এবার ‘হরিণ’ প্রতীকে লড়বেন সেই রানী

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রংপুর-৩ (সদর ও সিটি কর্পোরেশন) আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে ‘হরিণ’ প্রতীক পেয়েছেন তৃতীয় লিঙ্গের আনোয়ারা ইসলাম রানী। বুধবার (২১ জানুয়ারি) দুপুরে জেলা প্রশাসকের মিলনায়তনে রংপুর জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা মোহাম্মদ এনামুল আহসানের কাছ থেকে তিনি এই প্রতীক গ্রহণ করেন।
আনোয়ারা ইসলাম রানী রংপুরের ন্যায় অধিকার ট্রান্সজেন্ডার উন্নয়ন সংস্থার সভাপতি। দীর্ঘদিন ধরে তিনি এই জনগোষ্ঠীর অধিকার ও উন্নয়নে কাজ করে আসছেন। পাশাপাশি বিভিন্ন সময়ে সংগঠনের পক্ষ থেকে সামাজিক কর্মকাণ্ডে অংশ নিয়ে প্রশংসিত হয়েছেন।
এই আসনে তার অন্য প্রতিদ্বন্দ্বীরা হলেন জাতীয় পার্টির গোলাম মোহাম্মদ কাদের (লাঙ্গল), বিএনপির শামসুজ্জামান সামু (ধানের শীষ), জামায়াতে ইসলামীর অধ্যাপক মাহবুবার রহমান বেলাল (দাঁড়িপাল্লা), ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমিরুজ্জামান পিয়াল (হাতপাখা) এবং বাসদের আব্দুল কুদ্দুস (মই)।
প্রতীক পাওয়ার পর অনুভূতি ব্যক্ত করে আনোয়ারা ইসলাম রানী সাংবাদিকদের বলেন, কোনো ক্ষমতার জোরে বা কোনো দলের ছায়ায় নয়, শুধু মানুষের ভালোবাসা, বিশ্বাস ও ন্যায়ের শক্তিকে সঙ্গী করেই আমি জনগণের প্রতিনিধিত্ব করতে এসেছি। আমি সুবিধাভোগী হতে আসিনি, মানুষের হয়ে কথা বলার জন্যই এসেছি। অবহেলিত মানুষের কণ্ঠস্বর হওয়ার লক্ষ্যেই আমার এই নির্বাচনে অংশগ্রহণ।
তিনি আরও বলেন, আমার কোনো পিছুটান নেই, কোনো সংসার নেই। তাই আমার পুরো সময়, শক্তি ও দায়বদ্ধতা আমি রংপুর-৩ আসনের মানুষের অধিকার ও মর্যাদা প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে উৎসর্গ করতে চাই। সকল প্রান্তিক ও পিছিয়ে রাখা জনগোষ্ঠীকে প্রান্তিকতা থেকে মুক্ত করার এই সংগ্রাম শুধু আমার ব্যক্তিগত নয়; এটি একটি মানবিক দায়িত্ব ও ন্যায়ের আন্দোলন।
রানী বলেন, স্বাধীনতার ৫৪ বছর ধরে পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠী নানাভাবে বঞ্চিত। এই নিরীহ জনগোষ্ঠীর প্রতীক হলো হরিণ। আমি পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর কণ্ঠস্বর হিসেবে সংসদে গিয়ে তাদের অধিকার ও মর্যাদা নিয়ে কথা বলতে চাই। তবে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে কিছুটা সংশয় রয়েছে।
উল্লেখ্য, আনোয়ারা ইসলাম রানী এর আগে দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও রংপুর বিভাগে প্রথমবারের মতো তৃতীয় লিঙ্গের প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন। সে নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে ঈগল প্রতীক নিয়ে তিনি জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জিএম কাদেরের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে ২৩ হাজার ৩৩৯ ভোট পেয়েছিলেন।
রংপুর সিটি কর্পোরেশনের ৯ থেকে ৩৩ নম্বর ওয়ার্ড এবং সদর উপজেলার পাঁচটি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত রংপুর-৩ আসন।
ফরহাদুজ্জামান ফারুক/আরএআর