বিজ্ঞাপন

ছুটি শেষের আগেই

লঞ্চে ব্যাপক ভিড়, ধারণক্ষমতার বেশি পরিবহনের অভিযোগ

লঞ্চে ব্যাপক ভিড়, ধারণক্ষমতার বেশি পরিবহনের অভিযোগ

পবিত্র ঈদুল ফিতরের সরকারি ছুটির শেষ হওয়ার আগেই কর্মস্থলে ফেরার যুদ্ধে নেমেছেন দক্ষিণাঞ্চলের মানুষ। সড়কপথের পাশাপাশি লঞ্চে ব্যাপক ভিড় লক্ষ্য করা গেছে যাত্রীদের। বৃহস্পতিবার (৩ মার্চ) সন্ধ্যায় বরিশাল নদী বন্দর ছিল লোকারণ্য। নির্ধারিত লঞ্চে ধারণক্ষমতার বেশি হওয়ায় হাজারেরও বেশি যাত্রী পন্টুনে থেকে গেছেন। পরে তারা সড়কপথে ঢাকা অভিমুখে যাত্রা করেন।

নদী বন্দরের নোঙর করে রাখা পাঁচটি বিলাসবহুল লঞ্চ ঘুরে দেখা গেছে সবগুলো যাত্রীতে পরিপূর্ণ। এ ছাড়া পন্টুনেও পা ফেলার স্থান ছিল না।

মজিবর রহমান নামে এক যাত্রী বলেন, ভেবেছিলাম ছুটি শেষ হওয়ার আগেই ভিড় এড়িয়ে ঢাকা যাব। কিন্তু বরিশাল নদী বন্দরে আজ বেসামাল অবস্থা। এত যাত্রী একসঙ্গে গত দুই-তিন বছরেও আমি দেখিনি।

তিনি বলেন, প্রতিটি লঞ্চ ধারণক্ষমতার তিন-চারগুণ বেশি যাত্রী নিয়ে ঢাকার উদ্দেশে ছেড়েছে। আমি কোনো লঞ্চে উঠতে পারিনি, তাই বাসে ঢাকা যাব।

dhakapost

আরেক যাত্রী রিয়াদ মাহমুদ বলেন, অনেক কষ্টে পরিবারসহ লঞ্চে উঠেছি। কেবিনের সামনে যেতে আধা ঘণ্টা লেগেছে। আগেই আমাদের কেবিন ঠিক করা ছিল বিধায় ঝক্কিঝামেলা পোহাতে হয়নি। তবে পন্টুনে এত মানুষ এসেছে দেখে ভয় পেয়েছিলাম।

রাবেয়া বেগম নামে এক যাত্রী অভিযোগ করেন, বন্দরে কোনো শৃঙ্খলা নেই। ধাক্কাধাক্কি পারাপারি করে উঠতে হয়েছে। আমার ছেলেটা হাতে ব্যথা পেয়েছে। বন্দর প্রশাসনের উচিত অন্তত ঈদের এই কয়দিনে কড়াকড়ি আরোপ করা।

এমভি মানামী লঞ্চের ব্যবস্থাপক জিয়াউল ইসলাম মঞ্জু বলেন, বরিশাল থেকে কাঙ্ক্ষিত যাত্রী হচ্ছে। আমরা যাত্রীদের ভালো সেবা দিচ্ছি। সামনে আরও দুই-একদিন যাত্রীদের চাপ থাকতে পারে।

বরিশাল নৌ-সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সনাতন চন্দ্র সরকার বলেন, যাত্রীদের নিরাপত্তায় নৌ পুলিশসহ অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কাজ করছে। যেকোনো অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে আমরা তৎপর।

বরিশাল নদী বন্দরের কর্মকর্তা সেলিম রেজা বলেন, ঈদ শেষে কর্মস্থলে ফেরা যাত্রীদের সেবা ও নিরাপত্তায় আমরা কাজ করছি। বর্তমানে যাত্রীর চাপ বেড়েছে। তবে কোনো লঞ্চ যেন ধারণ ক্ষমতার বেশি বা নিয়ম না মেনে যাতায়াত না করে সেদিকে খেয়াল রাখা হচ্ছে।

সৈয়দ মেহেদী হাসান/এসএসএইচ