানি নেমে যাওয়ার পর ভাঙছে।

আমাদের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী ও বিভাগীয় প্রকৌশলী তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নিয়ে কাজ শুরু করেছেন। আমরা আগাম প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছি, পর্যাপ্ত জিও ব্যাগ কুড়িগ্রাম ও গাইবান্ধায় রয়েছে। যেখানেই ভাঙনের খবর পাওয়া যাবে তাৎক্ষণিক সেখানে কাজ করা হবে।

dhakapost

জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, জেলা ৯ উপজেলায় বন্যাকবলিত মানুষের জন্য ৩শ ৩৮ মেট্রিক টন চাল, নগদ ১৬ লাখ ৫০ হাজার টাকা, ১ হাজার প্যাকেট শুকনো খাবার, ১৮ লাখ ৯৫ হাজার টাকার শিশুখাদ্য ও ১৭ লাখ ৭৫ হাজার টাকা গো-খাদ্য বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে, যার বিতরণ কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

জুয়েল রানা/আরআই

টাইমলাইন

Link copied