নোয়াখালী-৬ আসনে ১১ দলীয় জোটের চূড়ান্ত প্রার্থী হান্নান মাসউদ

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নোয়াখালী-৬ (হাতিয়া) আসনে ১১ দলীয় জোটের চূড়ান্ত প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন পেয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সিনিয়র যুগ্ম মুখ্য সমন্বয়ক আব্দুল হান্নান মাসউদ। এ ঘোষণার পর থেকে হাতিয়াজুড়ে শুরু হয়েছে নানা আলোচনা ও রাজনৈতিক তৎপরতা।
বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) রাত ৮টায় রাজধানীর ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউটে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের জোটের পক্ষ থেকে নোয়াখালী–৬ আসনের সমঝোতার ঘোষণা দেন।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, ১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের আওতায় জাতীয় নাগরিক পার্টিকে ৩০টি আসন দেওয়া হয়েছে। সারাদেশে মোট ২৫৩টি আসনে জোটগতভাবে প্রার্থী ঘোষণা করা হয়েছে। নোয়াখালী-৬ আসনে এনসিপির প্রার্থী হিসেবে আব্দুল হান্নান মাসউদ জোটের চূড়ান্ত প্রার্থী।
মনোনয়ন ঘোষণার পর স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গণে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। তৃণমূল পর্যায়ের একাধিক নেতা জানান, প্রার্থী নির্বাচনে সমন্বয় প্রক্রিয়া আরও বিস্তৃত হতে পারত। তবে হান্নান মাসউদের ব্যক্তিগত গ্রহণযোগ্যতা ও দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক সম্পৃক্ততার কারণে অনেকেই বিষয়টিকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন।
হাতিয়া উপজেলার এক জোট নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, শুরুতে কিছুটা অসন্তোষ থাকলেও হান্নান মাসউদ একজন পরিচিত মুখ। তিনি এলাকায় কাজ করেছেন, মানুষ তাকে চেনে- এ কারণে ধীরে ধীরে সবাই একত্রিত হবে বলে আমরা আশাবাদী। দ্বীপ উপজেলা হাতিয়ার ভৌগোলিক বাস্তবতা, যোগাযোগ ব্যবস্থা ও উন্নয়ন ইস্যু এবারের নির্বাচনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
এ বিষয়ে আব্দুল হান্নান মাসউদ ঢাকা পোস্টকে বলেন, ১১ দলীয় জোট আমাকে যে দায়িত্ব ও আস্থা দিয়েছে, তা আমি সর্বোচ্চ সততা, নিষ্ঠা ও দায়িত্ববোধের সঙ্গে পালন করার চেষ্টা করবো। হাতিয়া একটি অবহেলিত দ্বীপ উপজেলা—এখানকার মানুষের দীর্ঘদিনের অধিকার, উন্নয়ন ও ন্যায়বিচারের প্রশ্নগুলোকে আমি সবার আগে গুরুত্ব দেব। শিক্ষা, স্বাস্থ্য, যোগাযোগ ব্যবস্থা ও কর্মসংস্থানের মতো মৌলিক বিষয়গুলো নিয়ে সবাইকে সঙ্গে নিয়েই কাজ করতে চাই। রাজনৈতিক মতভেদ থাকলেও হাতিয়ার স্বার্থে সকল শ্রেণি-পেশার মানুষকে ঐক্যবদ্ধ করে একটি বাসযোগ্য ও উন্নত হাতিয়া গড়াই হবে আমার মূল লক্ষ্য।
জানা গেছে, নোয়াখালী-৬ (হাতিয়া) আসনে এবারের নির্বাচনে মোট ১৪ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র দাখিল করেন। যাচাই-বাছাই শেষে এর মধ্যে ১১ জন প্রার্থীর মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন।
বৈধ প্রার্থীরা হলেন, জামায়াতে ইসলামী থেকে অ্যাডভোকেট শাহ মোহাম্মদ মাহফুজুল হক, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) থেকে হান্নান মাসউদ, বিএনপি থেকে মো. মাহবুবুর রহমান, স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মোহাম্মদ ফজলুল আজিম ও তানভীর উদ্দিন রাজিব।
এছাড়া জাতীয় পার্টি (জাপা) থেকে এ. টি. এম. নবী উল্যাহ, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জেএসডি) থেকে মোহাম্মদ আবদুল মোতালেব, গণঅধিকার পরিষদ থেকে মোহাম্মদ আজহার উদ্দিন, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ থেকে মোহাম্মদ নুরুল ইসলাম শরীফ, লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি (এলডিপি) থেকে মোহাম্মদ আবুল হোসেন এবং বাংলাদেশ সুপ্রিম পার্টি (বিএসপি) থেকে আমিরুল ইসলাম মোহাম্মদ আবদুল মালেক বৈধ প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
হাসিব আল আমিন/আরকে