মাদারীপুরে সড়ক দুর্ঘটনায় ৪ নারী সহ ৭ জন নিহত

ভোরের আলো ফোটার আগেই জীবিকার তাগিদে ৪ নারীসহ ৭ জন বেড়িয়ে পড়তেন কাজের খোঁজে। সারাদিন বিভিন্ন ক্ষেত-খামারে কাজ করে মজুরির টাকা নিয়ে একত্রে তারা হাসিখুশি মনে ফিরে যেতেন নিজ বাড়িতে। সেই টাকায় চলতো তাদের সংসার।
একইভাবে বুধবারও টাকা উপার্জন করে বাড়িতে ফিরে যাচ্ছেন ঠিকই। তবে হাসিখুশি মনে নয়, সবাইকে কাঁদিয়ে লাশ হয়ে ফিরতে হচ্ছে তাদের। একটি ঘাতক বাস কেড়ে নিল তাদের তাজা প্রাণ।
বুধবার (১৮ জানুয়ারি) বিকেল সাড়ে ৫ টার দিকে ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কের মাদারীপুর সদর উপজেলার মস্তফাপুরের ঘটকচর ও মিল গেইটের মাঝামাঝি স্থানে ঘটে যাওয়া এই দুর্ঘটনায় মোট ৭ জন নিহত হয়েছেন, আহত হয়েছেন অন্তত ১০ জন। আহতদের মধ্যে মাদারীপুর সদর উপজেলার কেন্দুয়া ইউনিয়নের ঘটকচর এলাকার শাহ আলমের ছেলে মো. রুমানকে (২৫) গুরুতর অবস্থায় ঢাকায় নেওয়া হয়েছে।
নিহতরা হলেন, মাদারীপুর শহরের কলেজ রোড এলাকার নেছার উদ্দিন মুন্সির ছেলে পান্নু মুন্সি (৫০)। তিনি সার্বিক পরিবহন বাসের সুপার ভাইজার ছিলেন। সদর উপজেলার কুনিয়া ইউনিয়নের দক্ষিণপাড়া এলাকার জসিম বেপারীর ছেলে সাগর বেপারী (২২)। তিনি ইজিবাইক চালক ছিলেন। এছাড়া নিহত দিনমজুররা হলেন, গোপালগঞ্জের কোটালিপাড়া উপজেলার ভাঙ্গারহাট পাইকেরপাড়া গ্রামের রনজিত বাড়ৈর স্ত্রী শেফালী বাড়ৈ (৪২), একই গ্রামের সাগর বালার মেয়ে কামনা বিশ্বাস (৪১), পলাশ বাড়ৈর ছেলে দুলাল বাড়ৈ (৪৫), প্রকাশ বাড়ৈর স্ত্রী আভা বাড়ৈ (৫০) ও জয়ন্ত বাড়ৈর স্ত্রী অনিতা বাড়ৈ (৪০)।
মাদারীপুরের মোস্তফাপুরের হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মামুন আল রশিদ জানান, মাদারীপুর থেকে সার্বিক পরিবহনের একটি যাত্রীবাহী বাস রাজধানী ঢাকার দিকে যাচ্ছিল। মাঝপথে সদর উপজেলার ঘটকচর এলাকায় আসলে সামনে থাকা একটি ইজিবাইককে চাপা দেয়। ঘটনাস্থলে ইজিবাইকের তিন যাত্রীসহ ৬ জনের মৃত্যু হয়। আহত হন বেশ কয়েকজন। খবর পেয়ে উদ্ধার অভিযান শুরু করে সেনাবাহিনী, ফায়ার সার্ভিস ও হাইওয়ে পুলিশ। পরে আহতদের উদ্ধার করে মাদারীপুর ২৫০ শয্যা জেলা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরও একজন মারা যায়। দুর্ঘটনার পর বন্ধ হয়ে যায় ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কে যান চলাচল।
মাদারীপুর ফায়ার সার্ভিসের উপসহকারী পরিচালক মোঃ শফিকুল ইসলাম জানান, নিহতদের লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মাদারীপুর ২৫০ শয্যা জেলা হাসপাতালে পাঠানো হয়। রেকার দিয়ে বাসটি পাড়ে তোলা হয়েছে। পরে পানির মধ্যে থাকা ইজিবাইকটি উদ্ধার করে ফায়ার সার্ভিস এর ডুবুরি দল।
উল্লেখ্য, মাদারীপুর থেকে ঢাকাগামী সার্বিক পরিবহনের বেপরোয়া গতির একটি যাত্রীবাহী বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে অপরদিক থেকে আসা একটি ইজিবাইককে চাপা দেয়। এসময় ইজিবাইকটিসহ ওই বাসটি মহাসড়কের পাশের ডোবার মধ্যে পড়ে যায়। এতে ঘটনাস্থলেই ৩ জন নিহত হয়। পরে একে একে আরও ৩ জনের মরদেহ উদ্ধার করে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা। একই সঙ্গে আহত হয় আরও অন্তত ১০ জন। আহতদের উদ্ধার করে মাদারীপুর ২৫০ শয্যা জেলা হাসপাতালে পাঠালে সেখানে আরও একজনের মৃত্যু হয়। এছাড়া এক ইজিবাইক যাত্রীকে গুরুতর অবস্থায় উন্নত চিকিৎসার জনক্স ঢাকায় নিয়ে ভর্তি করা হয়েছে। এ ঘটনায় ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কে যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে গেলে প্রায় ১০ কিলোমিটারে পর্যন্ত যানজটের সৃষ্টি হয়। দুর্ভোগে পড়ে সাধারণ যাত্রী ও চালকরা। পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস ও সেনাবাহিনীর যৌথ প্রচেষ্টায় ৪ ঘন্টা পর যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।
আকাশ আহম্মেদ সোহেল/এসএমডব্লিউ