ওয়াং তাওয়ের সঙ্গে বাংলাদেশি তরুণীর বিয়ে সম্পন্ন

ভালোবাসার কোনো সীমানা নেই—এই কথাটিই যেন সত্য করে দেখালেন চীনের তরুণ ওয়াং তাও ও ব্রাহ্মণবাড়িয়ার তরুণী সুরমা আক্তার। নানা জটিলতা পেরিয়ে অবশেষে সোমবার (৩ নভেম্বর) দুপুরে জেলা ও দায়রা জজ আদালতের নোটারি পাবলিকের মাধ্যমে ইসলামি শরিয়ত ও আইনগত মোতাবেক বিয়ে সম্পন্ন করেন এই আন্তর্জাতিক প্রেমিকযুগল।
ওয়াং তাও চীনের হোয়ানান প্রদেশের ওয়াং ইচাং চাওয়ের ছেলে, আর তার প্রেয়সী সুরমা আক্তার নাসিরনগর উপজেলার কুন্ডা ইউনিয়নের কোনাপাড়া গ্রামের মেয়ে। সুরমা স্থানীয় একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করেন, তার বাবা তাহের মিয়া এলাকার পরিচিত ব্যবসায়ী।
বিয়ে সম্পন্নের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন অ্যাডভোকেট রুকুন উদ্দীন। তিনি বলেন, ওয়াং তাও ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করে নিয়েছেন। আইন অনুযায়ী নোটারি পাবলিকের মাধ্যমে বিয়ে সম্পন্ন হয়েছে। সব নথিপত্র যথাযথভাবে সম্পন্ন করা হয়েছে।

সরজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ভালোবাসার টানে চীন থেকে ওয়াং তাওয়ের নাসিরনগরে আসার বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পরে। আদালত চত্বরে তাকে দেখার জন্য ভিড় জমায় স্থানীয় মানুষ। এমনকি আইনজীবীর টেবিলে বসে থাকা অবস্থায় সেখানকার অনেকেই এসে তার সঙ্গে সেলফি তোলেন। হোয়াং তাও বিষয়টি বেশ উৎসাহ ও আনন্দের সঙ্গে গ্রহণ করেন।
এর আগে, রোববার (২ নভেম্বর) সকালে কাজী অফিসে বিয়ে সম্পন্ন করতে যান ওয়াং তাও ও সুরমা। সেখানে উপস্থিত ছিলেন সুরমা ও তার পরিবারের সদস্যরাও। কিন্তু বিদেশি নাগরিক হিসেবে ধর্ম পরিবর্তন, ভিসার ধরণ ও নাগরিক পরিচয় যাচাইসহ কিছু আইনি জটিলতার কারণে কাজী তখন বিয়ে না পড়ে আদালতের মাধ্যমে বিয়ের পরামর্শ দেন।
কুন্ডা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মো. ওমরাও খান বলেন, বিদেশি নাগরিকের ক্ষেত্রে কিছু বিশেষ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হয়—যেমন ধর্মীয় রূপান্তরের প্রমাণ, ভিসার শ্রেণি, নাগরিক পরিচয়পত্র ইত্যাদি। এজন্য কাজী সাহেব তাদের আদালতের মাধ্যমে বিয়ের পরামর্শ দেন। অবশেষে আজ তারা আদালতে আইনসিদ্ধভাবে বিয়ে করেছেন, যা সম্পূর্ণ বৈধ।
এর আগে, গত শুক্রবার (৩১ অক্টোবর) রাতে ঢাকার হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর দিয়ে বাংলাদেশে আসেন ওয়াং তাও। বিমানবন্দর থেকেই স্বাগত জানিয়ে সুরমার পরিবার তাকে নিয়ে আসে নাসিরনগরের কোনাপাড়ায়। এরপর থেকেই বিদেশি এই বরকে এক নজর দেখতে এলাকাবাসীর ভিড় লেগে যায় সুরমার বাড়িতে।
সুরমা আক্তার বলেন, ভালোবাসা কখনো জাতি, ধর্ম বা দেশ দেখে না। আমরা একে অপরকে বুঝে নিয়েছি। সে (ওয়াং তাও) ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেছে এবং আমাকে সম্মানের সঙ্গে বিয়ে করেছে—এটাই আমার সবচেয়ে বড় পাওয়া।
ওয়াং তাও সুরমার মাধ্যমে সাংবাদিকদের বলেন, আমি বাংলাদেশে এসে খুব খুশি। এখানের মানুষ খুব ভালো। সুরমাকে আমি ভালোবাসি, সে আমার জীবনের অংশ এখন।
এদিকে, এই আন্তর্জাতিক ভালোবাসার খবর ছড়িয়ে পড়তেই এলাকায় চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। অনেকেই এই ঘটনাকে ‘ভালোবাসার বিজয়’ বলে অভিহিত করেছেন।
মাজহারুল করিম অভি/এএমকে