ঝালমুড়ি বিক্রি করতে হবে না সুমনের, আবার যেতে পারবে স্কুলে 

Dhaka Post Desk

জেলা প্রতিনিধি, সিরাজগঞ্জ

০৬ ডিসেম্বর ২০২২, ০১:৪৭ পিএম


ঝালমুড়ি বিক্রি করতে হবে না সুমনের, আবার যেতে পারবে স্কুলে 

সুমন ও তার বাবার সঙ্গে দ্যা বার্ড সেফটি হাউজের চেয়ারম্যান

আর সংসারের বোঝা মাথায় নিয়ে ঝামলমুড়ি বিক্রির জন্য এক গ্রাম থেকে আরেক গ্রামে ছুটে যেতে হবে না ১৩ বছরের শিশু সুমনকে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেইসবুকের কল্যাণে সুমন ও তার পরিবারে মুখে ফুটেছে তৃপ্তির হাসি। এখন সুমন ফিরবে স্কুলে আর তার অসুস্থ বাবা চালাবে মুদি দোকান।

সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জ উপজেলার এরান্দহ গ্রামের জাহাঙ্গীর আলমের ছেলে সুমন। ফেইসবুকের মাধ্যমে টাকা সংগ্রহ করে দ্যা বার্ড সেফটি হাউজের চেয়ারম্যান মামুন বিশ্বাস সোমবার (৫ ডিসেম্বর) সন্ধ্যায় সুমন ও তার পরিবারের হাতে তুলে দিয়েছেন রঙ্গিন টিনের তৈরি মুদি দোকান, পরিবারের সদস্যদের জন্য পোশাক, খাদ্যসামগ্রী ও নগদ টাকা।

সুমন স্থানীয় বিদ্যালয়ের সপ্তম শ্রেণির ছাত্র। সুমনসহ এগারো বছরের ছোট বোন জাহিদা, এগারো মাসের ভাই এরফান, অসুস্থ বাবা জাহাঙ্গীর আলম ও বধির মা সীমা খাতুন এই পাঁচজন নিয়ে তাদের সংসার। সুমনের বাবা জাহাঙ্গীর আলমের ৭ মাস আগে এক আঘাতে পা ভেঙে যায়। অনেক চিকিৎসা করেও এখনো সুস্থ হতে পারেননি। তখন বাধ্য হয়ে অভাবের সংসারের হাল ধরে সুমন। সে গ্রামে গ্রামে ভারি বোঝা মাথায় নিয়ে ঝালমুড়ি বিক্রি করত। এ সময় তার পড়াশোনা প্রায় বন্ধ হয়ে যায়।

স্থানীয়রা জানান, পাঁচজনের পরিবার চালাতে সুমন বাধ্য হয়েই ঝালমুড়ি বিক্রি শুরু করে। এই পরিবারের অভাব দেখে গ্রাম থেকে কিছু দিন সবাই মিলে তাদের চাল তুলে পর্যন্ত দেওয়া হয়েছে।

দ্য বার্ড সেফটি হাউজের চেয়ারম্যান মামুন বিশ্বাস ঢাকা পোস্টকে বলেন, সুমনের বিষয়টি জানার পরে খুব খারাপ লাগে। তখন তাদের একটু সাহায্যের জন্য ফেইসবুকে পোস্ট দেই এবং ফেসবুক থেকে ৭৫ হাজার টাকা সংগ্রহ হয়। সেই টাকা দিয়েই সবকিছু তুলে দেওয়া হলো। আমি চেয়েছিলাম সুমন আবার স্কুলে ফিরুক, সেই আশাটাও পূরণ হলো। 

তিনি আরও বলেন, এই কৃতিত্ব ফেসবুক বন্ধুদের, এই কৃতিত্ব আপনাদের সবার। আমি চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। তিনি ধন্যবাদ জানান সেচ্ছাসেবক শাহরীয়ার ইমন, রাহুল, আবু হাসান ও স্থানীয় যবুকদের। 

শুভ কুমার ঘোষ/আরকে 

Link copied