বরিশালের ৪ থানায় বিএনপির ৪৩৪ নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে মামলা

Dhaka Post Desk

নিজস্ব প্রতিবেদক, বরিশাল

০৯ ডিসেম্বর ২০২২, ০৯:২৯ পিএম


বরিশালের ৪ থানায় বিএনপির ৪৩৪ নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে মামলা

বরিশাল জেলার চার থানায় ৯ দিনে বিস্ফোরক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে বিএনপির ৪৩৪ নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে মামলা করেছে পুলিশ। এদের মধ্যে মাত্র পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। শুক্রবার (৯ ডিসেম্বর) সন্ধ্যায় সংশ্লিষ্ট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

জানা গেছে, বরিশাল জেলার হিজলা, বাবুগঞ্জ, বাকেরগঞ্জ ও উজিরপুর থানায় এই মামলাগুলো করা হয়। পুলিশের দায়ের করা মামলায় নামধারী সকল আসামিই ওই এলাকার বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মী। 
বিএনপির নেতারা বলছেন, ১০ ডিসেম্বরের ঢাকা বিভাগীয় গণসমাবেশ বানচাল করতে সরকারের নির্দেশে এসব হয়রানিমূলক মামলা করছে পুলিশ।

হিজলা থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইউনুস আলী মিঞা জানান, বৃহস্পতিবার রাতে হিজলা ডিগ্রি কলেজের সামনে দুটি ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনায় এসআই সোহরাফ বাদী হয়ে ২০ জনের নাম উল্লেখ করে এবং ৬৫ জনকে অজ্ঞাত আসামি করে মামলা করেন। 

বাবুগঞ্জ থানার ওসি মাহাবুবুর রহমান জানান, দেহেরগতি ইউনিয়নের ঈশ্বর নারায়ণ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের মাঠে দুটি ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনায় এসআই হান্নান মিয়া বাদী হয়ে ৫৮ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাত ১৫০ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন।

উজিরপুর থানার ওসি মোহাম্মদ কামরুল হাসান জানান, বামরাইল ইউনিয়নের খোলনার মোড়ে ব্যাটারিচালিত গাড়ি ভাঙচুর ও দুটি ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনায় ২৪ নামধারী এবং অজ্ঞাত ২৫ জনের বিরুদ্ধে এসআই শফিকুল ইসলাম বাদী হয়ে মামলা করেছেন। মামলার আসামি জেলা ছাত্রদলের সহ-সভাপতি রাজিব মজুমদার ও জেলা যুবদলের সদস্য সোহান হোসেন ডালিমকে ধামুরা থেকে অভিযান চালিয়ে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। 

অপরদিকে বাকেরগঞ্জ থানার উপপরিদর্শক (এসআই) স্বপন কুমার বাদী হয়ে ২৭ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাত ৬৫ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন। বাকেরগঞ্জ থানা পুলিশের পরিদর্শক (তদন্ত) সত্য রঞ্জন খাসকেল জানান, গত বৃহস্পতিবার (১ ডিসেম্বর) রাত সাড়ে ৮টার দিকে উপজেলা সদরের টিঅ্যান্ডটি মোড় এলাকায় দুটি ককটেল বিস্ফোরণ ঘটে। সেখান থেকে অবিস্ফোরিত ককটেলও উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় দায়ের করা মামলাটির তদন্ত আমি নিজেই করছি। এখন পর্যন্ত তিনজনকে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য মেজবাহ উদ্দিন ফরহাদ বলেন, আওয়ামী লীগ জেনে গেছে তাদের পায়ের নিচে মাটি নেই। ২০১৮ সালের নির্বাচনের আগেও তারা এভাবে হয়রানিমূলক মামলা করেছিল। আর এখন আমাদের ঢাকার কর্মসূচি বানচাল করতে পুলিশ দিয়ে হয়রানিমূলক মামলা করছে। এসব সরকারের সাজানো নাটক। কিন্তু তাতে কাজ হবে না, কারণ জনগণ জেগে উঠেছে।

তিনি বলেন, সমাবেশে যোগ দিতে বরিশাল জেলা থেকে আসা নেতাকর্মীদের মধ্য থেকে এখন পর্যন্ত অর্ধশতাধিক নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এসব নেতাকর্মীর কোনো দোষ নেই। কিন্তু তারপরও তাদের গ্রেপ্তার করা হচ্ছে।  

সৈয়দ মেহেদী হাসান/আরএআর

Link copied