নাটোরে ডায়রিয়া পরিস্থিতির অবনতি

নাটোরে ডায়রিয়া পরিস্থিতির আরও অবনতি ঘটেছে। গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ১০৭ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এর মধ্যে ৮৮ জন পুরুষ ও ১৯ জন নারী। সব মিলিয়ে বর্তমানে আধুনিক সদর হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যা ২০০ জন ছাড়িয়ে গেছে।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, গত মঙ্গলবার (২ সেপ্টেম্বর) রাত থেকে শহরের ২ নম্বর ওয়ার্ডের ঝাউতলা ও আশপাশের এলাকা থেকে ডায়রিয়ার উপসর্গ নিয়ে রোগীরা হাসপাতালে আসতে শুরু করেন। প্রথম রাতেই ভর্তি হন অন্তত ৩৫ জন। পরদিন বুধবার (৩ সেপ্টেম্বর) সকালে এই সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় ৬৫ জনে। দুপুরের মধ্যে তা আরও বেড়ে ১৪৭ জনে পৌঁছে যায়। বৃহস্পতিবার (৪ সেপ্টেম্বর) সকালে রোগীর সংখ্যা ২০০ ছাড়িয়ে যায়।
সরেজমিনে নাটোর আধুনিক সদর হাসপাতালে ঘুরে দেখা গেছে, হাসপাতালের ডায়রিয়া ওয়ার্ডে উপচে পড়া ভিড়। শয্যার অভাবে অনেকেই মেঝেতে কিংবা করিডরে চিকিৎসা নিচ্ছেন।
আক্রান্ত রোগী ও তাদের স্বজনদের অভিযোগ, নাটোর পৌরসভার সরবরাহকৃত পানি পান করার পর অনেকের পেটে ব্যথা ও পাতলা পায়খানা শুরু হয়। আক্রান্তদের মধ্যে শহরের উত্তর পটুয়াপাড়া, ঝাউতলা ও কাঠালবাড়ি এলাকার বাসিন্দার সংখ্যা সবচেয়ে বেশি।
আনোয়ার হোসেন নামের এক রোগীর অভিভাবক বলেন, আমার ছোট ছেলে হঠাৎ পেট ব্যথা ও পাতলা পায়খানায় আক্রান্ত হয়। প্রথমে বাড়িতে স্যালাইন খাওয়ালেও কোনো উন্নতি হয়নি। পরে হাসপাতালে নিয়ে আসি। এখানে এসে দেখি, একের পর এক মানুষ একই উপসর্গ নিয়ে ভর্তি হচ্ছে।
চিকিৎসাধীন লতিফা বেগম জানান, বুধবার রাতে হঠাৎ তীব্র পেট ব্যথা ও পাতলা পায়খানা শুরু হয়। অবস্থার উন্নতি না হলে দ্রুত হাসপাতালে ভর্তি হই।
এদিকে, হঠাৎ ডায়রিয়ার প্রকোপ বৃদ্ধির কারণ অনুসন্ধানে হাসপাতালের সিনিয়র কনসালট্যান্ট (মেডিসিন) ডা. রবিউল আউয়ালকে প্রধান করে পাঁচ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
নাটোর পৌর প্রশাসক আসমা খাতুন জানান, হঠাৎ ডায়রিয়ার প্রাদুর্ভাব বাড়ায় অতিরিক্ত স্যালাইন ও পানি বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেট সরবরাহ করা হয়েছে। একইসঙ্গে পানি বিশুদ্ধ করে ওইসব এলাকায় সরবরাহের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। ঘটনার প্রকৃত কারণ জানার জন্য বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
নাটোরের সিভিল সার্জন ডা. মুক্তাদির আরেফিন বলেন, রোগীদের সর্বোচ্চ চিকিৎসা নিশ্চিত করতে চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীরা নিরলসভাবে কাজ করছেন। আক্রান্তদের চিকিৎসায় পর্যাপ্ত স্যালাইন ও ওষুধ মজুত রয়েছে। এই প্রাদুর্ভাবের কারণ অনুসন্ধানে আন্তর্জাতিক উদরাময় গবেষণা কেন্দ্র, বাংলাদেশের (আইসিডিডিআরবি) একটি প্রতিনিধি দল নাটোরে আসবে।
এআরবি