কুমিল্লার ৬টি আসনে ১৬ জনের মনোনয়ন বাতিল

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রার্থীদের দাখিল করা মনোনয়ন যাচাই-বাছাইয়ের প্রথম দিনে ৬টি আসনের প্রার্থীদের মনোনয়ন যাচাই-বাছাই করা হয়। মনোনয়ন বাছাইয়ের প্রথম দিনে কুমিল্লার ৬টি আসনে ৬০ জন প্রার্থীর মনোনয়ন যাচাই-বাছাই করা হয়। আসনগুলো থেকে ১৬ জন প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল এবং ৪৪ জনের মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করা হয়।
শুক্রবার (২ জানুয়ারি) সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত মনোনয়ন যাচাই-বাছাই কমিটির বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এসময় বিভিন্ন অভিযোগে মোট ১৬ জনের মনোনয়ন বাতিল ঘোষণা করেন জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা মু. রেজা হাসান।
কুমিল্লা-১ (দাউদকান্দি-মেঘনা) আসনে ১২টির মধ্যে ৭টি মনোনয়ন বৈধ এবং পাঁচটি অবৈধ ঘোষণা করা হয়। অবৈধ ঘোষণা হওয়া প্রার্থীদের মধ্যে জাতীয় পার্টির প্রার্থী সৈয়দ মোহাম্মদ ইফতেকার আহসান, স্বতন্ত্র প্রার্থী আবু জায়েদ আল মাহমুদ, স্বতন্ত্র প্রার্থী ওমর ফারুক, স্বতন্ত্র প্রার্থী কাজী ওবায়দ উল্লাহ, বাংলাদেশ জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল জাসদের মনোনীত প্রার্থী বড়ুয়া মনোজিত ধীমনের মনোনয়নটি বাতিল ঘোষণা করেন রিটার্নিং কর্মকর্তা। আসনটিতে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, তার ছেলে স্বতন্ত্র প্রার্থী ড. খন্দকার মারুফ হোসেন এবং জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত প্রার্থী মো. মনিরুজ্জামানের মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করা হয়।
কুমিল্লা-২ (হোমনা-তিতাস) আসনে দশটির মধ্যে ৬টি বৈধ এবং ৪টি বাতিল বলে ঘোষণা করা হয়। মনোনয়ন বাতিল হওয়া প্রার্থীদের মধ্যে বাংলাদেশ কল্যাণ পার্টির মনোনীত প্রার্থী মো. শাহাবুদ্দিন, স্বতন্ত্র প্রার্থী মনোয়ার হোসেন, স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. রমিজ উদ্দিন, ইসলামিক ফ্রন্ট বাংলাদেশের মনোনীত প্রার্থী মো. আব্দুস সালামের মনোনয়ন বাতিল ঘোষণা করা হয়।
কুমিল্লা ৩ (মুরাদনগর) আসনে জামায়েত ইসলামের মনোনীত প্রার্থী ইউসুফ সোহেল এবং গণধিকার পরিষদের মনোনীত প্রার্থী মনিরুজ্জামানের মনোনয়নপত্র বাতিল ঘোষণা করেছেন রিটার্নিং কর্মকর্তা। এ আসনে ৯টি মনোনয়নের মধ্যে হেভি ওয়েট এই ২টি মনোনয়ন বাতিল ঘোষণা করা হয়। এই আসনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী সাবেক পাঁচবারের সংসদ সদস্য শাহ মোফাজ্জল হোসেন কায়কোবাদসহ ৭ জনের মনোনয়ন বৈধ বলে ঘোষণা করা হয়।
কুমিল্লা-৪ (দেবিদ্বার) আসনে ৮টির মধ্যে ৬টি বৈধ এবং ২টি মনোনয়ন বাতিল বলে ঘোষণা করেন রিটার্নিং কর্মকর্তা। আসনটিতে মনোনয়ন বাতিল হওয়া প্রার্থীরা হলেন আমজনতার দল মনোনীত প্রার্থী মো. মাসুদ রানা এবং ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মনোনীত প্রার্থী মো. আ. করিমের মনোনয়ন বাতিল ঘোষণা করা হয়।
এ আসনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী ইঞ্জিনিয়ার মনজুরুল আহসান মুন্সী এবং জাতীয় নাগরিক পার্টির দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আব্দুল্লাহসহ ছয়জনের মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করা হয়। এ আসনে জামায়াত ইসলামের মনোনীত প্রার্থী সাইফুল ইসলাম শহীদ নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন।
কুমিল্লা-৫ (বুড়িচং-ব্রাহ্মণপাড়া) আসনে ১০টি মনোনয়নের মধ্যে বাংলাদেশ কমিউনিস্ট পার্টির মনোনীত প্রার্থী আব্দুল্লাহ আল ক্বাফির মনোনয়ন বাতিল ঘোষণা করা হয়েছে। এ আসনে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী রাশেদুল ইসলামের মনোনয়নে ট্যাক্সের তথ্য জমা দিতে বলা হয়েছে। আসনটিতে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী জসিম উদ্দিন এবং জামায়াতের মনোনীত প্রার্থী ড. মোবারক হোসেনের মধ্যে তুমুল প্রতিদ্বন্দ্বীতা হওয়ার আভাস রয়েছে।
কুমিল্লা-৬ (সদর-সদর দক্ষিণ-সিটি করপোরেশন-সেনানিবাস) আসনে ১১টি মনোনয়নের মধ্যে দুইটি মনোনয়ন বাতিল এবং বিএনপি-জামায়াতের প্রার্থীসহ ৯টি মনোনয় বৈধ ঘোষণা করা হয়। মনোনয়ন বাতিল হওয়া প্রার্থীরা হলেন, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী মোহাম্মদ হারুনুর রশিদ এবং বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দল বাসদের মনোনীত প্রার্থী কামরুন নাহার সাথী। আসনটিতে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী মনিরুল হক চৌধুরীর সঙ্গে জামায়াত ইসলামের মনোনীত প্রার্থী কাজী দীন মোহাম্মদ এবং বিএনপির মনোনয়ন বঞ্চিত বিদ্রোহী প্রার্থী হাজী আমিন উর রশিদ ইয়াসিনের ত্রিমুখী লড়াই হবে।
জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও কুমিল্লার জেলা প্রশাসক মু. রেজা হাসান বলেন, মনোনয়ন বাতিল হওয়া প্রার্থীরা নির্বাচন কমিশন এবং উচ্চ আদালতে আপিল করে আপিলের মাধ্যমে প্রার্থিতা ফিরে পেতে পারেন। যেসব প্রার্থী নির্বাচন কমিশনের বিধান ভঙ্গ করেছেন তাদের মনোনয়নই বাতিল করা হয়েছে। একটি অবাধ, সুষ্ঠু এবং নিরপেক্ষ নির্বাচনের জন্য আমরা বদ্ধপরিকর।
আরিফ/এসএম