সবকিছু স্পষ্ট, সাক্ষীও পাওয়া যাচ্ছে, নির্বাচনে ভোটের অধিকার লঙ্ঘিত হয়েছে

জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দেশের মানুষের ভোটের অধিকার লঙ্ঘিত হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান।
তিনি বলেন, ভোটের অধিকার লঙ্ঘনের সবকিছু এখন দিবালোকের মতো স্পষ্ট এবং এর সাক্ষীও পাওয়া যাচ্ছে। এই অন্যায়ের বিচার এখন জনতার আদালতে এবং সেই বিচারের রায় জনগণের পক্ষেই আসবে।

আজ সোমবার (৯ মার্চ) বিকেলে রাজধানীর সিদ্ধেশ্বরীর একটি হোটেলে জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি (জাগপা) আয়োজিত এক ইফতার মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
শফিকুর রহমান বলেন, ‘নির্বাচনের আগে আমরা বড় গলায় বলেছি, আমরা কোনো দলের বিজয় চাই না, আমরা চাই ১৮ কোটি মানুষের বিজয়। কিন্তু সেই বিজয় অর্জিত হয়নি।’ তিনি আরও যোগ করেন, ‘আমরা সংসদে কত আসন নিয়ে বিরোধী দল হয়েছি বা আমাদেরকে বিরোধী দল কায়দা করে বানানো হয়েছে, এটি আমাদের কাছে খুব বড় বিবেচ্য বিষয় নয়। বরং শেষ পর্যন্ত যা নিয়ে আমরা এগোচ্ছি, আমরা কথা দেব, প্রিয় বাংলাদেশের জনগণের সঙ্গে আমরা বেইমানি করব না। সস্তা কোনো সুযোগ-সুবিধা আমাদেরকে টলাতে পারবে না। জনগণের সুবিধা ও অধিকার নিশ্চিত করাই হবে আমাদের অঙ্গীকার।’

২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানের স্মৃতিচারণা করে জামায়াত আমির বলেন, টানা ৫৪ বছরের যন্ত্রণা সহ্য করার পর যুবসমাজের নেতৃত্বে যে পরিবর্তন এসেছে, সেই যুবসমাজকে জামায়াত চিরতরে বুকে ধারণ করে রাখবে। তাদের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নই হবে জামায়াতের কাজ। তিনি উল্লেখ করেন, যুবসমাজ সব ক্ষেত্রে সুবিচার চায়; তারা স্বজনপ্রীতি, দলপ্রীতি, গোষ্ঠিপ্রীতি কিংবা ব্যক্তিপ্রীতি দেখতে চায় না—জামায়াতও ঠিক তা-ই চায়।
সমসাময়িক রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট নিয়ে আক্ষেপ প্রকাশ করে তিনি বলেন, ‘আফসোস, আমরা যারা একসঙ্গে সকলেই মজলুম ছিলাম, আজকে তাদের কাউকে কাউকে দেখি সম্পূর্ণ ভিন্ন ভূমিকায় কাজ করছে। শিক্ষা কি আদৌ হবে না? তাহলে কি ইতিহাসের সেই সব কথাই বাস্তবায়ন হতে যাচ্ছে যে, ইতিহাস থেকে কেউ শিক্ষা নেয় না। কিন্তু ইতিহাস কাউকে ছেড়ে কথা বলে না। হিস্ট্রি রিপিটস ইটসেলফ। ইতিহাস বারবার ফিরে আসে, ঘুরে আসে।’
শফিকুর রহমান স্পষ্ট করেন যে, সরকারি দলে যারা আছেন, তারা জামায়াতের শত্রু নন। জামায়াত বিশ্বাস করে, রাজনীতি কোনো দল বা গোষ্ঠীর জন্য নয়, বরং মানুষের জন্য হওয়া উচিত। তিনি সতর্ক করে বলেন, রাজনীতি থেকে ‘প্রতিহিংসার বিষ’ এবং ‘দুর্নীতির ক্যানসার’ দূর করতে না পারলে গত ৫৫ বছরে জাতির ভাগ্যে যা ঘটেছে, সামনে তার চেয়েও খারাপ কিছু ঘটতে পারে।

ভবিষ্যৎ কর্মপন্থা সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘আমরা একটি স্থায়ী সমাধান চাই। এই স্থায়ী সমাধানের লক্ষ্যে ফ্যাসিবাদ, দুর্নীতিবাদ ও চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে আমাদের লড়াই অব্যাহত থাকবে ইনশাআল্লাহ। সংসদের ভেতরে জনগণের অধিকারের পক্ষে কথা বলব। যদি সেই দাবি মেনে নেওয়া হয়, সাধুবাদ জানাব। জনগণের অধিকার বাস্তবায়নে সরকার কোনো উদ্যোগ নিলে শুধু সমর্থন নয়, সহযোগিতাও করব। আবার জনগণের কোনো অধিকারকে নতুন করে হত্যা করতে গেলে তীব্র প্রতিবাদ জানাব। প্রতিবাদে কাজ না হলে প্রতিরোধ গড়ে তুলব। আমরা ভাগব না, ইনশাআল্লাহ।’
বিশ্বপরিস্থিতি নিয়ে তিনি বলেন, আজ বিশ্বের যেসব প্রান্তে অস্থিরতা ও যুদ্ধ চলছে, তাতে কার্যত ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে মুসলিম বিশ্ব। জামায়াত সব সময় নিপীড়িত মানবতার পাশে থাকবে এবং জুলুমের বিপক্ষে দাঁড়াবে।
জাগপার মুখপাত্র রাশেদ প্রধানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই ইফতার মাহফিলে আরও বক্তব্য দেন লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) সভাপতি কর্নেল (অব.) অলি আহমদ। এছাড়া বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের শীর্ষস্থানীয় নেতৃবৃন্দ সভায় উপস্থিত ছিলেন।
জেইউ/বিআরইউ