কাপ্তাই হ্রদের পানি না কমায় ১৩ হাজার কৃষক বিপাকে

কাপ্তাই হ্রদের পানি সময়মতো না কমায় রাঙামাটির লংগদু উপজেলাসহ আশপাশের এলাকায় জলভাসা জমিতে বোরো আবাদ শুরু করতে পারছেন না কৃষকরা। এতে প্রায় ১৩ হাজার কৃষক পরিবার চরম অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে বলে জানা গেছে। দ্রুত হ্রদের পানি কমিয়ে চাষাবাদের উপযোগী করার দাবিতে জেলা প্রশাসনের সহযোগিতা চেয়েছেন কৃষকরা।
কৃষকদের অভিযোগ, প্রতিবছর ডিসেম্বর-জানুয়ারি মাসে লংগদু, নানিয়ারচর ও বাঘাইছড়ি উপজেলার নিম্নাঞ্চলের জলভাসা জমিতে বোরো ধানের চারা রোপণ করা হয়। কিন্তু চলতি মৌসুমে হ্রদের পানি প্রত্যাশিতহারে না কমায় অধিকাংশ জমি এখনও পানির নিচ তলিয়ে রয়েছে। ফলে বীজতলা প্রস্তুত না হওয়ায় নির্ধারিত সময়ে চারা রোপণ সম্ভব হয়নি।
স্থানীয় কৃষকদের ভাষ্য, দীর্ঘদিন ধরে তারা হ্রদ সংলগ্ন এসব জমিতে ধান ও মৌসুমি ফসল আবাদ করে জীবিকা নির্বাহ করছেন। যদি কিছুদিনের মধ্যে পানি কমানো না হয় তাহলে তাদের পরিবার পরিজন নিয়ে চরম দুর্ভোগে পড়তে হবে। লংগদু উপজেলায় প্রায় ৮ হাজার হেক্টর কৃষিজমির মধ্যে সাড়ে ৬ হাজার হেক্টরের বেশি জমি এখনও পানির নিচে রয়েছে। এসব জমির ওপর নির্ভরশীল প্রায় সাড়ে ১৩ হাজার কৃষক পরিবার।
এদিকে বগা চত্বর, গুলশাখালী ও মাইনী ইউনিয়নের অনেক কৃষক ইতোমধ্যে বীজতলা প্রস্তুত করলেও মূল জমিতে চারা রোপণ করতে পারছেন না। সময়মতো আবাদ শুরু করতে না পারলে উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি এলাকায় খাদ্যসংকট দেখা দিতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।
এ বিষয়ে লংগদু উপজেলার কৃষি কর্মকর্তা মো. ওয়াসিফ রহমান বলেন, বর্তমানে যে হারে পানি কমছে, তাতে নির্ধারিত সময়ে বোরো আবাদ সম্পন্ন করা কঠিন হয়ে পড়বে। কৃষকদের স্বার্থ বিবেচনায় হ্রদের পানি দ্রুত কমানো প্রয়োজন।
কৃষক ও স্থানীয়দের অভিযোগ, নানা অজুহাতে হ্রদের পানি আটকে রাখার সিদ্ধান্ত খাদ্যশস্য ও মৌসুমি ফসল উৎপাদনকে হুমকির মুখে ফেলেছে। কৃষকদের স্বার্থ রক্ষায় দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন ভুক্তভোগী কৃষকরা। যাতে চলতি মৌসুমেই জলভাসা জমিতে চাষাবাদ শুরু করা যায়।
মোস্তফা কামাল রাজু/এসএইচএ