নড়াইলে অধ্যক্ষ লাঞ্ছনার ঘটনায় তদন্ত প্রতিবেদন জমা

Dhaka Post Desk

জেলা প্রতিনিধি

নড়াইল

০৩ জুলাই ২০২২, ০২:১১ এএম


নড়াইলে অধ্যক্ষ লাঞ্ছনার ঘটনায় তদন্ত প্রতিবেদন জমা

নড়াইলে অধ্যক্ষকে লাঞ্ছনার ঘটনায় তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিয়েছে কমিটি। শনিবার (২ জুলাই) রাতে তদন্ত কমিটির প্রধান অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট জুবায়ের হোসেন চৌধুরী জেলা প্রশাসক মো. হাবিবুর রহমানের কাছে প্রতিবেদনটি হস্তান্তর করেন।

এর আগে অধ্যক্ষ স্বপন কুমার বিশ্বাসকে গলায় জুতার মালা পরানোসহ শিক্ষকদের তিনটি মোটরসাইকেল পোড়ানোর ঘটনায় দুটি পৃথক তদন্ত কমিটি গঠন করেন নড়াইল জেলা প্রশাসক ও জেলা পুলিশ সুপার। অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট জুবায়ের হোসেন চৌধুরীকে প্রধান করে জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা এস এম সায়েদুর রহমান ও সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শওকত কবিরের সমন্বয়ে তিন সদস্য বিশিষ্ট কমিটি গঠন করেন জেলা প্রশাসক।

তদন্ত কমিটির প্রধান অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট জুবায়ের হোসেন চৌধুরী ঢাকা পোস্টকে বলেন, ১৮ জুন নড়াইল সদরের মির্জাপুর ইউনাইটেড ডিগ্রি কলেজের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনায় গঠিত তদন্ত প্রতিবেদন জেলা প্রশাসকের কাছে জমা দেওয়া হয়েছে। আদালতে বিচারকার্য চলমান থাকায় প্রতিবেদনে কারা জড়িত বা কাদের নাম এসেছে সেটা বলা সম্ভব নয়।

সদর উপজেলার মির্জাপুর ইউনাইটেড ডিগ্রি কলেজের শিক্ষার্থী রাহুল দেব রায় গত ১৭ জুন রাতে তার নিজস্ব ফেসবুক আইডিতে ভারতের বিতর্কিত বিজেপি নেত্রী নুপুর শর্মাকে নিয়ে ইতিবাচক পোস্ট করেন। ১৮ জুন কলেজের অন্য শিক্ষার্থীরা বিষয়টি জানতে পেরে তাকে পোস্টটি মুছে ফেলার অনুরোধ করেন। রাহুল তার পোস্টটি না মুছে অন্য শিক্ষার্থীদের সঙ্গে বাগবিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়েন।

শিক্ষার্থীরা বিষয়টি কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ স্বপন কুমার বিশ্বাসকে জানান। একপর্যায়ে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ কলেজের সব শিক্ষকদের পরামর্শে রাহুলকে পুলিশের হাতে তুলে দেওয়ার চেষ্টা করেন। এরই মধ্যে শিক্ষার্থীসহ স্থানীয়রা বিক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন। একপর্যায়ে কলেজ চত্বরে থাকা শিক্ষকদের তিনটি মোটরসাইকেল পুড়িয়ে দেন তারা। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ লাঠিচার্জসহ কয়েক রাউন্ড টিয়ার শেল ছোড়ে। ঘটনার সময় অন্তত ১০ জন ছাত্র-জনতা আহত হন।

এদিকে অভিযুক্ত ছাত্রের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা না নেওয়ার অভিযোগ এনে বিক্ষুব্ধ জনতা ঘটনার দিন ১৮ জুন বিকেলে কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ স্বপন কুমার বিশ্বাস এবং শিক্ষার্থী রাহুল দেব রায়কে গলায় জুতার মালা পরিয়ে প্রতিবাদ জানান। জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপার ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে দোষীদের আইনের আওতায় আনার আশ্বাস দিলে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়।

এদিকে স্বপন কুমার বিশ্বাসকে গলায় জুতার মালা পরানোসহ শিক্ষকদের তিনটি মোটরসাইকেল পোড়ানো এবং পুলিশের কাজে বাধা দেওয়ার ঘটনায় ১৮০ জনকে আসামি করে মির্জাপুর পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ এসআই মুরসালিন বাদী হয়ে গত ২৭ জুন মামলা করেন। 

এর মধ্যে  ভিডিও ফুটেজ দেখে ঘটনার সঙ্গে জড়িত চার আসামিকে পুলিশ আটক করেছে। তাদের নাম- রহমতুল্লাহ বিশ্বাস রনি (২২) মোবাইল ফোনের মেকার শাওন (২৮), অটোচালক রিমন (২২) এবং মাদরাসা শিক্ষক মনিরুল ইসলাম (২৭)।

পুলিশ সুপার প্রবীর কুমার রায় ঢাকা পোস্টকে বলেন, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. রিয়াজুল ইসলামকে প্রধান করে গঠিত তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন অতি দ্রুত হাতে পাব।

এমএইচএস

Link copied