গৃহিণী থেকে ব্যবসায়ী নায়াব ইউসুফ, বছরে আয় ৯ লাখ টাকা

ফরিদপুর-৩ (সদর) আসনে বিএনপির প্রার্থী চৌধুরী নায়াব ইউসুফ সাত বছরের ব্যবধানে গৃহিণী থেকে ব্যবসায়ীতে উন্নীত হয়েছেন। এ সময়কালে তার সম্পত্তির পরিমাণ বেড়েছে অন্তত ৩১ গুণ। চলতি ত্রয়োদশ ও গত ২০১৮ সালে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রাক্কালে নির্বাচন কমিশনে মনোনয়নপত্রের সঙ্গে তার জমা দেওয়া দুটি হলফনামা পর্যালোচনা করে এ তথ্য পাওয়া গেছে।
ফরিদপুর-৩ (সদর) আসনে বিএনপির প্রার্থী ও কেন্দ্রীয় মহিলা দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক চৌধুরী নায়াব ইউসুফ গত ২৫ ডিসেম্বর মনোনয়নপত্র জমা দেন। গত ২ জানুয়ারি বাছাইয়ে তার মনোনয়নপত্রটি বৈধ বলে বিবেচিত হয়। চৌধুরী নায়াব এই আসনের পাঁচবারের সংসদ সদস্য প্রয়াত চৌধুরী কামাল ইবনে ইউসুফের মেয়ে। কামাল ইউসুফ বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির ভাইস চেয়ারম্যান ছিলেন।
চৌধুরী নায়াব ইউসুফ ফরিদপুর শহরের কুঠিবাড়ী কমলাপুর মহল্লার ঐতিহ্যবাহী ময়েজ মঞ্জিলের বাসিন্দা। হলফনামা অনুসারে- তার বয়স ৫৫ বছর ১০ মাস। তিনি কোনো মামলার আসামি নন। শিক্ষাগত যোগ্যতা বি.কম পাস। তিনি তালাকপ্রাপ্ত, দুই ছেলে ও এক মেয়ের মা।
হলফনামার তথ্য অনুযায়ী নায়াব ইউসুফের আয়ের খাত দুটি। এর একটি কৃষি ও অ্যাপার্টমেন্ট ভাড়া। কৃষি খাত (জমির ভাড়া) ও অ্যাপার্টমেন্ট ভাড়া বাবদ তার বার্ষিক আয় ৮ লাখ ৯৫ হাজার টাকা। পাশাপাশি শেয়ারবাজারে তার বিনিয়োগ আছে। তবে শেয়ারে বিনিয়োগ করে তিনি বর্তমানে ১৫১ টাকা ক্ষতির মুখে আছেন।
হলফনামা অনুযায়ী অস্থাবর সম্পত্তির ক্ষেত্রে নায়াব ইউসুফ ৪৭ লাখ ৯৩ হাজার ৪০৬ টাকার মালিক (বর্তমান আনুমানিক মূল্য)। এর মধ্যে নগদ টাকা ৩৭ লাখ ১৬ হাজার টাকা, ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে জমা ৬ লাখ ২০ হাজার ৩৯৬ টাকা, বন্ড, শেয়ার ও ঋণপত্রে বিনিয়োগ ১ লাখ ২৭ হাজার ১০ টাকা (অর্জনকালীন মূল্য), ইলেকট্রনিক পণ্য (অধিগ্রহণকালে মূল্য) ১ লাখ ৮০ হাজার টাকা, আসবাবপত্র ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা।
অস্থাবর সম্পত্তি হিসেবে ২৫ ভরি সোনা বিবাহে উপহার পাওয়া হিসেবে দেখিয়েছেন, যার কোনো আর্থিক মূল্য দেখানো হয়নি।
নায়াব ইউসুফ স্থাবর সম্পত্তির যে তালিকা হলফনামায় দিয়েছেন, তাতে দেখা যাচ্ছে—উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়া ফরিদপুরে ২৫০ শতাংশ কৃষি জমি, উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়া ফরিদপুর ও ঢাকায় ১২.৪৫৫ শতাংশ অকৃষি জমি, ঢাকার ধানমন্ডিতে ৫০০ বর্গফুট দোকানের এক চতুর্থাংশের মালিকানা, বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় সাড়ে পাঁচতলা বাড়ির এক চতুর্থাংশের মালিকানা বাবদ মোট ৫ কোটি টাকা মূল্য দেখিয়েছেন।
২০১৮ সালের নির্বাচনে বাবার পাশাপাশি নায়াব ইউসুফ মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছিলেন। পরে তিনি বাবার সমর্থনে মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করে নেন। ২০১৮ সালের হলফনামার আলোকে নায়াবের আয় ছিল ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা। এর মধ্যে কৃষিখাতে ১ লাখ টাকা এবং বাড়ি অ্যাপার্টমেন্ট ভাড়া বাবদ ৬০ হাজার টাকা। ওই হলফনামা অনুযায়ী নায়াবের অস্থাবর সম্পত্তির পরিমাণ ছিল ১ লাখ ৫৫ হাজার টাকা। এর মধ্যে নগদ টাকা, বৈদেশিক মূল্য, ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে জমা ১ লাখ ২৫ হাজার টাকা, স্বর্ণ ও অন্যান্য মূল্যবান ধাতু ৩০ হাজার টাকা।
ওই হলফনামা অনুযায়ী তিনি যে স্থাবর সম্পত্তি দেখিয়েছেন, তাতে তিনি জানিয়েছেন—বাবার নিকট থেকে ওয়ারিশসূত্রে তিন বিঘা কৃষি জমি, ১০ কাঠা অকৃষি জমি ও ঢাকার বসুন্ধরার একটি ফ্ল্যাটের মালিক তিনি। তবে স্থাবর সম্পত্তির কোনো মূল্য তিনি দেখাননি।
২০২৫ ও ২০১৮ সালের দুটি হলফনামা বিচার করলে দেখা যায়, গত সাত বছরে নায়াব ইউসুফ একজন গৃহবধূ থেকে ব্যবসায়ী হয়েছেন। এ সময়কালে তার আয় বেড়েছে প্রায় ৬ গুণ। অস্থাবর সম্পত্তি বেড়েছে অন্তত ৩১ গুণ। সাত বছর আগে তিনি কৃষি ও অকৃষি মিলিয়ে ৩ বিঘা ও ১০ শতাংশ জমির মালিক ছিলেন ওয়ারিশসূত্রে। এ ছাড়া ঢাকার বসুন্ধরায় একটি ফ্ল্যাটের মালিক ছিলেন, যার কোনো আর্থিক মূল্য তিনি ওই বিবরণীতে দেননি।
সাত বছরের ব্যবধানে স্থাবর এ সম্পত্তি বেড়ে উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়া ফরিদপুরে ২৫০ শতাংশ কৃষি জমি, উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়া ফরিদপুর ও ঢাকায় ১২.৪৫৫ শতাংশ অকৃষি জমি, ঢাকার ধানমন্ডিতে ৫০০ বর্গফুট দোকানের এক চতুর্থাংশের মালিকানা, বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় সাড়ে পাঁচতলা বাড়ির এক চতুর্থাংশের মালিকানা বাবদ মোট ৫ কোটি টাকা মূল্য দেখিয়েছেন। তবে গত সাত বছরে স্থাবর সম্পত্তি কত গুণ বেড়েছে, তা জানা সম্ভব হয়নি। কেননা ২০২৫ সালের হলফনামায় আর্থিক মূল্য দেখানো হলেও ২০১৮ সালের হলফনামায় আর্থিক মূল্য না দেখানোর কারণে।
২০২৫ সালের হলফনামায় নায়াব ইউসুফ তার বর্তমান পেশা ব্যবসায়ী দেখিয়েছেন, তবে তিনি তার ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের কোনো নাম দেননি। এ ছাড়া ২০২৫ সালের হলফনামায় তিনি তার পূর্বের পেশা হিসেবে নিজেকে ব্যবসায়ী পরিচয় দিলেও ২০১৮ সালের হলফনামা অনুযায়ী নিজ পেশা হিসেবে গৃহিণী দেখিয়েছিলেন।
জহির হোসেন/আরএআর