দুই গ্রুপের সংঘর্ষ, বক্তাবলী ইউনিয়ন আ.লীগের সম্মেলন স্থগিত

Dhaka Post Desk

জেলা প্রতিনিধি

নারায়ণগঞ্জ

২৬ নভেম্বর ২০২২, ১১:৫২ পিএম


দুই গ্রুপের সংঘর্ষ, বক্তাবলী ইউনিয়ন আ.লীগের সম্মেলন স্থগিত

নারায়ণগঞ্জের বক্তাবলী আওয়ামী লীগের সম্মেলন ঘিরে সংঘর্ষে জড়ায় ইউনিয়নে সভাপতি পদ প্রত্যাশীদের অনুসারী দুই গ্রুপ। এসময় জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগের কমিটিতে থাকা দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতারা শত চেষ্টা করেও তাদের থামাতে পারেননি। ফলে নিরাপত্তাহীনতার কারণে স্থগিত করা হয়েছে বক্তাবলী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সম্মেলন।

ফতুল্লা থানা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মো. শওকত হোসেন শনিবার (২৬ ডিসেম্বর) সন্ধ্যায় ঢাকা পোস্টকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, নারায়ণগঞ্জ শহরের খুব কাছের এই ইউনিয়নটি বুড়িগঙ্গা আর ধলেশ্বরী নদীর কারণে মূল ভূখণ্ড থেকে বিচ্ছিন্ন। সর্বশেষ ২০০৩ সালে সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছিল। দীর্ঘ ২০ বছরের মাথায় আবারও সম্মেলন অনুষ্ঠিত হচ্ছিল। তাই সম্মেলনকে কেন্দ্র করে ওই ইউনিয়নের আওয়ামী লীগ নেতারা বেশ উৎসাহ আর উদ্দীপনার মধ্যে ছিলেন। বিকেল থেকে শুরু হওয়া সম্মেলনে নেতাকর্মীদের উপস্থিতিও ছিল চোখে পড়ার মতো। ফতুল্লা থানা ও জেলা থেকে বক্তাবলী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সম্মেলনে গিয়েছিলেন কাউন্সিলর ও তৃণমূলের দলীয় নেতাকর্মীরা।

জানা যায়, বক্তাবলী ইউনিয়নে সভাপতির দৌড়ে এগিয়ে ছিলেন সাবেক সভাপতি ইব্রাহীম প্রধানের ছেলে আবুল হোসেন প্রধান। সম্মেলনে কাউন্সিলররা ভোট দিচ্ছিলেন। এসময় আবুল হোসেন ভোটের দিক থেকে এগিয়ে থাকায় আরেক সভাপতি পদপ্রার্থী শফিক মাহমুদের লোকজন তাদের উদ্দেশ করে উসকানিমূলক কথাবার্তা বলে সংঘর্ষে জড়ায়। এসময় জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আবু হাসনাত শঞীদ মোহাম্মদ বাদল (ভিপি বাদল) ও ফতুল্লা থানা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং বক্তাবলী ইউপি চেয়ারম্যান শওকত হোসেন দুই পক্ষকে নিবৃত করার চেষ্টা করেও ব্যর্থ হন। পরে পরিস্থিতি বিবেচনা করে সম্মেলন স্থগিতের নির্দেশ দেন তারা।

ফতুল্লা থানা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মো. শওকত হোসেন ঢাকা পোস্টকে বলেন, সম্মেলন যথাসময়ে শুরু হয়ে ঠিকঠাক চলছিল। কিন্তু একটি পক্ষের উচ্ছৃঙ্খলার কারণে সম্মেলন স্থগিত করা হয়েছে। এখানে যেকোনো মুহূর্তে বড় ধরনের অঘটন ঘটতে পারত। তারা খুব বেশি বাড়াবাড়ি করে ফেলেছে।

তিনি বলেন, আমিসহ দলের সিনিয়র নেতারা তাদের নিবৃত করার চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়েছি। তাই বাধ্য হয়ে সম্মেলন স্থগিতের সিদ্ধান্ত নিয়েছি। এখানে সভাপতি প্রার্থী শফিক মাহমুদ নিশ্চিত পরাজয় জেনে তার অনুসারীদের লেলিয়ে দিয়ে সম্মেলন পণ্ড করতে মুখ্য ভূমিকা পালন করেছেন। তার অনুসারীদের দিয়ে কাজগুলো করানো হয়েছে বলে এখানে উপস্থিত সব ডেলিগেট ও কাউন্সিলররা মনে করছেন।

আবির শিকদার/এসএসএইচ/

Link copied