ঝড়ে উড়ে গেছে মমতাজের মাথা গোঁজার ঠাঁই

Dhaka Post Desk

জেলা প্রতিনিধি, নীলফামারী

২৪ এপ্রিল ২০২১, ০৪:০৭ পিএম


ঝড়ে উড়ে গেছে মমতাজের মাথা গোঁজার ঠাঁই

ভাঙা ঘরের সামনে দাঁড়িয়ে আছেন মমতাজ আলী

দিনমজুর মমতাজ আলী। পঞ্চাশোর্ধ্ব বয়সী এই অসহায় ব্যক্তির সংসার চলে জোড়াতালি দিয়ে। একদিন কাজ না করলে চুলায় হাড়ি উঠে না। যেন নুন আনতে পান্তা ফুরানোর ধকল পরিবারজুড়ে।

অভাব-অনটনের মধ্যে থাকা মমতাজের নেই ভিটেমাটি। স্ত্রী-সন্তান নিয়ে অন্যের জমিতে গড়ে তোলা একটা টিনের চালা ঘরই তার মাথা গোঁজার ঠিকানা। কিন্তু কালবৈশাখী ঝড়-বৃষ্টি হানা দিয়েছে সেই একচালা ঘরে। তীব্র বাতাস উড়ে নিয়ে গেছে মমতাজের ঘরের চালা।

বর্তমানে টিনহীন ঘরের বাঁশের তৈরি বেড়াগুলোও খসে পড়ছে। অনেকটাই খোলা আকাশে ভাঙা ঘরে স্ত্রী আর দুই সন্তান নিয়ে দিনরাত কাটছে দিনমজুর মমতাজের।

নীলফামারীর জলঢাকা উপজেলার খুটামারা ইউনিয়নের মাস্টারপাড়া গ্রামে থাকেন মমতাজ আলী। শনিবার (২৪ এপ্রিল) দুপুরে সরেজমিনে গিয়ে মমতাজের মানবেতর জীবনযাপনের এসব তথ্য জানা গেছে।

ভিটেমাটিহীন মমতাজ আলীকে তার মামা সেখানে একটা ঘর করে থাকার ব্যবস্থা করে দিয়েছেন। কিন্তু দীর্ঘ দিন আগে তৈরি করা ঘরটি বসবাসের অনুপযোগী হয়ে উঠে। গেল সপ্তাহের বৈশাখী ঝড়ো বাতাসে আর শিলাবৃষ্টিতে উড়ে গেছে সেই টিনের চালা ঘরটি।

dhakapost
তীব্র বাতাস উড়ে নিয়ে গেছে মমতাজের ঘরের চালা

মমতাজ আলী বলেন, অন্যের ক্ষেতে-বাড়িতে কাজ করে সংসার চালাই। অনেক কষ্টে ধার-কর্জ করে এই ঘরটি করেছিলাম। মায়ের একটি একচালা ঘর ছিল। মা মারা যাওয়ার পর সেটিও ভেঙে গেছে। আশ্রয় নেওয়ার মতো আর কোনো ঘর নেই। এখন খোলা আকাশের নিচে পরিবার নিয়ে বসবাস করতে হবে আমার।

তিনি আরও বলেন, দিনমজুর হিসেবে কাজ করে সংসার চালাতে হয়, দুই মেয়েকে বিয়ে দিয়েছি। আমার আরেকটা মেয়ে আছে।  তার বিয়ে নিয়ে চিন্তায় আছি। ছেলেটা আগে মাদরাসায় থাকত, খেতো; এখন মাদরাসা বন্ধ, বাসায় থাকছে।

মমতাজের বাঁশের তৈরি পুরাতন ঘরটির বেড়াগুলোর নষ্ট হয়েছে অনেক আগেই। ছোট্ট ওই ঘরের দুটি বাঁশের তৈরি চকিতে (খাট) সবাই থাকেন। বাড়িতে উঠানের চুলায় রান্নাবান্না হয়। নিজের কোনো জমি না থাকায় মামার জমিতে ওই একচালা ঘরটি তৈরি করে প্রায় ১৫ বছর ধরে পরিবার নিয়ে সেখানেই আছেন।

মমতাজ আলীর তিন মেয়ের মধ্যে দুই মেয়ের বিয়ে দিয়েছেন। ছোট মেয়ে স্বল্পবুদ্ধি সম্পন্ন হওয়ার পড়াশোনা করেন না। ১০ বছরের একমাত্র ছেলে স্থানীয় একটি হাফিজিয়া মাদরাসায় পড়ে। করোনা পরিস্থিতিতে মাদরাসায় বন্ধ থাকায় দুই ছেলে-মেয়ে এখন মমতাজের সঙ্গেই থাকছেন।

এই দিনমজুর পরিবারের সম্পর্কে স্থানীয় খুটামারা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবু সাঈদ শামীম জানান, বিষয়টি আজ আমি জেনেছি। পরিষদের পক্ষ থেকে তাকে যথাসাধ্য সাহায্য করার চেষ্টা করব।

জলঢাকা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহবুব হাসান ঢাকা পোস্টকে বলেন, মুজিববর্ষে সরকার গৃহহীনদের জন্য পাকা ঘরের ব্যবস্থা করছে। আমরা মমতাজ আলীর পরিবারের বিষয়ে খোঁজখবর নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করব।

মাহমুদ আল হাসান রাফিন/এমএসআর

Link copied