কুয়েতে আগুনে পুড়ে যুবকের রহস্যজনক মৃত্যু, ১৩ দিন পর বাড়িতে এনে দাফন

ফরিদপুরের সালথার বাসিন্দা জামাল মাতুব্বর (৩৯) কুয়েতের আহমেদী জেলায় অপেরা নামে একটি ফার্ম হাউজে চাকরি করতেন। এই ফার্ম হাউজেই গত ১ জানুয়ারি রহস্যজনকভাবে আগুনে পুড়ে মৃত্যু হয় তার। তিনি ফরিদপুর জেলার সালথা উপজেলার গট্টি ইউনিয়নের রাহুতপাড়া গ্রামের মৃত হামেদ মাতুব্বরের ছেলে। তিনি বিবাহিত এবং আট বছর ও তিন বছর বয়সী দুই মেয়ের বাবা।
গতকাল মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) কুয়েত থেকে জামালের মরদেহ তার গ্রামের বাড়িতে এসে পৌঁছায়। বুধবার (১৪ জানুয়ারি) বেলা ১১টার দিকে নিজ গ্রামের পারিবারিক কবরস্থানে তার মরদেহ দাফন করা হয়। জামালের বাড়িতে চলছে শোকের মাতম।
সালথা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।
জামালের পরিবার সূত্রে জানা যায়,পরিবারের সুখের জন্য জামাল আট বছর আগে কুয়েতে পাড়ি জমান । সেখানেই থাকতেন।
তিন বছর আগে ছুটিতে দেশে আসেন জামাল। এরপর এবার ২০২৬ সালের জানুয়ারি মাসে আবার দেশে আসার কথা ছিল এই প্রবাসী যুবকের। জানুয়ারিতে তিনি বাড়িতে ফিরলেন ঠিকই, তবে লাশ হয়ে।
জামালের স্ত্রী কাকোলি বেগম বলেন, আমার স্বামীকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করে নগদ টাকা ও স্বর্ণালংকার নিয়ে গেছে। টাকার জন্যই তাকে হত্যা করে আগুন ধরিয়ে দিয়েছে। আমাদের ধারণা, যারা হত্যা করেছে তারা আমার স্বামীর কাছের মানুষ ছিল। আমি কুয়েতে বাংলাদেশি অ্যাম্বাসির কাছে এর সঠিক বিচার চাই। তারা যেন সুষ্ঠু তদন্ত করে আমাদের ন্যায্যবিচার পাইয়ে দেয়।
সালথার তালেশ্বর গ্রামের বাসিন্দা ও কুয়েতপ্রবাসী মুন্নু ফকির বলেন, তিনি গত ডিসেম্বর ছুটিতে বাড়ি এসেছেন। জামাল যেখানে থাকত, সেখান থেকে ১৫০ কিলোমিটার দূরে তিনি থাকেন। জামাল জানুয়ারি মাসে ছুটি নিয়ে দেশে আসবেন বলে জানিয়েছিলেন তাকে। কিন্তু গত ১ জানুয়ারি ফোন পেলাম জামাল আগুনে দগ্ধ হয়ে মারা গেছে। ওই দেশের ফায়ার সার্ভিস এসে মরদেহ উদ্ধার করে হাসপাতালে নেয়। পরে কুয়েতের পুলিশের মাধ্যমে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়। সেখানে ময়নাতদন্তের কাজ শেষে কুয়েতে বাংলাদেশি অ্যাম্বাসির মাধ্যমে গতকাল মঙ্গলবার জামালের মরদেহ দেশে আসে। ঢাকার হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে পরিবারের লোকজন জামালের মরদেহ বাড়িতে নিয়ে আসেন।
তিনি আরও বলেন, আমরা এলাকাবাসী কুয়েতে বাংলাদেশি অ্যাম্বাসির কর্মকর্তাদের কাছে জামালের মৃত্যুর বিষয়ে তদন্তের মাধ্যমে সুষ্ঠু বিচারের আশা করছি।
জহির হোসেন/আরএআর