যুবলীগ নেতার দখলে থাকা কোটি টাকার বনভূমি উদ্ধার

Dhaka Post Desk

জেলা প্রতিনিধি, গাজীপুর

২০ এপ্রিল ২০২১, ১৮:১৩


যুবলীগ নেতার দখলে থাকা কোটি টাকার বনভূমি উদ্ধার

মাছের খামারটি ভেকু মেশিন দিয়ে ভরাট করে দেয় বন বিভাগ

গাজীপুরে কাইয়ুম সরকার নামে এক যুবলীগ নেতার দখল থেকে কোটি টাকা মূল্যের এক একর বনভূমি উদ্ধার করেছে বন বিভাগ। উদ্ধারকৃত বনভূমিতে মাছের খামার গড়ে তুলেছিলেন তিনি। মঙ্গলবার  (২০ এপ্রিল) সকালে মাছের খামারটি ভেকু মেশিন দিয়ে ভরাট করেছে বন বিভাগ।

ঢাকা বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের গাজীপুরের ভাওয়াল রেঞ্জ কর্মকর্তা মো. মাসুদ রানার নেতৃত্বে উচ্ছেদ অভিযানে উপস্থিত ছিলেন বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) কাজল তালুকদার ও সহকারী বন সংরক্ষক (এসিএফ) শ্যামল কুমার ঘোষ।
 
ভাওয়াল রেঞ্জ কর্মকর্তা মো. মাসুদ রানা জানান, ভবানীপুর বিটে ৪ নম্বর বারুইপাড়া মৌজার সিংড়াতলী এলাকায় সিএস-১৮ নম্বর দাগের ১০০, ১০১, ১১১ ও ১৬০ নম্বর আরএস দাগের বনভূমিতে মাটি খনন করে মাছের খামার করেন গাজীপুর মহানগর যুবলীগের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য কাইয়ুম সরকার ও তার লোকজন। পরে প্রাথমিক পর্যায়ে সীমানা নির্ধারণ ব্যতীত পুকুর খনন কাজে বাধা দেন ভবানীপুর বিট কর্মকর্তা। এতে কর্ণপাত না করে তারা ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে খামারের নির্মাণ কাজ চালিয়ে যান। 

তিনি আরও জানান, ভবানীপুর বিটে স্বল্প জনবল এবং বন দখলকারীদের উশৃঙ্খল আচরণের বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়। পরে বিভাগীয় বন কর্মকর্তার নির্দেশ এবং উপস্থিতিতে উচ্ছেদ অভিযান চালানো হয়। এ ঘটনায় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। 

সহকারী বন সংরক্ষক শ্যামল কুমার ঘোষ জানান, কাইয়ুম সরকার বিগত দিনে বনে ছয়টি পুকুর খনন করেন। সম্প্রতি আরও নতুন তিনটি পুকুর খনন কাজ শুরু করেন। অভিযানের আগে সার্ভেয়ার দিয়ে তার দখলে থাকা এক একর বনভূমি চিহ্নিত করা হয়। পরে উচ্ছেদের প্রথম পর্যায়ে ৫০ শতাংশ বনভূমিতে বিভিন্ন প্রজাতির চারা গাছ রোপণ করা হয়। উদ্ধারকৃত বনভূমির বর্তমান বাজার মূল্য অন্তত এক কোটি টাকা।

অভিযানে অন্যান্যের মধ্যে ঢাকা বন বিভাগের গাজীপুরের শ্রীপুর সদর বিট কর্মকর্তা সজীব কুমার মজুমদার, ভাওয়াল ও জাতীয় উদ্যান রেঞ্জের কর্মকর্তা এবং স্টাফরা উপস্থিত ছিলেন। অভিযানে জয়দেবপুর থানা পুলিশ আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে দায়িত্ব পালন করে।

এ ব্যাপারে যুবলীগ নেতা কাইয়ুম সরকার বলেন, বন বিভাগের অভিযানের কথা শুনেছি। আমি কখনো বন বিভাগের এক শতাংশ জমি দখল করিনি। সরকারি জমি দখলে রাখার প্রশ্নই আসে না। ওই মৌজায় আমার ১৫ বিঘার মতো জমি আছে। আমার জমির সঙ্গে বন বিভাগের জমি রয়েছে। আমার জমির সীমানা নির্ধারণের জন্য দুই বছর ধরে ঘুরছি। বন বিভাগ আমার জমি সীমানা নির্ধারণ করে তাদের কাছ থেকে অবমুক্ত করে দিচ্ছে না। 

শিহাব খান/আরএআর

Link copied