রংপুরে রেকটিফাইড স্পিরিট বিক্রেতা জয়নুলের মৃত্যু

রংপুর কারাগারে বন্দি মাদক কারবারি জয়নুল আবেদিন (৪৬) মারা গেছেন। বুধবার (১৪ জানুয়ারি) ভোরে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান।
জয়নুল আবেদিন বদরগঞ্জের কিশামত বসন্তপুর নয়াপাড়া গ্রামের আনারুল ইসলামের ছেলে।
রেকটিফাইড স্পিরিট বিক্রির অপরাধে গত সোমবার (১২ জানুয়ারি) তাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরে আদালতের মাধ্যমে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়।
রংপুর কেন্দ্রীয় কারাগারের সিনিয়র জেল সুপার (অতিরিক্ত দায়িত্ব) অভিজিত চৌধুরী মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, জয়নুল আবেদিনের বিরুদ্ধে মাদক ও হত্যা মামলা ছিল। মঙ্গলবার বিকেলে বুকে ব্যথা অনুভব হলে তাকে কারাগার থেকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে হৃদরোগ বিভাগে চিকিৎসাধীন থেকে বুধবার ভোর সাড়ে ৫টার দিকে তিনি মারা যান।
এদিকে রেকটিফাইড স্পিরিট পান করে মৃত্যুর সংখ্যা ছয়জনে দাঁড়িয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার রাতে শ্যামপুর বাজার এলাকার রাশেদুল ইসলাম ও আব্দুল মালেক নামে দুজন মারা যান। এর আগে সকালে মারা যান মানিক চন্দ্র রায় (৬০)।
তারা রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন।
মানিক চন্দ্র রংপুর সদর উপজেলার কোতোয়ালি থানার শিবের বাজার পশ্চিম হিন্দুপাড়ার মৃত অনিল চন্দ্র রায়ের ছেলে।
এর আগে রোববার রাতে বদরগঞ্জ উপজেলার গোপালপুর ইউনিয়নের পূর্ব শিবপুর গ্রামের রফিকুল ইসলামের ছেলে সোহেল (৩০) এবং ওই ইউনিয়নের বসন্তপুর গ্রামের আমিরুল ইসলামের ছেলে আলমগীর হোসেন (৪০) এবং সদর উপজেলার শ্যামপুর শাহ পাড়ার জেনতার আলী (৪১) নিজ বাড়িতে মারা যান।
স্থানীয়রা জানান, রোববার (১১ জানুয়ারি) কিশামত বসন্তপুর নয়াপাড়া গ্রামের আনারুল ইসলামের ছেলে জয়নুল আবেদিনের (৪৬) কাছ থেকে রেকটিফাইড স্পিরিট কিনে নিয়ে এসে তারা পান করেন। পরে রাতে নিজ বাড়িতে অসুস্থ হয়ে সোহেল, আলমগীর ও জেনতার আলী মারা যান। পরে মঙ্গলবার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান মানিক চন্দ্র রায়, মালেক ও রাশেদুল মারা যান।
এ ঘটনায় ১০ বোতল স্পিরিটসহ বিক্রেতা জয়নুল আবেদিনকে আটক করে পুলিশ। পরে তার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়।
ফরহাদুজ্জামান ফারুক/আরএআর