অবশেষে শেরপুর-২ আসনে মনোনয়নপত্র জমা দিলেন এবি পার্টির প্রার্থী

শেরপুর-২ (নকলা-নালিতাবাড়ী) আসনে আমার বাংলাদেশ (এবি) পার্টির মনোনীত প্রার্থী আব্দুল্লাহ বাদশা অবশেষে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। বুধবার (১৪ জানুয়ারি) তিনি জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক তরফদার মাহমুদুর রহমানের কাছে মনোনয়নপত্র দাখিল করেন।
এর আগে গত ২৯ ডিসেম্বর মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার নির্ধারিত সময়সীমার মাত্র পাঁচ মিনিট পর নালিতাবাড়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে পৌঁছালে সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রেজওয়ানা আফরিন নির্বাচন বিধিমালা অনুযায়ী তার মনোনয়নপত্র গ্রহণ করেননি। মনোনয়ন জমা দিতে না পেরে সেদিন কার্যালয়েই আবেগপ্রবণ হয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন আব্দুল্লাহ বাদশা। ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও গণমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি করে।
পরবর্তীতে বিষয়টি নিয়ে তিনি হাইকোর্টে রিট আবেদন করেন। গত ১২ জানুয়ারি হাইকোর্ট তার মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার অনুমোদন দেন। আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী বুধবার তিনি জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ে গিয়ে মনোনয়নপত্র দাখিল করেন।
মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার পর আব্দুল্লাহ বাদশা বলেন, সময়সীমা অতিক্রমের কারণে মনোনয়নপত্র গ্রহণ না করায় আমি হাইকোর্টের শরণাপন্ন হই। আদালতের অনুমোদনের পর আজ মনোনয়নপত্র জমা দিতে পেরেছি। দু-এক দিনের মধ্যে মনোনয়ন বৈধতা বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানা যাবে। কোনো জটিলতা না হলে ঈগল পাখি প্রতীকে শেরপুর-২ আসন থেকে নির্বাচন করব।
শেরপুর জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর হোসেন মনোনয়নপত্র দাখিলের বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন,
হাইকোর্ট নির্দেশনা দিয়েছেন তার মনোনয়নপত্র গ্রহণ করতে এবং যাচাই-বাছাই করে চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করার জন্যও বলেছেন। আমরা মনোনয়নপত্র গ্রহণ করেছি। এখন যাচাই-বাছাই করা হবে। কাগজপত্রে কোনো ধরনের সমস্যা না থাকলে তিনি বৈধ প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে পারবেন।
জেলা নির্বাচন কার্যালয় সূত্র জানায়, গত ২৯ ডিসেম্বর পর্যন্ত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে শেরপুর জেলায় মোট ১৬ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র দাখিল করেন। যাচাই-বাছাই শেষে ১০ জনের মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে, ৫ জনের মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে। দ্বৈত নাগরিকত্ব কারণে বাতিলের পর শেরপুর-২ আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ইঞ্জিনিয়ার ফাহিম চৌধুরী নির্বাচন কমিশনে আপিল করেছেন। সেখানেও তার মনোয়নপত্রটি সকল কাগজপত্র না থাকাই ১৬ জানুয়ারি পর্যন্ত স্থগিত করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, মনোনয়নপত্র বাছাইয়ের পর রিটার্নিং কর্মকর্তার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল দায়েরের সময়সীমা ছিল ৫ জানুয়ারি থেকে ৯ জানুয়ারি পর্যন্ত। আপিল নিষ্পত্তির সময়সীমা ১০ জানুয়ারি থেকে ১৮ জানুয়ারি। প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ তারিখ ২০ জানুয়ারি এবং প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া হবে ২১ জানুয়ারি। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হবে ভোটগ্রহণ।
নাইমুর রহমান তালুকদার/আরএআর