নির্বাচনে সমান সুযোগ নিশ্চিত করা হচ্ছে না : গোলাম পরওয়ার

জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল ও খুলনা-৫ আসনের প্রার্থী মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেছেন, এখন পর্যন্ত নির্বাচনে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড প্রতিপালিত হচ্ছে না। কোনো কোনো প্রার্থী আচরণবিধি মেনে গণসংযোগে গেলে তা নিয়ে অন্য প্রার্থীদের অভিযোগের পর সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ থেকে সতর্ক করা হচ্ছে। অথচ অন্যদিকে কিছু প্রার্থী শত শত মানুষের সমাগম ঘটিয়ে বাতি জ্বালিয়ে মিটিং করছেন, বিরিয়ানি খাওয়াচ্ছেন, নিজ প্রতীকের পক্ষে প্রচারণা চালাচ্ছেন- এসব বিষয়ে কোনো মনিটরিং, শোকজ কিংবা তত্ত্বাবধান নেই। এর অর্থ হলো নির্বাচনে সমান সুযোগ নিশ্চিত করা হচ্ছে না।
বুধবার (২১ জানুয়ারি) দুপুরে জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ে প্রতীক বরাদ্দের কার্যক্রম শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।
মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, কালো টাকা ব্যবহার হচ্ছে। গণমাধ্যমের মাধ্যমে আমরা দেশবাসী ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানাতে চাই, আমাদের প্রতি যেন কোনো অবিচার করা না হয়। আজ থেকে নির্বাচন পর্যন্ত আমরা সুবিচার চাই।
নির্বাচনী আচরণবিধি প্রয়োগে সমতার অভাবের অভিযোগ করে মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, চোখের চোখটা সমান হওয়া দরকার। আমরা দেখছি, কিছু প্রার্থী প্রকাশ্যে সমাবেশ করছেন, প্রতীক প্রদর্শন করছেন এবং নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি দিয়ে তা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচার করছেন। অথচ এসব ঘটনায় কোনো শোকজ বা নিষেধাজ্ঞার খবর নেই।
সুষ্ঠু নির্বাচন নিয়ে এখনো আশঙ্কা রয়েছে উল্লেখ করে জামায়াত সেক্রেটারি বলেন, বিভিন্ন সূত্র থেকে আমরা জানতে পারছি, সৎ ও দুর্নীতিমুক্ত মানুষ নির্বাচিত হলে যাদের স্বার্থ ক্ষতিগ্রস্ত হবে, তারা ভোটে প্রভাব ফেলতে কেন্দ্র দখল, হামলা কিংবা ভোটারদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করতে পারে। বিষয়টি আমাদের জন্য উদ্বেগজনক। এ কারণে এখন থেকেই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি।
খুলনা জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তা আ স ম জামশেদ খোন্দকার বলেন, বিস্তীর্ণ এলাকায় বহু রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীকে মনিটর করা চ্যালেঞ্জিং হলেও নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনা অনুযায়ী নিরপেক্ষভাবে দায়িত্ব পালন করা হচ্ছে। কোনো পক্ষপাতিত্বের সুযোগ নেই। অসংখ্য গণমাধ্যম ও পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থার কারণে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা সম্ভব হচ্ছে। ভবিষ্যতেও নির্বাচন কমিশনের নীতিমালা অনুযায়ী দায়িত্ব পালনের আশ্বাস দেন তিনি।
মোহাম্মদ মিলন/আরএআর