আমির হামজার দুঃখ প্রকাশ

কুষ্টিয়া সদর-৩ আসনে জামায়াতে ইসলামী মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী মুফতি আমির হামজার পুরাতন একটি ওয়াজ মাহফিলের ২৪ সেকেন্ডের বক্তৃতার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। এ ঘটনার পর কুষ্টিয়ার রাজনৈতিক অঙ্গনে সৃষ্টি হয়েছে উত্তেজনা। এ নিয়ে জেলা বিএনপির পক্ষ থেকে প্রতিবাদ জানানো হয়েছে। তবে বক্তৃতাটি ২০২৩ সালের দাবি করে ফেসবুক লিখিত পোস্ট ও ভিডিও বার্তায় দুঃখ প্রকাশ করেছেন সংসদ সদস্য প্রার্থী আমির হামজা।
ওয়াজ মাহফিলের বক্তৃতায় আমির হামজা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সদ্য প্রয়াত সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার ছোট ছেলে প্রয়াত আরাফাত রহমান কোকোর নাম বিকৃতি করে একটি প্রাণীর সাথে তুলনা করে উপস্থাপন করেছেন। তার এমন বক্তব্য নিয়ে ক্ষুব্ধ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহারকারীরা।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ২৪ সেকেন্ডের ভিডিও ফুটেজে সংসদ সদস্য প্রার্থী আমির হামজা শ্রোতাদের উদ্দেশ্যে বলেন, ‘খালেদা জিয়ার দ্বিতীয় ছেলের নাম কি? কোকো। কো কো বাদ দিয়ে যদি শুধুমাত্র উ-কার দিয়ে দেন। কি হয় কুকু। ওর দাদী যদি ডাক দেই। যার দাঁত নেই। কি বলে ডাকবে। বলবেন কুকুর পানি নিয়ে আয়।’
গতকাল শুক্রবার রাতে এই বক্তৃতার ভিডিও ছড়িয়ে পড়লে বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা ক্ষোভ প্রকাশ করেন। আমির হামজাকে এই কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য প্রত্যাহার করে জনসন্মুখে ক্ষমা চাইতে বলেন।
রাতেই এক প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে প্রতিবাদ জানান কুষ্টিয়া জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কুতুব উদ্দিন আহমেদ। প্রতিবাদে তিনি বলেন, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মনোনীত কুষ্টিয়া-৩ (সদর) আসনের দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী মুফতি আমির হামজা সাহেবের একটি ভিডিও বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে। তার বক্তব্যে স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সদ্যপ্রয়াত দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার কনিষ্ঠ পুত্র বিশিষ্ট ক্রীড়া সংগঠক মরহুম আরাফাত রহমান কোকোর নাম বিকৃত করে একটা ইতর প্রাণীর সাথে তুলনা করা হয়েছে, যেটাতে আমাদেরকে ব্যথিত ও সংক্ষুব্ধ করেছে। এরূপ অশালীন, কাণ্ডজ্ঞানহীন ভাষার ব্যবহার একজন ইসলামী বক্তার নিকট থেকে কোনোভাবেই প্রত্যাশা করা যায় না।
প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে কুতুব উদ্দিন আহমেদ বলেন, সভ্যতার সীমা অতিক্রম করে আমির হামজা সাহেবের বর্ণিত বক্তব্যের বিরুদ্ধে কুষ্টিয়া জেলা বিএনপির পক্ষ থেকে আমরা তীব্র নিন্দা ও ঘৃণা প্রকাশ করছি। আমরা মনে করি তার বক্তব্য উস্কানিমূলক ও চক্রান্তমূলক। যেটা আসন্ন নির্বাচনের পরিবেশ বিঘ্নিত করার শামিল। এই বিষয়ে আমরা নির্বাচন কমিশনসহ যথাযথ কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।
জামায়াতে ইসলামী মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী মুফতি আমির হামজা এক ফেসবুক পোস্টে লেখেন, ‘মরহুম আরাফাত রহমান কোকো সাহেবকে নিয়ে আমার দেওয়া অনাকাঙ্ক্ষিত বক্তৃতাটি ছিল ২০২৩ সালের। আমি সেই সময়ই একটি বিষয় বুঝাতে যেয়ে উদাহরণটা দিয়ে ভুল করায় দুঃখ প্রকাশ করেছিলাম। এখন আবারো দুঃখ প্রকাশ করছি। কিন্তু পুরোনো বক্তব্য যারা সামনে এনে নির্বাচনকালীন সময়ের বক্তব্য বলে চালানোর ষড়যন্ত্র করছেন। তারাও নিজ রাজনৈতিক স্বার্থ চরিতার্থ করতে যেয়ে নিজ দলের সর্বোচ্চ পর্যায়ের একজন মরহুম ব্যক্তিকেও ছাড় দিলেন না। এটাও একটু চিন্তা করে দেইখেন অপরাধী কে বেশি এইক্ষেত্রে! আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা মরহুম আরাফাত রহমান কোকো সাহেবকে জান্নাতুল ফেরদৌস নসিব করুন।’
অপরদিকে দুঃখ প্রকাশ করে ফেসবুকে পোস্ট করা একটি ভিডিও বার্তায় মুফতি আমির হামজা বলেন, মরহুম আরাফাত রহমান কোকো সাহেবকে নিয়ে আমার দেওয়া অনাকাঙ্খিত বক্তৃতাটি ছিল ২০২৩ সালের। আমি সেই সময়ই একটি বিষয় বুঝাতে যেয়ে উদাহরণটা দিয়ে ভুল করায় দুঃখ প্রকাশ করেছিলাম। এখন আবারো দুঃখ প্রকাশ করছি।
এদিকে আমির হামজার ভেরিভাইড ফেসবুক পেজ থেকে ভিডিও বার্তা প্রকাশ করার পর ফেসবুক কমেন্টে নেতিবাচক মন্তব্য করতে দেখা গেছে।
কুষ্টিয়া-৩ (সদর) আসনে বিএনপি মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী ও কুষ্টিয়া জেলা বিএনপির সদস্য সচিব প্রকৌশলী জাকির হোসেন সরকার ঢাকা পোস্টকে বলেন, তিনি একবার না। বিভিন্ন সময় বিভিন্ন ধরনের মন্তব্য করেছেন। যা নিয়ে আমরা বিব্রত অবস্থায় থাকি।
আরএআর