ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় শহীদ মিনারে বিএনপি নেতার হামলার শিকার সাংবাদিক

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগরে সাংবাদিক আব্দুল্লাহ আল মাহমুদকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে। বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত ১২.১৫ মিনিটে উপজেলার কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে ঘটেছে মারধরের এ ঘটনা।
সাংবাদিক আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ দৈনিক কালবেলা ও এনটিভি অনলাইনের নাসিরনগর প্রতিনিধি হিসেবে কর্মরত রয়েছেন।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে ১২টা এক মিনিটে ভাষা দিবস উপলক্ষে শহিদ মিনারে সংবাদ সংগ্রহ করতে যান সাংবাদিক আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ। এ সময় শহীদ মিনারে উপস্থিত ছাত্রদল ও যুবদলের নেতাকর্মীরা জাতীয় নাগরিক কমিটির দুইজনকে ছাত্রলীগ বলে পেটাতে থাকে।
ঘটনাটি মুঠোফোনে ধারণ করতে গেলে উপজেলা বিএনপি ও ছাত্রদলের ১০-১২ জন নেতা কর্মী সাংবাদিকের দিকে তেড়ে আসে।
এসময় সাংবাদিকের মোবাইল কেড়ে নিয়ে প্রথমে রড দিয়ে আঘাত করে, পরে তার ভাতিজারা সহ তার কর্মীরা রড চাপাতিসহ উপর্যুপরি আক্রমণ করে।
মারধরে মাহমুদের মুখ, চোখ, মাথা, ঘারসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর জখম হয়েছে। এক পর্যায়ে অন্যান্য সাংবাদিকসহ নাসিরনগর থানা পুলিশ তাকে উদ্ধার করে নাসিরনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রেরণ করেছে।
নাসিরনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. আবুল বাশার বলেন, “ওনার শরীরের বিভিন্ন অংশে গুরুতর আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। আমরা উনাকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়েছি। আরও কোনো অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে কি না সেটা জানার জন্য পরীক্ষা করা হবে।”
হামলার শিকার সাংবাদিক আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ বলেন, “নাসিরনগর প্রেসক্লাবের সাথে শহীদমিনারে শ্রদ্ধাঞ্জলী জানাতে গিয়েছিলাম। সেখানে জাতীয় নাগরিক কমিটির দুজনকে ছাত্রলীগ বলে পেটানো হচ্ছিল। পেশাগত দায়িত্বের অংশ হিসেবে আমি সেখানে ফুটেজ সংগ্রহ করতে গিয়েছিলাম। হঠাৎ উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক বশির উদ্দিন তুহিনের নেতৃত্বে তার ভাতিজা কে.এম মারজান, কে এম নাসিরসহ ১০-১২ জন ছাত্রদলকর্মী সাংবাদিকের দিকে তেড়ে আসে। উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক দৌড়ে এসে আমার মোবাইল কেড়ে নিয়ে আমার উপর হামলা ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করে। পরে তার ভাতিজারাসহ বশিরের দলীয় অনুসারীরা রড, চাপাতিসহ দেশীয় অস্ত্র দিয়ে আঘাত করতে থাকে।”
এ ঘটনায় উপজেলা বিএনপির সভাপতি এম এ হান্নান ও নাসিরনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খায়রুল ইসলামের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করার চেষ্টা করলে তারা ফোন রিসিভ করেন নি।
মাজহারুল করিম অভি/এসএমডব্লিউ