সিলেট থেকেই ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের প্রচার শুরু হবে বিএনপির

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে মাঠ পর্যায়ে প্রচার ও ভোটার উদ্বুদ্ধকরণ শুরু করতে যাচ্ছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। বরাবরের মতো এবারও ‘৩৬০ আউলিয়ার পুণ্যভূমি’ সিলেট থেকেই নির্বাচনী কার্যক্রমের সূচনা করবে দলটি। বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বে এই প্রচারাভিযান শুরু হবে।
বুধবার (২১ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় বিমানযোগে সিলেটে পৌঁছাবেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। আগামীকাল বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) সকালে তিনি সিলেটের দুই ওলি হযরত শাহজালাল (রহ.) ও হযরত শাহপরাণ (রহ.)-এর মাজার জিয়ারত করবেন। এরপর সিলেট সরকারি আলিয়া মাদরাসা মাঠে অনুষ্ঠিতব্য বিশাল জনসভায় তিনি যোগ দেবেন।
সিলেট বিএনপি সূত্রে জানা যায়,জনসভায় তারেক রহমান সিলেটের ৬টি এবং সুনামগঞ্জের ৫টি সংসদীয় আসনের বিএনপি মনোনীত প্রার্থীদের হাতে দলীয় প্রতীক ধানের শীষ তুলে দেবেন। একই সঙ্গে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রচারাভিযান ঘোষণা করবেন।
দলের চেয়ারম্যানের সিলেট আগমনকে কেন্দ্র করে নগরজুড়ে উৎসবমুখর পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে। সিলেট মহানগরীসহ আশপাশের এলাকায় ব্যানার, ফেস্টুন ও বিলবোর্ডে ছেয়ে গেছে। দলের প্রথম নির্বাচনী জনসভায় প্রায় ৩ লাখ বা তারও বেশি নেতাকর্মী ও সমর্থকের সমাগম ঘটবে বলে আশা করা হচ্ছে।
তারেক রহমানের আগমনকে কেন্দ্র করে দলের নেতাকর্মীদের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের মধ্যেও উচ্ছ্বাস লক্ষ্য করা যাচ্ছে। সিলেটের জামাতা হিসেবে পরিচিত তারেক রহমানকে বরণ করে নিতে সিলেটবাসী অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছে বলে জানিয়েছেন দলীয় নেতাকর্মীরা।
এ ব্যাপারে বিএনপির কেন্দ্রীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক মিফতাহ সিদ্দিকী বলেন, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ও দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া সবসময় সিলেট থেকেই নির্বাচনী কার্যক্রম শুরু করতেন। এবারও তারেক রহমান সেই ঐতিহ্য বজায় রেখে সিলেট থেকেই প্রচার শুরু করছেন।
তিনি আরও জানান, নির্ধারিত কর্মসূচি শেষে বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) বিকেলে সিলেটের জনসভা শেষ করে সড়কপথে ঢাকার উদ্দেশে রওনা দেবেন তারেক রহমান। পথে মৌলভীবাজারের শেরপুর ও হবিগঞ্জের শায়েস্তাগঞ্জে দুটি পথসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য দেওয়ার কথা রয়েছে।
জনসভাকে ঘিরে ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশ (এসএমপি)। সভাস্থল ও আশপাশের এলাকায় থাকবে বহুস্তর নিরাপত্তা ব্যবস্থা। প্রবেশপথে চেকপোস্ট স্থাপন, মেটাল ডিটেক্টরের মাধ্যমে তল্লাশি, সিসিটিভি ক্যামেরায় সার্বক্ষণিক নজরদারি, সাদা পোশাকে গোয়েন্দা পুলিশের উপস্থিতি এবং দ্রুত প্রতিক্রিয়া দল মোতায়েন করা হবে। পাশাপাশি মহানগরীতে যান চলাচল স্বাভাবিক রাখতে বিশেষ ট্রাফিক ব্যবস্থাও নেওয়া হয়েছে।
সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের উপকমিশনার (মিডিয়া) সাইফুল ইসলাম বলেন, জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজন অনুযায়ী সর্বোচ্চ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। শান্তিপূর্ণভাবে কর্মসূচি সম্পন্ন করাই আমাদের প্রধান লক্ষ্য।
উল্লেখ্য, সর্বশেষ ২০০৪ সালে সিলেটে এসেছিলেন তারেক রহমান। তখন তিনি বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। সিলেট জেলা স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ইউনিয়ন পর্যায়ের প্রতিনিধি সম্মেলনে যোগ দিতে সে সময় সিলেটে আসেন তিনি। দীর্ঘ ২২ বছর পর তার এই আগমনকে ঘিরে নেতাকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ ও উদ্দীপনা বিরাজ করছে।
মাসুদ আহমদ রনি/আরকে