দেশের বাইরে থেকেও ফরিদপুরে পুলিশের মামলার আসামি তারা

Dhaka Post Desk

জেলা প্রতিনিধি, ফরিদপুর

০১ ডিসেম্বর ২০২২, ১০:৪৬ পিএম


দেশের বাইরে থেকেও ফরিদপুরে পুলিশের মামলার আসামি তারা

গোলাম রব্বানী ভূইয়া ও সেলিম হোসেন

ফরিদপুরে সরকারি কাজে বাধা, পুলিশের ওপর হামলা এবং বিস্ফোরক আইনের বিভিন্ন ধারায় অভিযোগ এনে বিএনপি নেতাকর্মীদের আসামি করে মামলা করেছে পুলিশ। গতকাল বুধবার (৩০ নভেম্বর) রাতে ফরিদপুর কোতোয়ালি থানা পুলিশের উপ-পরিদর্শক (এসআই) মাহাবুল করিম বাদী হয়ে জেলা ও মহানগর বিএনপির৩১ জন নেতাকর্মীর নাম উল্লেখ করে মামলা করেছেন। আসামিদের মধ্যে দুইজন বর্তমানে বিদেশে অবস্থান করছেন।

এরা হলেন- মামলার ২১ নম্বর আসামি গোলাম রব্বানী ভূইয়া ওরফে রতন (৪৮) ও ১৮ নম্বর আসামি মো. সেলিম হোসেন ওরফে ভিপি সেলিম (৪৫)। এদের মধ্যে গোলাম রব্বানী ভূইয়া শহরের টেপাখোলা মহল্লার এলাকার বাসিন্দা মৃত আব্দুল লতিফ ভূইয়ার ছেলে। তিনি বিবাহিত এবং এক ছেলে ও এক মেয়ের বাবা। গোলাম রব্বানী ফরিদপুর মহানগর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক। 

আর সেলিম হোসেন ফরিদপুর সদরের গেরদা ইউনিয়নের আব্দুল খালেক বাজার এলাকার মৃত আব্দুল খালেকের ছেলে। তিনি বিবাহিত এবং এক মেয়ে ও এক ছেলের বাবা। সেলিম ফরিদপুর সরকারি রাজেন্দ্র রাজেন্দ্র কলেজ ছাত্র সংসদের সহ-সভাপতি ছিলেন। এছাড়া তিনি জেলা ছাত্রদলের সহ-সভাপতি হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন।

জানা গেছে, গতকাল বুধবার বিকেলে ফরিদপুর প্রেসক্লাব চত্বরে বিএনপির বিক্ষোভ সমাবেশে হামলা করা হয়।  ছাত্রলীগ-যুবলীগের নেতাকর্মীরা হামলা ও ককটেল বিস্ফোরণ ঘটিয়ে সমাবেশটি পণ্ড করে দেন বলে অভিযোগ বিএনপি নেতাদের। এতে পাঁচ পুলিশ সদস্য ও বিএনপির ৯ নেতাকর্মী আহত হন। এ ঘটনায় রাতে মামলা করে পুলিশ।

আসামি গোলাম রব্বানী ভূইয়ার স্ত্রী ফাতেমা ফারহানা জানান, গোলাম রব্বানী গত ২৯ নভেম্বর রোটারি ক্লাবের এক সম্মেলনে যোগ দিতে দুবাই গেছেন। আগামী ১০ ডিসেম্বর তার দেশে ফেরার কথা। ৩০ নভেম্বর তিনি দেশে ছিলেন না। তবুও পুলিশ তাকে মামলার আসামি করেছে।

সেলিমের বড় ভাই ফরিদপুর সদরের গেরদা ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য মো. আরিফ হোসেন বলেন, সেলিমের ছেলের বয়স ছয় মাস। ছেলের হার্টে ছিদ্র ধরা পড়েছে। এর জন্য এক সপ্তাহ আগে সেলিম তার ছেলেকে নিয়ে চিকিৎসার জন্য ভারতের চেন্নাইতে গেছেন। চিকিৎসা করিয়ে ফিরতে তার আরও কয়েকদিন সময় লাগবে। বিএনপি ৩০ নভেম্বর যে প্রোগ্রাম করেছে প্রেসক্লাবে তাতে আমার ছোট ভাই উপস্থিত ছিলেন না। তবুও তার নাম কেন আসল বুঝতে পারছি না।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ফরিদপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অপরাধ) মোহাম্মদ ইমদাদ হোসাইন বলেন, এমনটি হওয়ার কথা নয়। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে।

জহির হোসেন/আরএআর

Link copied