‘তেলের দাম না কমালে আমাদের পথে বসতে হবে’

Dhaka Post Desk

খান নাঈম, বরগুনা

১০ আগস্ট ২০২২, ০৪:২৬ পিএম


‘তেলের দাম না কমালে আমাদের পথে বসতে হবে’

একদিকে জ্বালানি তেলের লাগামহীন মূল্যবৃদ্ধির কারণে ব্যয় হচ্ছে বাড়তি টাকা, তার মধ্যে লঘুচাপের ফলে সাগরে টিকতে পারছেন না জেলেরা। ফলে মাছ না ধরেই ফিরে আসতে হচ্ছে তাদের। এ যেন ‘মড়ার উপর খাঁড়ার ঘা’ হয়ে দাঁড়িয়েছে বরগুনার উপকূলীয় জেলেদের।

বুধবার (১০ আগস্ট) পাথরঘাটা মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রে দেখা যায়, সাগর উত্তাল থাকায় শত শত ট্রলার ইতোমধ্যে ঘাটে নোঙর করেছে। কিছু ট্রলার ঘাট-সংলগ্ন খালে নোঙর করা হয়েছে। তবে কোনো ট্রলারে সামান্য মাছ থাকলেও অধিকাংশ ট্রলারই মাছ ছাড়া ফিরেছে।

গত ৫ আগস্ট রাতে সরকার দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ দাম বাড়িয়েছে জ্বালানি তেলের। এতে ব্যয় বেড়ে গেছে সব জায়গায়। তেমনি সাগরে ট্রলার পাঠাতেও হিমশিম খাচ্ছেন উপকূলের ট্রলার-মালিকরা।

সর্বশেষ আবহাওয়া পরিস্থিতি নিয়ে আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মোংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দরগুলোকে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্কসংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে।

সাগর থেকে ফিরে আসা জেলেরা জানান, তারা কয়েক দিন আগে সাগরে যান। সাগর উত্তাল থাকায় তীরে ফিরে আসেন। অনেক ট্রলার আবার সুন্দরবনের বিভিন্ন এলাকায় আশ্রয় নিয়েছে। যখন সাগর শান্ত হবে, তখন আবার যাবেন। কিন্তু জ্বালানি তেলের দাম বাড়ায় অনেক ট্রলার সাগরে যাবে কি না, শঙ্কায় রয়েছে বলে জানান তারা।

স্থানীয় জেলে কাদের গোলদার বলেন, আমরা সাগরে ছিলাম, সাগর এখন প্রচুর উত্তাল। কোনো ট্রলারই সাগরে টিকতে পারছে না। তাই ফিরে এসেছি। সাগর উত্তাল হওয়ার আগে দুবার জাল ফেলতে পেরেছি। সামান্য কয়টা মাছ পেয়েছি। এগুলো বিক্রি করলে তেল খরচও উঠবে না। তেলের দাম না কমালে আমাদের পথে বসতে হবে।

ট্রলার-মালিক আবদুস সোবহান বলেন, তিন-চার দিন আগে চাল, ডাল কিনে দিয়ে সাগরে ট্রলার পাঠিয়েছি। এর পরপরই আবহাওয়া খারাপ হতে থাকে। তাই মাছ না ধরেই ফিরে আসে জেলেরা। এর মধ্যে অসহনীয় পর্যায়ে তেলের দাম বেড়েছে। পুরো ট্রিপটাই লস হয়ে গেল। তেলের দাম না কমালে সীমিত আয়ের অনেকেই সাগরে ট্রলার পাঠাতে পারবে না।

জেলা মৎস্যজীবী ট্রলার মালিক সমিতির সভাপতি গোলাম মোস্তফা চৌধুরী বলেন, লঘুচাপ সৃষ্টি হওয়ায় ৩ নম্বর সংকেত জানিয়েছে আবহাওয়া অফিস। ইতিমধ্যে সাগরে মাছ ধরতে যাওয়া সব ট্রলার ঘাটে ফিরেছে। কিছু ট্রলার সুন্দরবনের বিভিন্ন এলাকায় আশ্রয় নিয়েছে। বাকি ট্রলারগুলো বিএফডিসি ঘাট ও আশপাশের খালে নোঙর করেছে।

তিনি আরও বলেন, একদিকে তেলের মূল্যবৃদ্ধি, অন্যদিকে খারাপ আবহাওয়া। দুইয়ে মিলে জেলে-মালিকরা হিমশিম খাচ্ছেন। লাখ টাকার বাজার করে একেকটি ট্রলার সাগরে পাঠানো হচ্ছে। মাছ না নিয়েই ফিরে আসছে। তেলের দাম অসহনীয়। এ সময় জ্বালানি তেলের দাম না কমালে বিপদ হয়ে যাবে।

উল্লেখ্য, উড়িষ্যা উপকূল ও তৎসংলগ্ন এলাকায় অবস্থানরত স্থল নিম্নচাপটি পশ্চিম দিকে অগ্রসর হয়ে সুস্পষ্ট লঘুচাপ আকারে বর্তমানে ভারতের ছত্তিশগড় ও তৎসংলগ্ন এলাকায় অবস্থান করছে। এটি আরও উত্তর-পশ্চিম দিকে অগ্রসর হতে পারে। এর প্রভাবে উত্তর বঙ্গোপসাগর ও বাংলাদেশের উপকূলীয় এলাকায় বায়ুচাপের পার্থক্যের আধিক্য বিরাজ করছে। সমুদ্রবন্দরগুলো, উত্তর বঙ্গোপসাগর ও বাংলাদেশের উপকূলীয় এলাকায় ঝোড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে।

এনএ

Link copied