অবশেষে মুখে খাবার তুলছে সুন্দরবন থেকে উদ্ধার বাঘটি

সুন্দরবনে শিকারির ফাঁদে আটকা পড়া বাঘটি অবশেষে মুখে তুলেছে খাবার। সোমবার (৫ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় মুরগির মাংস ও গরুর কলিজা দেওয়া হলে মুখে তুলে খেয়েছে বাঘটি। এ ছাড়া স্যালাইন মিশ্রিত পানি পান করছে প্রাণীটি। বর্তমানে খুলনা বন্যপ্রাণী উদ্ধার ও পুনর্বাসন কেন্দ্রে বাঘটিকে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। গাজীপুর সাফারি পার্কের ভেটেরিনারি সার্জন ডা. জুলকার নাইমের তত্ত্বাবধানে বাঘের চিকিৎসা চলছে।
বন বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, ফাঁদের কারণে বাঘটির সামনের বাম পায়ে গভীর ক্ষতের সৃষ্টি হয়েছে। ফাঁদটি ধারালো ও মজবুত হওয়ায় পায়ের নিচের অংশে রক্ত চলাচল দীর্ঘক্ষণ বন্ধ ছিল। সেখানে ঘায়ের মতো তৈরি হয়েছে। উদ্ধারের পর সেখানে জীবাণুনাশক স্প্রে দিয়েছেন চিকিৎসকরা। বাঘটি এখনো আশঙ্কামুক্ত নয় বলে জানিয়েছেন বন কর্মকর্তারা। আপাতত বাঘের খাঁচাটি ঢেকে রাখা হয়েছে। সেখানে কাউকে প্রবেশ করতে দেওয়া হচ্ছে না।
রোববার (৪ জানুয়ারি) দুপুরে সুন্দরবনের ভেতর থেকে হরিণ শিকারের পাতা ফাঁদে আটকা পড়া বাঘটি উদ্ধার করে বন বিভাগ। পূর্ণবয়স্ক স্ত্রী প্রজাতির বাঘটির ওজন প্রায় ১০০ কেজি। প্রায় ৪-৫ দিন ধরে বাঘটি আটকা ছিল বলে ধারণা করছেন বন্যপ্রাণী বিশেষজ্ঞরা। রোববার সন্ধ্যায় ট্রানকুইলাইজার গান ব্যবহার করে অচেতন অবস্থায় বাঘটি খুলনা বন্যপ্রাণী উদ্ধার ও পুনর্বাসন কেন্দ্রে আনা হয়। বর্তমানে সেখানেই রয়েছে বাঘটি।
বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা নির্মল কুমার পাল ঢাকা পোস্টকে বলেন, এখন একটু ভালোর দিকে বলা চলে। বাঘটিকে আনার পর খাবার মুখে নিচ্ছিল না। মুরগি ও গরুর কলিজা দেওয়া হয়েছিল। অবশেষে সোমবার সন্ধ্যায় কিছুটা খাবার খেয়েছে। বাঘটি স্যালাইন মিশ্রিত পানি পান করছে।
তিনি বলেন, কয়েকদিন ধরে বন্দি থাকার কারণে বাঘটি এক ধরনের ট্রমার মধ্যে রয়েছে। রোববার সারারাত খাঁচা থেকে বের হয়নি। সোমবার দুপুর পর্যন্ত মাত্র দুইবার বের হয়েছে। মানুষ দেখে তার মধ্যে যেন আতঙ্ক তৈরি না হয়, এজন্য খাঁচার চারপাশে ঢেকে দেওয়া হয়েছে। কেন্দ্রের ভেতর কোনো মানুষ প্রবেশ করতে দেওয়া হচ্ছে না। প্রথমে বাঘটিকে আস্ত মুরগি দেওয়া হয়েছিল। না খাওয়ায় পরে মুরগি কেটে টুকরো টুকরো করে দেওয়া হয়। দুপুর পর্যন্ত সেটিও মুখে দেয়নি। তাকে গরুর কলিজা দেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে। দীর্ঘক্ষণ না খেয়ে থাকার কারণে বাঘটি দুর্বল হয়ে পড়ে। খাবার না খাওয়ায় কিছুটা দুশ্চিন্তা হচ্ছিল। অবশেষে সন্ধ্যায় খাবার খেয়েছে।
মোহাম্মদ মিলন/এসএসএইচ