হাত নেই বলে মিলছে না এনআইডি, নাগরিক সুবিধা থেকে বঞ্চিত সেই জসিম

জন্ম থেকে দুই হাত নেই, তবুও দমে যাননি ফরিদপুরের অদম্য তরুণ জসিম মাতুব্বর। পা দিয়ে লিখে প্রাথমিক থেকে এইচএসসি পার করে এখন তিনি ফরিদপুর সরকারি রাজেন্দ্র কলেজের ডিগ্রি দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র। পড়ালেখার পাশাপাশি সংসারের খরচ চালাতে হাটে সবজি ও ফল বিক্রি করেন। তবে তার জীবনের কঠিন লড়াইয়ে সবচেয়ে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি)। হাত না থাকায় আঙুলের ছাপ দিতে পারছেন না বলে তিন বছর ধরে আবেদন করেও কার্ড পাননি তিনি।
বিজ্ঞাপন
জসিম মাতুব্বর বলেন, “আমার দুটি হাত নেই, পা দিয়ে লিখে এসএসসি ও এইচএসসি পাস করেছি। এখন আমি সরকারি রাজেন্দ্র কলেজে ডিগ্রি দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র। অনেক সময় বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি কাজে জাতীয় পরিচয়পত্রের দরকার হয়। জাতীয় পরিচয়পত্রের জন্য নির্বাচন কমিশন অফিসে অনেকবার আবেদন করেছি। কিন্তু হাত নেই বলে আঙুলের ছাপ দিতে পারছি না। এই কারণে জাতীয় পরিচয়পত্র হচ্ছে না।”
তিনি জানান, ২০২৩ সাল থেকে নির্বাচন অফিসে ঘুরছেন, কিন্তু কোনো কাজই হয়নি। একাধিকবার অনলাইনে আবেদন করেও কোনো ফল পাননি। ফলে হতাশ হয়ে তিনি হাল ছেড়ে দিয়েছেন। এনআইডি না থাকায় সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন সেবা থেকে বারবার বঞ্চিত হতে হচ্ছে তাকে।
এ বিষয়ে নগরকান্দা উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) শাওন সাগর বলেন, “আমি জসিমের সমস্যা সম্পর্কে জানি এবং এটা নিয়ে কাজ শুরু করেছি।”
বিজ্ঞাপন
নগরকান্দা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) দবির উদ্দিন বলেন, “বিষয়টি নিয়ে নির্বাচন কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলেছি। যাদের দুই হাত নেই, তাদের জাতীয় পরিচয়পত্র প্রদানের জন্য বিকল্প ব্যবস্থা রয়েছে। ইতোমধ্যে আমি সে ব্যবস্থা করে রেখেছি। জসিম মাতুব্বরকে খবর দেওয়া হয়েছে। তিনি উপজেলা পরিষদে এলে তার জাতীয় পরিচয়পত্র প্রদানের প্রক্রিয়া শুরু করা হবে।”
সরকারি রাজেন্দ্র কলেজের অধ্যক্ষ মোহাম্মদ আব্দুল হালিম বলেন, “পা দিয়ে লিখে এগিয়ে যাওয়া জসিমের গল্প অনেকের কাছে শুধু প্রেরণার নয়, সংগ্রামেরও প্রতিচ্ছবি। আমরাও চাই প্রশাসন তাকে একটি জাতীয় পরিচয়পত্রর ব্যবস্থা করে দিক। এটা পেলে জসিম একজন নাগরিক হিসেবে চাকরি, ব্যবসা ও অন্যান্য সকল ক্ষেত্রে সুযোগ-সুবিধা পাবে।”
অভাব-অসুবিধাকে হারিয়ে মানুষের মতো সম্মানের সঙ্গে বাঁচার স্বপ্ন দেখেন জসিম। তিনি আশায় বুক বেঁধে আছেন—একদিন হাতে এনআইডি পেলে আর কোনো সেবায থেকে বঞ্চিত হতে হবে না।
বিজ্ঞাপন
জহির হোসেন/আরকে