টানা দুইদিন দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা যশোরে

যশোরে টানা দ্বিতীয় দিনের মতো দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে। শুক্রবার (২ জানুয়ারি) জেলায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এর আগের দিন বৃহস্পতিবার যশোরে দেশের সর্বনিম্ন ৭ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়। সব মিলিয়ে চলতি মৌসুমে চার দিন দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা এই জেলায় রেকর্ড হয়েছে।
এদিকে, টানা শৈত্যপ্রবাহে যশোরের জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। কনকনে শীতে সাধারণ মানুষসহ প্রাণিকুল জবুথবু হয়ে পড়েছে। সূর্যের দেখা মিললেও ঠান্ডা বাতাসে হাড় কাঁপছে। তাপমাত্রার সঙ্গে বাতাসে আর্দ্রতার পরিমাণ বেশি থাকায় এবং বাতাসের গতির কারণে শীতের অনুভূতি আরও তীব্র হচ্ছে।
শুক্রবার ভোরেও ছিল ঘন কুয়াশা। সকালে কুয়াশা ভেদ করে সূর্য ওঠে। সকালের ক্ষীণ আলো কুয়াশা ভেদ করে মাটি ছুঁলেও শরীরে উষ্ণতা জাগাতে পারেনি। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে কুয়াশা সরে যায় এবং রোদের দেখা মেলে। তবে শীতের আবহ থেকে যায়। ফলে মানুষের স্বাভাবিক কর্মকাণ্ড ব্যাহত হচ্ছে। মোটা জ্যাকেট ও মাফলারে ঢেকে মানুষজনকে জবুথবু হয়ে চলাচল করতে দেখা যায়। হাড় কাঁপানো শীতে অনেকেই ঘর থেকে বের হননি। খুব সকালে ক্ষেতে প্রতিদিনের মতো চাষিদেরও দেখা মেলেনি। সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েছেন দিন আনা দিন খাওয়া মানুষগুলো।
বিকেলের দিকেও শীতের দাপট অনুভূত হচ্ছে। সন্ধ্যার পর থেকে শুরু হয় অসহ্য শীতের কাঁপুনি। রাত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে শীতের তীব্রতা আরও বেড়ে যায়। যশোর শহরের লালদীঘি পাড় এলাকায় প্রতিদিন ভোরে ৩ থেকে ৪ শতাধিক শ্রমজীবী মানুষ কাজের সন্ধানে জড়ো হলেও শীতের কারণে সেই সংখ্যা অর্ধেকে নেমে এসেছে। কাজের অভাবে অনেকেই খালি হাতে ফিরে যাচ্ছেন।
শংকরপুর এলাকার নির্মাণশ্রমিক রিপন মিয়া বলেন, সকাল থেকে কাজের খোঁজে বের হয়েছি, কিন্তু এখনো কোনো কাজ পাইনি। ঠান্ডায় দাঁড়িয়ে থাকাই কষ্টকর।
এদিকে, বেজপাড়া টিবি ক্লিনিক এলাকার শ্রমিক শরিফুল ইসলাম বলেন, এত শীতে বাইরে থাকা যায় না। তবু সংসারের তাগিদে বের হতে হয়। কাজও ঠিকমতো মিলছে না।
পালবাড়ি এলাকার রিকশাচালক আব্দুল গফুর বলেন, ঘন কুয়াশা আর শীতে সকালে বের হওয়া খুব কষ্টের। আজ শনিবার সকাল ১০টার পর রিকশা নিয়ে বের হয়েছি। রাস্তায় লোকজন কম, ভাড়াও মিলছে না।
যশোর বিমানবাহিনীর আবহাওয়া অফিস জানায়, শুক্রবার ভোরে যশোরে সর্বনিম্ন ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার এই তাপমাত্রা ছিল ৭ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। পরপর দুই দিনই এই তাপমাত্রা ছিল দেশের সর্বনিম্ন। এর আগে গত শুক্রবার (২৬ ডিসেম্বর) ও শনিবার (২৭ ডিসেম্বর) যশোরেই দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড হয়। ওই শুক্রবার তাপমাত্রা ছিল ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং শনিবার ছিল ৮ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
রেজওয়ান বাপ্পী/এআরবি