অবশেষে জাতীয় পরিচয়পত্র পাচ্ছেন জসিম

জন্ম থেকে দুই হাত নেই ফরিদপুরের নগরকান্দার জসিম মাতুব্বরের (২৬)। পা দিয়েই লিখে এসএসসি ও এইচএসসি পাস করেছেন তিনি। দীর্ঘ ভোগান্তির পর অবশেষে তিনি পেলেন নিজের জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি)।
রোববার (৫ অক্টোবর) বিকেল ৩টা ২০ মিনিটে জসিমের মোবাইলে নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে এনআইডি নিশ্চিতকরণ ম্যাসেজ আসে। এর মাধ্যমে জন্ম থেকেই দুই হাতবিহীন এই তরুণের দীর্ঘদিনের অপেক্ষার অবসান হলো।
১১ দিন আগে, গত ২৪ সেপ্টেম্বর, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) দবির উদ্দিনের উদ্যোগে জসিম মাতুব্বরকে নগরকান্দা উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তার কার্যালয়ে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে তার পায়ের আঙুল দিয়ে স্বাক্ষর ও চোখের আইরিশ সংগ্রহ করা হয়। সেই তথ্য তাৎক্ষণিকভাবে নির্বাচন কমিশনে পাঠানো হয়।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে নগরকান্দা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) দবির উদ্দিন বলেন, জসিমের গল্পটি জানার পর খুবই অনুপ্রাণিত হয়েছিলাম। হাত না থাকা সত্ত্বেও সে নিজের যোগ্যতায় এইচএসসি পাস করেছে। তার মতো একজন মেধাবী তরুণ শুধু এনআইডি না থাকার কারণে যেন পিছিয়ে না পড়ে, সেটিই নিশ্চিত করতে চেয়েছি। কমিশনের দ্রুত পদক্ষেপে আজ সে এনআইডি হাতে পেয়েছে, এটা আমাদের সবার জন্য আনন্দের। তিনি বলেন, আগামীকাল সোমবার (৬ অক্টোবর) সকালে জাতীয় পরিচয়পত্রটি প্রিন্ট করে জসিমের হাতে তুলে দেওয়া হবে।
এনআইডির ম্যাসেজ পাওয়ার পর আবেগাপ্লুত জসিম মাতুব্বর বলেন, জন্ম থেকে দুই হাত না থাকার কারণে অনেক কষ্ট করেছি। বিভিন্ন জায়গায় ঘুরেও পরিচয়পত্র পাইনি। পড়াশোনা, ফর্ম ফিলআপ, পরীক্ষায় অংশ নেওয়া—সব জায়গায় বাধা আসত। আজ নিজের এনআইডি পাওয়ায় মনে হচ্ছে জীবনের বড় একটা অর্জন হলো। ইউএনও স্যার আমার পাশে না দাঁড়ালে এটা সম্ভব হতো না।
প্রসঙ্গত, ফরিদপুরের নগরকান্দা উপজেলার কদমতলী গ্রামের হানিফ মাতুব্বর ও তসিরণ বেগমের ছেলে জসিম পা দিয়ে লিখেই পেরিয়েছেন প্রাথমিক থেকে এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষার গণ্ডি। এখন ফরিদপুর সরকারি রাজেন্দ্র কলেজের ডিগ্রি দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র তিনি। পড়াশোনার পাশাপাশি অভাবের সংসারে নিজের খরচ চালাতে হাটে সবজি আর ফল বিক্রি করেন। কিন্তু জীবনের এই কঠিন লড়াইয়ে সবচেয়ে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছিল জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) না থাকা। হাত না থাকায় আঙুলের ছাপ দিতে না পারায় তিন বছর ধরে আবেদন করেও কার্ড পাননি জসিম। বাবা-মায়ের জাতীয় পরিচয়পত্র এবং নিজের জন্মনিবন্ধন রয়েছে তার কাছে। এনআইডি না থাকায় সরকারি-বেসরকারি সেবার ক্ষেত্রে বারবার বঞ্চিত হতে হয়েছে তাকে।
জহির হোসেন/এমএএস