কারাগার থেকে কল করে বলা হয় সামছুল হার্ট অ্যাটাক করেছে রিং পরাতে হবে!

রংপুরে কারাবন্দির হার্টে রিং পরানোর নামে প্রতারক চক্রের কথায় আসামগর পরিবারের কাছে ৩০ হাজার টাকা নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে কাউনিয়া উপজেলার গ্রাম পুলিশ আব্দুল হালিমের বিরুদ্ধে। বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) বিকেলে কাউনিয়া উপজেলার কুর্শা ইউনিয়ন পরিষদ প্রাঙ্গণে গ্রাম্য আদালতে উভয়পক্ষের শুনানি শেষে অভিযুক্ত গ্রাম পুলিশ আব্দুল হালিমের ৪০ হাজার টাকা জরিমানা করেছে ইউনিয়ন পরিষদ।
এসময় গ্রাম্য আদালতে ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য তোবারক আলী, স্থানীয় প্রতিনিধি শহিদার রহমান, রজব আলী, ফজলু মিয়া সহ ভুক্তভোগী ও অভিযুক্তের লোকজন উপস্থিত ছিলেন।
কারাবন্দি কাউনিয়া উপজেলার শ্যামপুর গ্রামের সামছুল হকের স্ত্রী খালেদা বেগম জানান, তার স্বামীকে বুধবার (৭ জানুয়ারি) গ্রেপ্তার করে থানা পুলিশ। পরে তাকে রাজনৈতিক মামলায় রংপুর কারাগারে পাঠায় কোর্ট পুলিশ। মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) রাতে কুর্শা ইউনিয়ন পরিষদে দায়িত্বরত গ্রাম পুলিশ আব্দুল হালিম বাড়িতে এসে তাকে জানায় আপনার স্বামী কারাগারে হার্ট স্ট্রোক করেছে।
তিনি আরও জানান, গ্রাম পুলিশ আব্দুল হালিম ফোনে জেল সুপার, ডাক্তার ও পুলিশের সঙ্গে কথা বলে দেন। তার স্বামী হার্ট স্ট্রোক করে রংপুর মেডিকেলের সাত তলায় ওয়ার্ডে ভতি আছে। দুইটি ব্লক ধরা পরেছে। ইমারজেন্সিভাবে সার্জারি করে হার্টে দুইটি রিং পরানো লাগবে। ৯০ হাজার টাকা ব্যয় হবে। গ্রাম পুলিশ আব্দুল হালিমের হাতে ৩০ হাজার টাকা দেন এবং ৬০ হাজার টাকা বিকাশে তাড়াতাড়ি পাঠিয়ে দেন। এমন কথা শোনার পর দ্রুত টাকা জোগাড় করে হালিমকে ৩০ হাজার টাকা দিয়ে দেয়। এরপর হালিম চলে যায়। বাকি ৬০ হাজার টাকা বিকাশে জমা দেওয়ার জন্য স্বজনরা খোঁজ নিয়ে জানতে পারে এটা প্রচারণা।
কারাবন্দি সামছুলের ভাই বাসচালক মিজানুর রহমান জানান, মঙ্গলবার তিনি ফরিদপুর থেকে রংপুরে আসার সময় মোবাইলে বাড়িতে কান্নাকাটি শুনতে পান। তাকে জানানো হয় তার ভাই কারাগারে হার্ট অ্যাটাক করেছে। গ্রাম পুলিশ হালিম এসে জানিয়েছে। তিনি হালিমের সাথে কথা বলেন, সে জানায় তাকে কাউনিয়া থানার ওসি পাঠিয়েছে। চিকিৎসার জন্য ৯০ হাজার টাকা লাগবে। এরপর তিনি স্বজনদের পাঠিয়ে রংপুর মেডিকেলে এবং থানার ওসির সাথে কথা বলে জানতে পারেন তার পরিবার প্রতারণা শিকার হয়েছে।
বিষয়টি জানাজানি হলে রাতেই গ্রাম পুলিশ আব্দুল হালিমকে আটক করে এলাকাবাসী। পরে ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যার ঘটনার সুষ্ঠু বিচারের আশ্বাস দিলে হালিমকে ছেড়ে দেয় বিক্ষুদ্ধ লোকজন।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে কাউনিয়া থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নজমুল হক বলেন, এটি প্রতারক চক্রের কাজ। এই চক্রের সঙ্গে স্থানীয় কেউ জড়িত থাকতে পারে। তা না হলে আসামির নাম, কোথায় আছে ও গ্রাম পুলিশকে চিনবে কি করে। আমরা প্রতারক চক্রের মোবাইল নম্বরগুলো সংগ্রহ করেছি। প্রতারক চক্রের সদস্যদের সনাক্তে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
অভিযুক্ত গ্রাম পুলিশ সদস্যকে জরিমানা বিষয়ে জানতে চাইলে কুর্শা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল মজিদ জানান, ভুক্তভোগীর অভিযোগ কারাবন্দি আসামিকে মেডিকেলে হার্টে রিং পরানোর নামে গ্রাম পুলিশ আব্দুল হালিম ৩০ হাজার টাকা নিয়েছে। যেহেতু প্রতারক চক্রের ফাঁদে পড়ে গ্রাম পুলিশের মাধ্যমে কারাবন্দি আসামির পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তাই গ্রাম্য আদালতের ধারায় আব্দুল হালিমকে ৪০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, থানা পুলিশের সঙ্গে কথা বলে যদি প্রমাণিত হয় গ্রাম পুলিশ আব্দুল হালিম প্রতারক চক্রের সাথে জড়িত, তাহলে বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ফরহাদুজ্জামান ফারুক/এমএএস