রাজবাড়ীতে দোকানে মিলছে না রান্নার গ্যাস, ভোক্তাদের দুর্ভোগ

রাজবাড়ী জেলার বিভিন্ন এলাকায় খুচরা দোকানগুলোতে এলপিজি গ্যাসের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। প্রায় ১০ দিন ধরে জেলার অধিকাংশ খুচরা দোকানে এলপিজি গ্যাসের সিলিন্ডার পাওয়া যাচ্ছে না। এতে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন সাধারণ ভোক্তা ও ব্যবসায়ীরা।
খুচরা ব্যবসায়ীরা জানান, এলপিজি গ্যাস নিয়ে কোনো ধরনের ধর্মঘট নেই। ডিলার পর্যায় থেকে গ্যাস সরবরাহ না পাওয়ায় তাদের দোকানে গ্যাসের মজুদ শেষ হয়ে গেছে। ফলে চাহিদা থাকা সত্ত্বেও তারা ক্রেতাদের কাছে গ্যাস সরবরাহ করতে পারছেন না।
অন্যদিকে ডিলাররা ভিন্ন কথা বলছেন। তাদের দাবি, কোম্পানি পর্যায় থেকে পর্যাপ্ত গ্যাস সরবরাহ না পাওয়ায় তারা খুচরা ব্যবসায়ীদের কাছে গ্যাস দিতে পারছেন না। অনেক সময় পরিবহন নিয়ে কোম্পানির ডিপোতে গিয়ে অপেক্ষা করলেও গ্যাস না পাওয়ার অভিযোগ রয়েছে।
এদিকে খুচরা দোকানগুলোতে ভোক্তা পর্যায়ে সরকার নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে অতিরিক্ত দামে এলপিজি গ্যাস সিলিন্ডার বিক্রির অভিযোগের ভিত্তিতে জেলা প্রশাসন ও জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর নিয়মিত মোবাইল কোর্ট অভিযান পরিচালনা করে জরিমানা করছে।
এলপিজি গ্যাসের সংকটের কারণে রান্নাবান্নাসহ দৈনন্দিন কাজে বিপাকে পড়েছেন সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে হোটেল-রেস্তোরাঁ ব্যবসায়ীরা। পাশাপাশি ব্যবসায়ীরাও আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন।
সংশ্লিষ্টরা জানান, দ্রুত সরবরাহ স্বাভাবিক না হলে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে। তারা এলপিজি গ্যাসের সরবরাহ ব্যবস্থা দ্রুত স্বাভাবিক করার দাবি জানিয়েছেন।
এদিকে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মো. মাহমুদুল হাসান বলেন, খুচরা ব্যবসায়ীদের দাবি-তারা ডিলারদের কাছ থেকে পর্যাপ্ত পরিমাণে গ্যাসের সরবরাহ পাচ্ছেন না। আবার ডিলাররা বলছেন, তারা কোম্পানি থেকে সরবরাহ পাচ্ছেন না। যার কারণে বাজারে এলপিজি গ্যাসের সংকট তৈরি হয়েছে। এছাড়াও কয়েকটি দাবিতে এলপিজি গ্যাস ব্যবসায়ীরা সারা দেশে গ্যাস বিক্রি বন্ধ রেখেছেন। আশা করছি, ১০ তারিখের পর এই সমস্যার সমাধান হয়ে যেতে পারে।
তিনি আরও বলেন, খুচরা দোকানগুলোতে সরকার নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে অতিরিক্ত দামে গ্যাস বিক্রির অভিযোগ পেলে আমরা অভিযান পরিচালনা করছি।
মীর সামসুজ্জামান সৌরভ/এআরবি