বোরো ধানের ফলনে কৃষকের মুখে হাসি

Dhaka Post Desk

জেলা প্রতিনিধি, সিলেট

০৮ এপ্রিল ২০২১, ১১:০২

বোরো ধানের ফলনে কৃষকের মুখে হাসি

ধান কাটছে কৃষকরা

সিলেটের প্রায় প্রতিটি উপজেলায় চলতি মৌসুমে বোরো ধানের ভালো ফলনে কৃষকের মুখে হাসি ফুটেছে । প্রায় ৬০ শতাংশ জমির ধান পেকে গেছে। পাকা ধান কাটতে শুরু করেছেন কৃষকেরা।

সিলেটের বাওরকান্দি, সামাউরাকান্দি, বাদাঘাট, নীলগ্রাম, বাইশটিলা এলাকার প্রায় ৬০ শতাংশ জমির ধান পেকেছে। পাকা ধানের সোনালী রঙ হাওরের চারদিকে। আনন্দ উৎসবে ধান কাটছেন কৃষকরা।

বুধবার (৭ এপ্রিল) সিলেটের সামাউরাকান্দি হাওরে গিয়ে দেখা যায়, ধান কাটছেন কৃষকরা। ধান কাটার জন্য বাইরে থেকে লোক আনা হয়েছে। এবার বৃষ্টির কারণে ভালোই ফলন হয়েছে। রোদে শরীর দিয়ে ঘাম ঝড়লেও মনের আনন্দে ধান কাটছেন কৃষকরা।

কৃষক ধন মিয়া বলেন, এবার ফলন আরো ভালো হওয়ার কথা ছিল। তবে সময়মতো বৃষ্টি  হলে ফলন আরো ভালো হতো। এরপরেও যে বৃষ্টি হয়েছে তাতে মোটামুটি ভালোই ফলন হয়েছে।

কাঁধে পাকা ধানের বোঝা নিয়ে যাওয়ার সময় হাসি মুখে মঈন উদ্দিন বলেন, প্রতিবছরই ধান কাটার সময় ধন মিয়া ভাই আমাদেরকে খবর দেন। এবারও তার ধান কাটতে এসেছি ।

আসলাম উদ্দিন বলেন, এ বছর ভালোই ধান হয়েছে। ধান কাটার জন্য প্রতিদিন ৫০০ টাকা করে পাচ্ছি।

বাওরকান্দি হাওরের কৃষক জিল্লুর মিয়া বলেন, ফলন ভালোই। পোকার উপদ্রব ছিল না এবার।

একই এলাকার কৃষক ইকরাম আলী বলেন, বোরো ধানের ফলন ভালো হয়েছে। আমার জমির ধান এখনো পাকেনি। দুইচার দিনের মধ্যে পেকে যাবে। 
করোনা ভাইরাসের ঝুঁকি নিয়ে সিলেট সদর উপজেলা কৃষি অফিসের কর্মকর্তরা মাঠে ছিলেন। বিভিন্ন সময় কৃষকদের পরামর্শ দিয়েছেন। প্রাকৃতিক দুর্যোগ না হলে আর কোনো ভয় নেই বলে জানান, উপজেলা কৃষি অফিস।

সিলেট সদর উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, এবার সিলেট সদর উপজেলায় ৫ হাজার ৬৪০ হেক্টরের বেশি জমিতে বোরো চাষ হয়েছে। এর মধ্যে ২৮৬০ হেক্টর জমি হাওড় এলাকার।

এ ব্যাপারে সিলেট সদর উপজেলা কৃষি অফিসার রাকিবুল হাসান বলেন, বোরো ধানের ফলন ভালো হয়েছে। পোকা মাকড়ের উপদ্রব নেই সিলেটে। প্রাকৃতিক দুর্যোগ না হলে মে মাসের শেষ দিকে ধান কাটা শেষ করতে পারবেন কৃষকরা।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর সিলেট জেলা সূত্র  জানায়, সিলেট জেলায় ৮১ হাজার ৯০০ হেক্টর জমিতে বোরো ধানের আবাদ হয়েছে। ৩ লাখ ১২ হাজার মেট্রিকটন চাল উৎপাদনের লক্ষমাত্রা ধরা হয়েছে।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের সিলেট জেলার উপ-পরিচালক মো. সালাহ উদ্দিন বলেন, আমরা আশা করছি লক্ষ্যমাত্রায় পৌঁছতে  পারবো।

তুহিন আহমদ/এমআইএইচ

Link copied