মৃদু শৈত্যপ্রবাহে হাড়কাঁপানো শীত, কুড়িগ্রামে স্থবির জনজীবন

কুড়িগ্রামে জেঁকে বসেছে শীত। মৃদু শৈত্যপ্রবাহের কারণে এ অঞ্চল মেঘে ঢাকা থাকছে সারাদিনই। সকাল থেকে ঘন কুয়াশায় চারদিক ঢেকে যায়। জেলায় শীতের তীব্রতা যত বাড়ছে, ততই বাড়ছে মানুষের ভোগান্তি। সড়কে হেডলাইট জ্বালিয়ে চলাচল করছে যানবাহন। এতে সবচেয়ে বিপাকে পড়েছেন খেটে খাওয়া দিনমজুররা।
আজ শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) রাজারহাট আবহাওয়া অফিস সূত্রে জানা যায়, আজ সকাল ৬টায় জেলায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এ সময় বাতাসে আর্দ্রতার পরিমাণ ছিল সর্বোচ্চ ৯৯ শতাংশ।
গত তিন দিন ধরে জেলায় মৃদু শৈত্যপ্রবাহ বিরাজ করছে। সড়কগুলোতে দুর্ঘটনা এড়াতে হেডলাইট জ্বালিয়ে যানবাহন চলাচল করছে। সূর্যের দেখা না মেলায় তীব্র শীতে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। হাড়কাঁপানো ঠাণ্ডায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন খেটে-খাওয়া দিনমজুর ও নিম্ন আয়ের মানুষজন।
কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার ভোগডাঙ্গা ইউনিয়নের কৃষক নওশাদ (৫৫) বলেন, ২০ শতাংশ জমিতে বেগুন লাগিয়েছি। সপ্তাহে দুইবার বেগুন তুলি। কিন্তু শীত ও ঠাণ্ডার কারণে বেগুন তোলা যাচ্ছে না। বেগুনগুলোর অবস্থাও ভালো না। অনেক টাকা খরচ করে বেগুন চাষ করেছি। এই বেগুন নষ্ট হলে বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়তে হবে।
কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার পৌর শহরের জলিল বিড়ির মোড় এলাকার বিড়ি শ্রমিক আসাদুল মিয়া বলেন, এমন ঘন কুয়াশা ও ঠাণ্ডার কারণে বাইরে বের হওয়া যায় না। বাইরে বের না হলে বিড়ি বানানোর কাজ করব কীভাবে? কাজ না করলে খাব কী?
রাজারহাট আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সুবল চন্দ্র সরকার বলেন, আজ সকালে জেলায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং বাতাসে আর্দ্রতার পরিমাণ ছিল সর্বোচ্চ ৯৯ শতাংশ। তাপমাত্রা আরও কমতে পারে এবং জেলা জুড়ে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে।
মমিনুল ইসলাম বাবু/এআরবি