লালমনিরহাটে পুলিশের সামনেই রাম দা নিয়ে আ.লীগের মিছিল

Dhaka Post Desk

জেলা প্রতিনিধি, লালমনিরহাট

২৬ নভেম্বর ২০২২, ১১:০০ পিএম


লালমনিরহাটে পুলিশের সামনেই রাম দা নিয়ে আ.লীগের মিছিল

লালমনিরহাটের আদিতমারী উপজেলা আওয়ামী লীগের শতাধিক নেতাকর্মী প্রকাশ্যে রাম দা হাতে নিয়ে পুলিশের সামনেই মিছিল করেছেন। এ সময় আওয়ামী লীগের দুই গ্রুপের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। এতে পুলিশসহ দুই গ্রুপের অন্তত ৩০ জন আহত হয়েছেন।

শনিবার (২৬ নভেম্বর) বিকেলে উপজেলার ভাদাই গিরিজা শংকর উচ্চ বিদ্যালয়ের মাঠে এ ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ তিনটি সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে। 

পুলিশ ও স্থানীয়রা জানান, দীর্ঘ ১২ বছর পর গত ৮ অক্টোবর উপজেলা আওয়ামী লীগের ত্রি-বার্ষিক সম্মেলনের আয়োজন করে উপজেলা আওয়ামী লীগ। সম্মেলনে আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য শাজাহান খান প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। প্রথমার্ধের আলোচনা সভা শেষে আগের কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণা করে দ্বিতীয় অধিবেশন শুরু হয়।  

দ্বিতীয় অধিবেশনে সভাপতি-সম্পাদক পদে একাধিক প্রার্থী থাকায় সমঝোতা করতে ব্যর্থ হন কেন্দ্রীয় নেতারা। মূলত সমাজকল্যাণ মন্ত্রী নুরুজ্জামান আহমেদ ও ব্যবসায়ী-শিল্পপতিদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআইয়ের সাবেক পরিচালক জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি সিরাজুল হকের মধ্যে দ্বন্দ্ব দেখা দেয়। পরে দুই গ্রুপকে একত্রিত করে সমাজকল্যাণ মন্ত্রী গ্রুপের মোহাম্মদ আলীকে সভাপতি এবং সিরাজুল হকের গ্রুপের ছাত্রনেতা কমলাবাড়ি ইউপি চেয়ারম্যান মাহমুদ ওমর চিশতিকে সম্পাদক করার প্রস্তাব দিয়ে কমিটি ঘোষণা না করেই সম্মেলন স্থগিত করা হয়।
 
এর প্রায় দেড় মাস পর জেলা আওয়ামী লীগের সম্মতিতে কমিটি ঘোষণা করা হয়। নতুন কমিটি নিয়ে বিএনপি ও জামায়াতের নৈরাজ্যের প্রতিবাদ জানিয়ে উপজেলা আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা বিক্ষোভ মিছিলের ডাক দেন। মিছিলে জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট মতিয়ার রহমানের নেতৃত্ব দেন। মিছিল শেষে নেতাকর্মীদের মাঠে নিয়ে আসার পথে আওয়ামী লীগের দুই গ্রুপের নেতাকর্মীদের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। এ সময় নেতাকর্মীরা প্রকাশ্যে রাম দা নিয়ে বিক্ষোভ মিছিল করেন। 

dhakapost

পরে লালমনিরহাট বুড়িমারী মহাসড়ক হয়ে আওয়ামী লীগ অফিসের কার্যালয়ে গেলে কমলাবাড়ি ইউপি চেয়ারম্যান মাহমুদ ওমর চিশতি ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মোহাম্মদ আলীর নেতাকর্মীদের মধ্যে আবারও ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া শুরু হয়। দুই পক্ষেরই ৩০ জন নেতাকর্মী আহত হন। এছাড়াও সাংবাদিকসহ পুলিশের তিনজন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।

উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক রফিকুল আলম বলেন, কমলাবাড়ি ইউপি চেয়ারম্যান মাহমুদ ওমর চিশতি পথ না পেয়ে পাগলের মত সন্ত্রাসী ভাড়া করে আমাদের ওপর হামলা চালিয়েছে। তাছাড়াও তারা দীর্ঘদিন থেকে সন্ত্রাসী কার্যক্রম চালাচ্ছেন। আমাদের আওয়ামী লীগে তারা নেই। সম্মেলনের সময় লাঠিসোটা নিয়ে উপস্থিত হয়েছিল। পরে তাদের কারণেই সেটি স্থগিত করা হয়েছিল। এই বিক্ষোভ মিছিলে আমাদের কেউ দেশীয় অস্ত্র নিয়ে মিছিল করেনি। 

এ বিষয়ে জানতে একাধিকবার কমলাবাড়ি ইউপি চেয়ারম্যান মাহমুদ ওমর চিশতিকে ফোন করলেও তিনি রিসিভ করেননি। 

আদিতমারী থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোক্তারুল ইসলাম বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ মোতায়েন করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করা হয়েছে। এ সময় তিনটি সাউন্ড গ্রেনেড ছুড়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করা হয়। দুই গ্রুপকেই ছত্রভঙ্গ করে দেওয়া হয়েছে। 

নিয়াজ আহমেদ সিপন/আরএআর

Link copied